ঢাকা, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘এই মামলায় সরকার শুধুই দর্শক’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০১৮ শনিবার, ০৮:০০ পিএম
‘এই মামলায় সরকার শুধুই দর্শক’

বেগম খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে আগাম কোনো মন্তব্য করতে বারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ‘রায় বিষয়ে অতি উৎসাহী বক্তব্য’ না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এ খবর পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনে করছেন, বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি ড. ফখরুদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দায়ের করা করা। এই মামলা নিয়ে সরকার বা আওয়ামী লীগের করণীয় কিছুই নেই। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, এই মামলায় সরকারের কিছুই করণীয় ছিল না। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী দলের সাধারণ সম্পাদককে বলেছেন, ‘বিচার বিভাগ স্বাধীন, দুর্নীতি দমন কমিশনও স্বাধীন। এই মামলায় সরকার শুধু দর্শক। তাই কি রায় হবে না হবে এনিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ যেন কোনো বক্তব্য না দেয়।‘

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, জিয়া অরফানেজ মামলার রায়ের তারিখ জানার পরই তিনি দলের সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে কথা বলেন। শেখ হাসিনা তাঁদের বলেছেন, ‘দুর্নীতির মামলাকে একটি রাজনৈতিক বিষয়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা করবে বিএনপি। এই রায়কে ইস্যু করে বিএনপি নির্বাচন বানচালেরও চেষ্টা করবে। এজন্য সরকার এবং আওয়ামী লীগকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।’ শেখ হাসিনা তাঁর নেতৃবৃন্দকে বলেছেন, ‘যারা এতিমের টাকা চুরি করে, তাদের পক্ষে সবকিছুই সম্ভব। এজন্য সতর্ক থাকতে হবে।’

আওয়ামী লীগের সিনিয়র একজন নেতা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। এটা আইনের শাসনের জন্য একটা মাইলফলক।’ তিনি বলেছেন, ‘রায়ের ফল যাই হোক না কেন, এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। আওয়ামী লীগের আরেকজন সিনিয়র নেতা বলেছেন, ‘রাজনীতিবিদ হিসেবে এই মামলায় আমি লজ্জিত। কারণ রাজনীতিবিদরা হবেন গরীব মানুষের বন্ধু, তাদের সাহায্যকারী কিন্তু বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো তিনি এতিমের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ওই সিনিয়র নেতা মনে করেন, ‘বেগম জিয়া কেবল নিজে নয় রাজনীতিবিদদেরও বিব্রত অবস্থায় ফেলেছেন। তিনি শুধু নিজে কাঠগড়ায় দাঁড়াননি, রাজনীতি করা সব মানুষকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন।’

ওই নেতা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী এই মামলা নিয়ে বিএনপির প্রতিক্রিয়া দেখে হতবাক হয়েছেন। এ রকম অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বেগম জিয়ার দল থেকে পদত্যাগ করা উচিত ছিল। সেটাই শোভন হতো। উল্টো তিনি এবং তাঁর দলের নেতারা আইনগত ইস্যুকে অন্য খাতে নিয়ে যাবার চেষ্টা করছেন। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, বিএনপির প্রতিক্রিয়া সৎ রাজনীতির জন্য এক বড় হুমকি।

Read in English-http://bit.ly/2rLXHrw

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ