ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আ. লীগ কি পারবে তৃতীয় বার?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ মার্চ ২০১৮ রবিবার, ১০:০০ পিএম
আ. লীগ কি পারবে তৃতীয় বার?

বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত কেউই তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। বাংলাদেশে তো গণতন্ত্রের দাঁতই ওঠেনি। পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে এখন পরিবর্তনের হাওয়া। চলো পাল্টাই স্লোগান দিয়ে ভারতের ত্রিপুরায় ২৫ বছরের বাম শাসনের সমাধি রচনা করলেন নরেন্দ্র মোদি। দেশে বিদেশে বিপুল জনপ্রিয়তার পরও জার্মানীতে অ্যাঞ্জেলা মেরকেলের জয়কে  তিনি নিজেও বিজয় বলতে নারাজ। বারাক ওবামার বিপুল জনপ্রিয়তার পরও আরও দীর্ঘ ওবামারূপী হিলারি ক্লিনটনের শাসন চায়নি মার্কিন জনগণ। তাঁরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো প্রায় উন্মাদ প্রেসিডেন্টকে পছন্দ করেছেন। বিশ্বজুড়ে আজ পরিবর্তনের হাওয়া। নতুনের স্বাদ নিতে চায় নাগরিকবৃন্দ এবং ভোটাররা। তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে, এক বড় প্রশ্ন, আওয়ামী লীগ কি পারবে?

বাংলাদেশের গণতন্ত্রের যাত্রাপথ বারবার ধাক্কা খেয়েছে। ৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৭৫ এর ১৫ আগস্ট। মাত্র সাড়ে তিন বছর আমরা বেসামরিক শাসনে ছিলাম। এরপর দীর্ঘ ১৬ বছর, গণতন্ত্রের মুখোশের আড়ালে আসলে ছিল স্বৈরশাসন, অবৈধ দখলদারদের রাজত্ব। জিয়াউর রহমান জোর করে অস্ত্র দেখিয়ে ক্ষমতা নিয়েছিলেন। এরশাদও তাই। জিয়া ক্ষমতা দখলের আগে কিছুদিন বাংলাদেশের মসনদ ছিল মিউজিক্যাল চেয়ার। তেমনি এরশাদও বুটের তলায় গণতন্ত্রকে পিষ্ট করার আগে ছোট্ট একটা বিরতি দিয়েছিলেন। ৯০ এ এরশাদের পতন হয়। এরপর গণতন্ত্রের পথ তৈরি হয়েছিল। ৯০ থেকে ২০০১ পর্যন্ত বিএনপি-আওয়ামী লীগ পাল্টাপাল্টি ক্ষমতায় আসে। কোনো দলই টানা দুবার ক্ষমতায় ছিল না। ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে। বিএনপি হিসেব করেছিল তারা নির্বাচন না করলেই আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হবে। যেমন, বিএনপি পতন হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। ২০০৭ সালেও বিএনপির ক্ষমতার লোভ ওয়ান ইলেভেন ডেকেছিল। কিন্তু ২০১৪’র ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনের পরও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। আওয়ামী লীগ টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড করেছে। এরশাদ ৯ বছর থাকলেও তাতে কোনো তৃপ্তি ছিল না। ৮২ থেকে ৮৬ পর্যন্ত এরশাদ সাংবিধানিক ভাবেই অবৈধ শাসক ছিলেন। ৮৬ সংসদ বেশি দিন টেকেনি। ৮৮ সংসদও মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি। সেই বিবেচনায় আওয়ামী লীগ বর্তমান মেয়াদ পূর্ণ করলেই টানা দুই মেয়াদ ক্ষমতার থাকার রেকর্ড করবে, যে রেকর্ড কারও নেই। কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগেই অস্বস্তি আছে। তাই ২০১৮ সালের নির্বাচন আওয়ামী লীগ লড়াই করেই জিততে চায়।

ক্ষমতায় থাকার কতগুলো বাস্তব সম্মত সমস্যা রয়েছে। অনেক মানুষের দীর্ঘ চাহিদার তালিকা থাকে, সেই তালিকা সবটা পূরণ করা যায় না। ফলে জন অসন্তোষ বাড়ে। ক্ষমতাসীন দল দ্রুত জনপ্রিয়তা হারায়। ক্ষমতাসীন দলের বাড়াবাড়ি, ক্ষমতার দাপটও অনেক সময় দলকে অজনপ্রিয় করে। দুর্নীতি সরকারের সব অর্জনকে খেয়ে ফেলে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, এই তিনটি ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগের সমস্যা রয়েছে।  প্রায়ই বাতাসে কান পাতলে শোনা যায়, আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা কমছে। একারণেই বিএনপি বিরোধী দল হিসেবে ব্যার্থতার ষোলকলা পূর্ণ করেও বলে, নির্বাচন করলে তারা জিতবে। এই পর্যন্ত সব ঠিক আছে। কিন্তু ইতিহাস মনস্ক হয়ে আমরা বিশ্বের দিকে তাকালে দেখব সেই দলগুলোই দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল, যে দলগুলোর প্রধান নেতা দলের উর্ধ্বে জাতীয় নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। জার্মানিতে অ্যাঙ্গেলা মেরকেল যে কোনোমতে জিতেছেন তা শুধুই তাঁর ইমেজের জন্যেই। পশ্চিম বাংলায় এক জ্যোতি বসুই লাল ঝান্ডা উচিয়ে রেখে ছিলেন। মালয়েশিয়ার মাহাথিরও তেমনি অবিসংবিদিত নেতা। গত নয় বছরে আওয়ামী লীগ জনপ্রিয়তা হারিয়েছে কিনা তা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি যে অবিসংবিদিত বাঙালির নেতা হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছেন, তা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। দল-মত নির্বিশেষে সকলে, এমনকি যারা তাঁর জন্য২১ আগস্টের মৃত্যুফাঁদ বানিয়ে ছিল তারাও স্বীকার করেন, শেখ হাসিনার বিচক্ষণতা আর দূরদর্শিতার। একদিকে তিনি কঠোর, কঠিন শাসক। আদালতের রায় যেকোনো দন্ডিতের বিরুদ্ধে কার্যকরে তাঁর এতটুকু দ্বিধা স্পর্শ করে না। হোক না তা যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড কিংবা বেগম জিয়ার কারদণ্ড। আবার দু:খী মানুষের কান্নায় তাঁর শিশুর আবেগে উদ্বেলিত হয়। কাজের সময় যেমন তিনি তাঁর আহার টুকু ভুলে যান, আবার শিশুদের সান্নিধ্যে তিনি তাঁর অবসরকে স্বর্গীয় আনন্দে ভরিয়ে দেন।  একজন পরিপূর্ণ মানুষ, সফল নেতা। এমন নেতা আছেন জন্যই হয়তো তৃতীয়বার ক্ষমতার স্বপ্ন দেখে আওয়ামী লীগ। আশায় বুকও বাধে।



Read in English- http://bit.ly/2oHgD6N

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ