ঢাকা, সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ , ৪ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

এক টাকায় খাবার

শাহআলম শুভ
প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০১৮ বুধবার, ০১:১৮ পিএম
এক টাকায় খাবার

এক টাকায় দুপুরের খাবার। শুনলে হয়তো অনেকেই অবাক হবেন। কেউ কেউ আবার ভাবতে পারেন শায়েস্তা খাঁর আমল চলে আসল কিনা?  হাঁ, বিষয়টি এই রকমই। শায়েস্তা খাঁর আমল ফিরে না আসলেও মাত্র এক টাকার বিনিময়ে ভাসমান সুবিধাবঞ্চিত খাবার দিচ্ছেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৩০০ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে এ খাবার বিতরণ করা হয়। আর এই খাবার তৈরি হয় নিজস্ব ঘরোয়া পরিবেশে। আর এই কাজটি পরিচালনা করেন এক ঝাঁক স্বেচ্ছাসেবক। খাবার তৈরি  করা  থেকে শুরু বিতরণ করেন এই সেচ্ছাসেবকরা। সেচ্ছাসেবকদের বেশিরভাগই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী।

প্রতিষ্ঠানটি শুরুর দিকে বিনামূল্যে খাবার বিতরণ হলেও বর্তমানে ‘এক টাকায় আহার প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এর আওতায় গত চার মাসে এক লাখ ২০হাজার পথশিশুকে খাবার দেওয়া হয়েছে।

পু্ষ্টিগুণ সম্পন্ন এই খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রে একটাকা নেওয়া হচ্ছে কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানটির স্বেচ্ছাসেবক ফারুক আহমেদ বলেন, ‘এক টাকার বিনিময়ে পথশিশুদের মধ্যে খাবার তুলে দেওয়া হয়। আর এই টাকা নেওয়ার কারণ হলো অন্তত এক টাকা হলেও তারা টাকাটা দেয় এতে তারা ভাবতে পারে আমরা খাবার কিনে খাচ্ছি। এতে চেয়ে খাওয়ার বা ফ্রি খাওয়ার মতো হীনমন্যতা তৈরি হবে না।’

কোন চিন্তাভাবনা বা উদ্দেশ্যে নিয়ে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয় এমনটি জানাতে চাইলে এর প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার দাশ বলেন, সমাজের ঝড়ে পড়া, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আমার এই  ক্ষুদ্রপ্রচেষ্টা। ছোটবেলা থেকে অভাব অনটনের মধ্যে বড় হয়েছেন তিনি। জীবনে অনেক অনেক সংগ্রাম করে  বড় হয়েছি। একটা স্বপ্ন ছিল কোনোদিন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াব। মূলত সেই স্বপ্ন  থেকেই বিদ্যানন্দের যাত্রা।

তিনি আরও বলেন, সমাজের চোখে যারা অসহায়, নিম্ন কাজে লিপ্ত, চুরি, ছিনতাইয়ে লিপ্ত তাদের সুপথে আনার দায়িত্ব সমাজের সবার। আমি একা বিরাট এই সংখ্যাকে কিছুই করতে পারব না। তবে সবাই একটু একটু করে এগিয়ে এলে বড় ধরনের কাজ করা সম্ভব। আমাদের দেশকে বদলে স্বাবলম্বী করা সম্ভব। তাই সামর্থ্যবানদেরই এগিয়ে আসতে হবে। আমি আমার কাজ দিয়ে অন্যদের উৎসাহ দিতে পারি। বিরাট এই কাজের ছোট্ট অংশীদার হতে পারি।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের জন্য প্রতিদিন এত সময় দিতে গিয়ে স্বেচ্ছাসেবীদের ব্যক্তিজীবনে আয় উপার্জনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে কিনা জানতে চাইলে ফাউন্ডেশনটির প্রতিষ্ঠাতা বলেন, এখানে যারা কাজ করছেন, তাদের যোগ্যতা হিসেবে দেখা হয় নিজ নিজ অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত কিনা। এই কাজের জন্য দেওয়া সময় যেন তাদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যাঘাত না ঘটায় সেদিকে খেয়াল রাখা হয়। তিনি আরও জানান, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের কিছু বেতনভুক্ত কর্মী আছেন, তারাও অর্ধেক মূল্য গ্রহণ করেন। যারা বিভিন্ন কেন্দ্রের দায়িত্বে আছেন তাদের অধিকাংশই কর্মজীবনের শেষ পর্যায়ে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনটির যাত্রা শুরু ২০১৩ সাল থেকে। শুরুর পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কাজ পরিচালনা করে আসছে।

বাংলা ইনসাইডার/এসএ/জেডএ