ঢাকা, শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিএনপি-জাপা-জামাত ঐক্য?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ মার্চ ২০১৮ শুক্রবার, ০৮:০০ পিএম
বিএনপি-জাপা-জামাত ঐক্য?

লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার সঙ্গে যুদ্ধাপরাধী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে গত বুধবার। সেই বৈঠকের সূত্র ধরেই, ঢাকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার জমির উদ্দীন সরকারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ার জি.এম. কাদেরের। তিন দল আগামী নির্বাচন ঐক্যবদ্ধ ভাবে করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

তিন দলের নেতারাই মনে করছে, এরকম একটি নির্বাচনী জোট হলে, আওয়ামী লীগের পরাজয় সুনিশ্চিত। তবে, জাপার একদল নেতা বলছেন, ‘এরকম আলোচনা করার অধিকার জি.এম. কাদেরকে দেওয়া হয়নি।‘ কিন্তু একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সবুজ সংকেত নিয়েই জি.এম. কাদের এই উদ্যোগে নিয়েছিল। এই উদ্যোগের নাম হয়েছে ‘গাইবান্ধা মডেল’। সূত্রমতে গাইবান্ধার, উপ-নির্বাচন পরিচালনায় সর্বময় ক্ষমতা এরশাদ তার ছোট ভাই জি.এম. কাদেরকে দিয়েছিলেন। ওই দায়িত্ব নিয়ে তিনি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামাত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর চেষ্টার ফলেই, ওই নির্বাচনে বিএনপি-জাপা-জামাত জোট গঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়। এখন ওই নির্বাচনের ফর্মুলায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্য গড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

অন্য একটি সূত্র বলছে, গত কয়েকমাস ধরেই বিএনপির সঙ্গে জামাতের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। এমনকি জামাত কয়েকবার জোট ছেড়ে বেরিয়ে যাবারও হুমকি দিয়েছিল। সর্বশেষ আসন্ন ৫ সিটি নির্বাচন জামাত এককভাবে করার সিদ্ধান্ত নেয়। বিএনপির মতোই জামাত পরিচালিত হয় লন্ডন থেকে। সেখানে যুদ্ধাপরাধীর অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে পলাতক ব্যরিস্টার আবদুর রাজ্জাকই আসলে জামাত চালায়। এজন্যই দীর্ঘদিনের দুই মিত্র দলের বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেয় লন্ডনে। তারেক জিয়া এবং ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের বৈঠকে দুই দলের ঐক্য এবং একযোগে নির্বাচনের কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একটি সূত্র জানায়, জামাতই এই ঐক্যে জাতীয় পার্টিকে যুক্ত করার প্রস্তাব দেয়। এর আগেও এরশাদের সঙ্গে তারেক জিয়ার প্রতিনিধিদের সিঙ্গাপুরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। জাতীয় পার্টি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণাকে সমর্থন করে না। তাই তাঁদের প্রধান শর্তই হলো, তত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে সরে আসতে হবে। বিএনপিও এখন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে আগ্রহী। ‘ একযোগে নির্বাচন, এক সঙ্গে সরকার’ এই চিন্তায় তিন দলীয় জোটের প্রধান সমস্যা হলো আসন ভাগাভাগি। জানা গেছে, ব্যরিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের সঙ্গে বৈঠক জি.এম কাদের আসন বিন্যাস সম্পর্কে প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাব হলো, বিএনপি-১৫০, জাপা-১০০, জামাত-৫০। ব্যরিস্টার জমির উদ্দিন সরকার এই প্রস্তাব দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন আর প্রাথমিকভাবে তিনি এই প্রস্তাবকে অবাস্তব বলেছেন বলে জানা গেছে। তিনি বিএনপির জন্য অন্তত ২০০ আসন সর্বনিম্ন বলে মন্তব্য করেছেন। একটি সূত্র বলেছে, আসন ভাগাভাগি কোনো বড় ইস্যু নয়। তিন দল ঐক্যবদ্ধ হলেই, তা হবে রাজনীতিতে একটি বড় চমক। এই চমক দিয়েই নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে চায় বিএনপি। তবে জাপার একজন নেতা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘জি.এম. কাদের আওয়ামী লীগের বদান্যতায় ২০০৮ এ মন্ত্রী হয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৪ থেকেই তিনি বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছেন। তাঁর মতে, ‘এরশাদ তাঁকে দিয়ে বাজার যাচাই করেন। জাপা বিএনপি ঐক্য অসম্ভব না হলেও দুরূহ। ’ তবে বিএনপি একজন নেতা বলেছেন,‘রাজনীতিতে সব কিছুই সম্ভব।’


Read In English: http://bit.ly/2piGql5


বাংলা ইনসাইডার/জেডএ