ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

হতাশা বাড়ছে বিএনপিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ শুক্রবার, ০৮:০০ পিএম
হতাশা বাড়ছে বিএনপিতে

দিন যত গড়াচ্ছে ততই বিএনপিতে বাড়ছে হতাশা। বিএনপি কর্মীরা বলছেন, তারা কোনো আশার আলো দেখছেন না। বিএনপির সিনিয়র নেতারাও বলছেন, তারা সহসাই সাফল্যের সম্ভাবনা দেখছেন না। বেগম জিয়া গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৬ দিন। এর মধ্যে বিএনপি সরকারকে এতটুকু উদ্বিগ্ন করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক মহল থেকেও এখন পর্যন্ত বিএনপির পক্ষে কোনো সহানুভূতি আসেনি। উপরন্তু নতুন করে গ্রেপ্তার অভিযান এবং পুরোনো মামলাগুলো সচল হওয়ায় মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দিশেহারা। বিএনপি এখন কী করবে-এ ব্যাপারে কোনো দিক নির্দেশনা নেই। নির্বাচনের প্রস্তুতিতে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ অনেক এগিয়ে গেছে। আন্দোলনও জমাতে পারছে না অন্যতম জনপ্রিয় এই দল।

বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রধান হতাশার বিষয় হলো বেগম খালেদা জিয়ার কারাবরণ। রোববার হাইকোর্টে বেগম জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু বিএনপির সিংহভাগ নেতাকর্মী বিশ্বাস করেন না যে, এই মামলায় জামিন পেলেই তাঁর মুক্তি হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘সরকারের আচার-আচরণে সমঝোতার কোনো লক্ষণ নেই। বরং সরকার খালেদা জিয়াকে আটকে রেখে নির্বাচন করার পরিকল্পনা করছে। বেগম জিয়ার  মুক্তির জন্য বিএনপি কি করছে, জানতে চাওয়া হলে দলের এই প্রভাবশালী নেতা বলেন, আমরা আইনের লড়াই এবং জনমত গঠন সমান্তরাল ভাবে করছি। আমরা বেগম জিয়ার জামিনের জন্যে আদালতে যাচ্ছি। একই সঙ্গে মুক্তির দাবিকে সার্বজনীন গণ দাবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছি।’

কিন্তু বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতা কর্মীরা না আন্দোলন না আইনি লড়াই কোনোটাতেই খুশি নন। দলের জেলা পর্যায়ের একজন নেতা বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন গ্রেপ্তার হবার পর, যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করার দরকার ছিল সেটা আমরা করতে পারি নাই। আইনি লড়াইও যথাযথ ভাবে হচ্ছে না বলে মনে করেন ওই নেতা।

যুবদলের একজন নেতা বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন হচ্ছে লোক দেখানো আন্দোলন এই আন্দোলনে সরকারের টনক নড়বে না। এই আন্দোলনে বেগম জিয়াকে মুক্তি দিতে সরকারকে বাধ্য করাও যাবে না। 

বিএনপির হতাশার দ্বিতীয় কারণ হলো তারেক জিয়ার নেতৃত্ব। বিএনপির তরুণরা আশায় বুক বেঁধে ছিল যে, অন্তত মায়ের মুক্তির জন্য তারেক কিছু একটা করবে। কিন্তু বেগম জিয়ার গ্রেপ্তারের পর তারেক জিয়ার আচরণে কর্মীরা হতাশ। একজন কর্মী বলেন, ’৭৩ বছর বয়সী মা জেলে আর সন্তান কিনা লন্ডনে আরাম আয়েশে জীবন কাটাচ্ছে। আমাদের সংস্কৃতিতে এটা নাই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও তারেক জিয়ার দেশে আসা উচিত ছিল।’

বিএনপির হতাশার তৃতীয় কারণ হলো বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন। অধিকাংশ কর্মী মনে করেন, নেতারা সরকারের সন্তুষ্টি রেখে আন্দোলন করছে। এই প্রসঙ্গে উদাহরণ দিয়ে ওই কর্মী বলেন, ‘কর্মসূচি ছিল কালো পতাকা মিছিল। কিন্তু আমরা সরকারের ভয়ে এটাকে শুধু কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি করলাম।’ স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন নেতা বলেন, ‘আমরা তো শেষ হয়ে যাচ্ছি। বিএনপিকে মুসলিমলীগ বানানো হচ্ছে।’ যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘প্রথম কয়েকদিন উৎসাহ নিয়ে কর্মসূচিতে গিয়েছিলাম, কিন্তু পরে দেখলাম এগুলো শুধু লোক দেখানো, এজন্য যাই না।’

এভাবেই নানা হতাশায় নেতা কর্মীরা বিপর্যস্ত, বিধ্বস্ত। দলের মধ্যে একে অন্যকে সন্দেহ করছে। একে অন্যকে দালাল বলছে। এরকম অবস্থায় দলটির ভবিষ্যৎ কি তা সময়ই বলে দেবে।



Read in English- http://bit.ly/2sNzIsm

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ

বিষয়: বিএনপি , হতাশা