ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ৯ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

প্রধানমন্ত্রীর সাহসী সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ১১:০০ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর সাহসী সিদ্ধান্ত

জাতীয় নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকার কথা কারও অজানা নয়। পুলিশের ওপর যে দলের প্রভাব থাকে সেই দল নির্বাচনে বাড়তি সুবিধা পায় তা রাজনীতি সচেতন সবারই জানা। সম্প্রতি এই পুলিশের সর্বোচ্চ পদ পুলিশের মহাপরিদর্শকে (আইজিপি) রদবদল হলো। আওয়ামী লীগের মতাদর্শী, নিবেদিত, পরীক্ষিতদের এড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখানে নিয়োগ দিলেন দলমতের উর্ধ্বে পুলিশ কর্মকর্তা জাবেদ পাটোয়ারীকে। আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের মনে প্রশ্ন নির্বাচনের এই বছরে এমন সুযোগেও কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন প্রধানমন্ত্রী?

পুলিশের আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য যোগ্য হিসেবে ছিলেন আওয়ামী লীগ মনা বেশ কয়েকজন উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা। আইজিপি হওয়ার দৌড়ে ছিলেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মো. মোখলেসুর রহমান, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনজনই প্রত্যেকেরই অতীত রেকর্ড ছিল আওয়ামী লীগের জন্য আশাজাগানিয়া। এই তিনজনের বাইরে ছিলেন পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের আতিরিক্ত আইজি গ্রেড-১ পদে থাকা কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটওয়ারী। তিনি জ্যেষ্ঠতার বিচারে আইজিপি পদের দাবিদার ছিলেন।

তবে পুলিশের সর্বোচ্চ পদ আইজিপিতে নিয়োগ জ্যেষ্ঠতার ক্রম অনুযায়ী খুব কমই হয়েছে। বিএনপি আমলে ১২ জনকে ডিঙ্গিয়ে আইজিপি করারও রেকর্ড আছে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী যখন জাবেদ পাটোয়ারীকে আইজিপি করার বিষয়ে মনোভাব পোষণ করেন তখন পুলিশের আওয়ামী লীগ মনা একাধিক কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীকে দলীয় কাউকে বেছে নেওয়ার অনুরোধ করেন। বাববার এমন অনুরোধ সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী তাঁর সিদ্ধান্তে অটল থেকে জাবেদ পাটোয়ারীকে আইজিপি করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাবেদ পাটেয়ারীকে আইজিপি করার ক্ষেত্রে দলীয় স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের পুলিশকে চৌকিশ ও যোগ্য নেতৃত্ব দিতে জাবেদ পাটোয়ারীকেই উপযুক্ত মনে করেছেন তিনি। আর তাঁকে নিয়োগ দেওয়ায় পদক্রমের জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতাও রক্ষা হয়েছে, যে কারণে চেইন অব কমান্ডও অক্ষুন্ন থাকল। এছাড়া জাবেদ পাটোয়ারী সৎ, মেধাবী হিসেবে সুপরিচিত। যে কারণে দুর্নীতি অনিময় ও বিভিন্ন ঘটনায় বিতর্কিত হওয়া পুলিশ বাহিনীর সুনাম তিনি ফিরিয়ে আনতে পারবেন বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। আর সৎ ও মেধাবী হিসেবে পরীক্ষিত জাবেদ পাটোয়ারী কারও অন্যায় আবদার না মেনে নিরপেক্ষভাবে জনগণের সেবায় পুলিশকে চালিত করতে পারবেন আশা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাবেদ পাটোয়ারীকে নিয়োগ দেওয়ায় হয়তো দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হলো তবে এর মাধ্যমেই আরেকবার প্রমাণ হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জন্য দলমতের উর্ধ্বে। দলীয় স্বার্থের চেয়েও তিনি দেশের স্বার্থকে অনেক বড় করে দেখেন। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন দেশপ্রেম ও মহানুভবতার প্রকাশ এই প্রথম নয়।

বিএনপি আমলে যেখানে ৭ জনকে ডিঙ্গিয়ে সেনাপ্রধান করা হয়েছে, ৫ জনকে ডিঙ্গিয়ে বিচারপতি করা হয়েছে আর ১২ জনকে ডিঙ্গিয়ে পুলিশ প্রধান করা হয়েছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বরাবরই জ্যেষ্ঠতার ক্রম মানার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী দেশ, জনগণের জন্য কোনটি ভালো সেটি যেমন চিন্তা করেন, তেমনি যোগ্যতা ও মেধাকেও গুরুত্ব দেন। প্রধানমন্ত্রী বারবার নিজের এই প্রচেষ্টার পরিচয় দিয়েছেন।

এর আগে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ক্ষেত্রেও মেধা ও যোগ্যতাকে প্রধান্য দেওয়া হয়েছিল। সিনহার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে অনেকের আশঙ্কা প্রকাশের পরও তাঁকে প্রধান বিচারপতি করা হয়। এই সিনহাই পরে প্রধানমন্ত্রীকে ষোড়শ সংশোধনীর পর প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছিলেন। সরকারকে বাববার বিতর্কে ফেলার চেষ্টা করেছেন।

ওই ঘটনার পরও প্রধানমন্ত্রী পদোন্নতির বিষয়ে যোগ্যতা ও দেশের স্বার্থের বিষয়ে অটল। সুশাশনের জন্য, দলবাজি বন্ধের জন্য, রাজনীতিকরণের দূর করতে প্রধানমন্ত্রী বরবারই প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় শীর্ষ পদগুলোতে যোগ্যতা ও দেশের স্বার্থকেই বড় করে দেখেন। এক্ষেত্রে তিনি সাহসী পদক্ষেপ নিতে পিছপা হননা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূখ্য সচিব পদে নজিবুর রহমানের নিয়োগও এমন মনোভাবের আরেক উদাহরণ।

প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় বিশ্বাস যোগ্যতার বিচারে পদোন্নতি হলে তবেই চেইন অব কমান্ড বজায় থাকবে এবং দেশের উন্নয়নের গতিও পথ হারাবে না। আর দল, মত, ব্যক্তি, দলীয় স্বার্থের উর্ধ্বে গিয়ে দেশের উন্নয়ন গতিশীল করাই তো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বর্হিপ্রকাশ।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ