ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বাংলাদেশের জন্য সুসংবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ শুক্রবার, ০৮:০০ এএম
বাংলাদেশের জন্য সুসংবাদ

স্বল্পোন্নত দেশের তকমা আর নয়। এমন দেশের তালিকায় থেকে শিগগিরই বেরিয়ে আসছে বাংলাদেশ। সবগুলো শর্ত পূরণ করে জাতিসংঘের কাছ থেকে এখন শুধু ঘোষণা পাওয়ার অপেক্ষা। আগামী মার্চেই আসতে পারে সেই শুভ বার্তা।

জাতিসংঘের পরামর্শক সংস্থা ইকোসকের ‘কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট’ বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের জন্য সুপারিশ করেছে। স্বল্পোন্নত দেশের গন্ডি উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের যে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হয়, তাতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য মাইলফলক। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরনের জন্যে জাতিসংঘের শর্তগুলো হলো: মাথাপিছু গড় আয়, মানবিক সম্পদ সূচক, অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচক।

মাথাপিছু গড় আয় স্বল্পন্নোত দেশ থেকে বের হওয়ার একটি অন্যতম সূচক। বিশ্বব্যাংকের এটলাস পদ্ধতির আলোকে নির্ধারিত মাথাপিছু গড় আয়ের এক হাজার ২৪২ ডলার বাংলাদেশ অতিক্রম করেছে। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু গড় আয় ছিল মাত্র ১২৯ মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরে মাথাপিছু আয় বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৬১০ ডলার। এ হিসাবে গত ৪৪ বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু গড় আয় বেড়েছে প্রায় ১১ গুণ।

মানব উন্নয়ন সূচকে স্বল্পোন্নত থেকে বেরুবার জন্য অন্তত ৬৬ পয়েন্ট প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের, যা ইতিমধ্যেই অর্জিত হয়েছে। ১৯৭১সালে আমাদের দেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪৭ বছর তা আজ প্রায় ৭২ বছর। ১৯৭১ সালের দিকে ৫ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর হার ছিল প্রতি হাজারে ২২২ দশমিক ৭ জন। এখন তা প্রতি হাজারে ৩৪ দশমিক ২ জন। সাক্ষরতার হার গত নয় বছরে ৪৪ শতাংশ হার বৃদ্ধি পেয়ে ৭২ দশমিক ৩০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচকেও বাংলাদেশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি অর্জন করেছে। এই সূচকে নূন্যতম ৩২ বা তার কম স্কোর থাকতে হয়। বাংলাদেশের বর্তমান স্কোর ২৪ দশমিক ৯। দারিদ্রতা দূরীকরণে বাংলাদেশের সফলতা সারা বিশ্বকে বিস্মিত করেছে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি আয় ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে।

এই তিনটি শর্ত পূরণ করায় জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিয়েছে যে বাংলাদেশ আর নিন্ম আয়ের দেশ নয়। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (ইউএনসিডিপি) মার্চে তাদের পরবর্তী বৈঠক বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হওয়ার জন্যে সুপারিশ করবে।

একটা সময় বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে পরিচিত ছিল ক্ষুধা ও দারিদ্রের প্রতীক হিসেবে। বন্যা আর দূর্যোগের দেশ হিসেবে ছিল দুর্নাম। সেই অবস্থা থেকে বাংলাদেশের আজকের অবস্থান কোনো রূপকথা নয়।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ কে নিয়ে আশাবাদী মানুষ সারা বিশ্বে খুব কম ছিল। বাংলাদেশকে নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্যের অভাব ছিল না। সেই বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা দেখে অনেক দেশ আমাদের তাদের রোল মডেল ভাবতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই।

বাংলাদেশ শুধুই জাতিসংঘের দেওয়া শর্তই পূরণ করে নাই, অনান্য ক্ষেত্রেও অর্জন করেছে ইর্ষনীয় সাফল্য অর্জন করেছে ।

খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ অসামান্য সফলতা অর্জন করেছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ৩ দশমিক ৯৭ কোটি মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদন করেছে। ২০০৬-০৭ সালে বার্ষিক খাদ্য উৎপাদন ছিল ২ দশমিক ৮৪ কোটি মেট্রিক টন।

২০১৮ সালে জানুয়ারির প্রথম দিনেই ৩৪ কোটি পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।

পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বর্তমানে পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে।

‘সবার জন্য বিদ্যুৎ’ প্রধানমন্ত্রীর এই ভিশনের আলোকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০০৮ সালের তিন হাজার ২৬৪ মেগাওয়াট থেকে বর্তমানে ১৬ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অর্জন ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত।

তথ্য প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ একটি বিপ্লবের স্বাক্ষী। মোবাইল টেলিফোন সিমের সংখ্যা ২০১৭ সালে ১৩ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ৭ কোটির উপরে।

বাংলাদেশের এই স্বপ্ন পূরণের গল্প পৃথিবীর দারিদ্রপীড়িত রাষ্ট্র গুলোর জন্য আজ অনুপ্রেরণায় উৎস। বাংলাদেশেকে এখন কেউ ক্ষুধা, বন্যার দেশ বলবে না। করুণা আর অবজ্ঞায় তাকাবে না।

বাংলাদেশের নাগরিকরা আজ সারা বিশ্বে বাড়তি মর্যাদা পাবে। বাংলাদেশের অভিবাসীরা পাবে সম্মান। সবুজ পাসপোর্ট আর হবে না তাচ্ছিল্যের পাত্র।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে ক্রমেই এগিয়ে চলছে। পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল,রূপপুর পারমানবিক প্রকল্প্র, ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র,পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর, কর্ণফুলী টানেল, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট, ১২ টি হাই-টেক পার্ক, সারাদেশে ৫০০০ এর বেশি ডিজিটাল সেন্টার এসবই বাংলাদেশের উন্নয়নের জলন্ত উদাহরণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বাংলাদেশের সফলতার পেছনে প্রধানমন্ত্রীর কিছু উদ্যোগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে। যেমন, নারীর ক্ষমতায়ন, আশ্রয়ন,শিক্ষা সহায়তা, একটি বাড়ি একটি খামার, ডিজিটাল বাংলাদেশ, কমিউনিতি ক্লিনিক, বিনিয়োগ বিকাশ, পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, এবং সবার জন্য বিদ্যুৎ।


বাংলা ইনসাইডার/আরকে/জেডএ