ঢাকা, রোববার, ২০ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শাইখ সিরাজের একুশে পদক জালিয়াতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ রবিবার, ১২:৩৬ পিএম
শাইখ সিরাজের একুশে পদক জালিয়াতি

১৯৯৫ সালে একুশে পদক পেয়েছিলেন শাইখ সিরাজ। কিন্তু তার একুশে পদক প্রাপ্তি এবং ক্যাটাগরি নিয়ে ভয়াবহ জালিয়াতি ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ফাইলে দেখা যায় ১৯৯৫ সালে শাইখ সিরাজকে একুশে পদক দেয়া হয়েছিল কৃষি উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য বেগম খালেদা জিয়া শাইখ সিরাজের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কার প্রাপ্তির ঘোষণায় বলা হয়েছিল ‘মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কৃষি ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য শাইখ সিরাজকে একুশে পদক দেয়া হলো।’ ঐ বছর সাংবাদিকতায় ২১ শে পদক পান নিজাম উদ্দিন আহমেদ। পুরস্কার প্রাপ্তির পর ঐ বছর ডিসেম্বর মাসে ‘কৃষি উন্নয়ন’ কেটে সাংবাদিকতা করা হয়।

সংস্কৃতি সচিবের এক নোটের প্রেক্ষিতে এই পরিবর্তন আনা হয়। তৎকালীন সংস্কৃতি সচিব নোটে বলেন ‘যেহেতু কৃষি উন্নয়ন কোন ক্যাটাগরি নেই, কাজেই কৃষি উন্নয়নের বদলে এটাকে ‘সাংবাদিকতা’য় পরিবর্তনের ব্যবস্থা নেয়া হোক। ২৭ ডিসেম্বর ১৯৯৫ তারিখ (স্বারক নং সং/একুশে/৮৮০৩) এক সংশোধনীর মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনা হয়। একুশে পদক সংক্রান্ত সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী এধরনের পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই। প্রাপ্তের এক ক্যাটাগরি থেকে অন্য ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরের কোন সুযোগ নেই।

শুধু তাই নয়, শাইখ সিরাজ একুশে পদক পেয়েছিলেন অদ্ভুত ভাবে। ১৯৯৪ সালের নভেম্বর এর ডিসেম্বর মাসে মাটি ও মানুষের চারটি পর্ব প্রচারিত হয় জিয়াউর রহমানের খাল কাটা বিপ্লব নিয়ে। উপস্থাপক শাইখ সিরাজ খালকাটার ফলে কৃষিতে যে বিপ্লব হয়েছে, তার আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন। শাইখ সিরাজ প্রথম পর্বে বলেন ‘জিয়াউর রহমান হলেন বাংলাদেশ কৃষি বিপ্লবের জনক।’

বাংলাদেশ টেলিভিশনের পক্ষ থেকে এই চারটি পর্বই জমা দেয়া হয়, মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ১৯৯৪ এর ১৯ ডিসেম্বর একটি সুপারিশ পত্রে একরম অনবদ্য অনুষ্ঠানের জন্য মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানকে পুরস্কার করার সুপারিশ করে। কিন্তু তথ্য মন্ত্রণালয় টেলিভিশনের ঐ নোট পাল্টে শুধু শাইখ সিরাজের নাম যুক্ত হয়। মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান ১৯৯৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে লেখা এক ব্যক্তিগত নোটে ‘শাইখ সিরাজকে একুশে পদক দেয়ার প্রস্তাব করেন। ঐ নোটে নোমান শাইখ সিরাজকে ‘বিএনপির চিন্তার অনুসারী’ বলেও মন্ত্রব্য করেন।’

১৯৯৫র ৩ জানুয়ারি ২১ শে পদক কমিটির প্রথম সভায় শাইখ সিরাজের নাম কোন তালিকাতেই ছিলো না। পরবর্তীতে আবদুল্লাহ আল নোমান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং এর সুপারিশ শাইখ সিরাজ ২১ শে পদক পেয়েছিলেন।

রাজনৈতিক প্রভাব কাটিয়ে জিয়া অনুসারী হিসেবে ২১ পদক পাওয়া শাইখ সিরাজ এখন বঙ্গবন্ধু সৈনিক হিসেবে স্বাধীনতা পুরুস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। সত্যি সেলুকাস কি বিচিত্র এই দেশ।


বাংলা ইনসাইডার/

বিষয়: শাইখ-সিরাজ