ঢাকা, রোববার, ২০ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত শাইখ সিরাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০১৮ সোমবার, ০১:২৭ পিএম
নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত শাইখ সিরাজ

১৯৮৪ সালের প্রথম দিকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান মাটি ও মানুষের উপস্থাপক হিসেবে ছিলেন কৃষিবিদ রেজাউল করিম। একই বছরের শেষে অনুষ্ঠানটিতে উপস্থাপক হিসেবে যোগ দেন শাইখ সিরাজ। শুরু থেকে অনুষ্ঠানটি দর্শকপ্রিয় হয়, পায় নানা পুরষ্কার। কিন্তু পুরো অনুষ্ঠানের অর্জনকে নিজের কৃতিত্ব বলে জাহির করে নানা রকম ব্যক্তিগত সুবিধা নেন শাইখ সিরাজ। এমন অভিযোগ করেন রেজাউল করিম।

রেজাউল করিম বলেন, যেটি অনুষ্ঠানের অর্জন সেটি ব্যক্তিগত ভাবে হাইজ্যাক করা হয়েছে। মৎস্য মেলায় পদক পেয়েছে মাটি ও মানুষ সেটি গ্রহণ করেছেন শাইখ সিরাজ, কৃষি মেলায় পদক পেয়েছে মাটি ও মানুষ সেটি গ্রহণ করেছেন শাইখ সিরাজ। তাতে হয়েছে কি মাটি ও মানুষের কৃতিত্ব চাঁপা পড়ে গেছে ব্যক্তির কৃতিত্ব বড় হয়ে উঠেছে।

এই কৃষিবিদ আরও বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমানের খাল কাটা কর্মসূচীর প্রশংসায় ব্যস্ত ছিলেন শাইখ সিরাজ। এভাবেই তোষামোদি করে ১৯৯৫ সালে বাগিয়ে নেন একুশে পদক।

রেজাউল করিম প্রশ্ন তোলেন, একুশে পদক কে পায়? একজন সংস্কৃতি কর্মী পায়, একুশে পদক একজন সাহিত্যিক পায়, একজন শিক্ষক পায়। কৃষি সাংবাদিকতা ক্যাটাগরিতে কেউ একুশে পদক পায় এটি কিন্তু এযাবৎ কালে আর হয়নি। ওই একটি মাত্র হয়েছিল। তাতে বোঝা যায় এটির পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এগুলি কাজ করেছে। তার মানে ব্যক্তিগত সম্পর্ক দিয়ে যদি পদক আনতে হয়ে তবে সে পদকের মূল্য কতখানি?

চলতি বছর স্বাধীনতা পদকের প্রাথমিক তালিকায় না থাকলেও চূড়ান্ত তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে সমর্থ হন শাইখ সিরাজ। অবশ্য এ নিয়ে শাইখ সিরাজ বলেন ভিন্ন কথা। পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সরকার তো সরকার। রাষ্ট্র সরকার দ্বারা পরিচালিত হয়। কখনো এক সরকার আসে আরেক সরকার যায়। এভাবেই তো হয় জিনিসগুলো। এখন জনগণ তার কাজের জন্যে রাষ্ট্র তাকে পুরস্কৃত করে। সেই জায়গা থেকে প্রশ্নটি আপনি করেছেন আমি উভয়ের কাছেই হয়তোবা কাজটির জন্য সবার কাছে সমাদৃত, সেটা হয়তো একটা বড় কারণ হতে পারত।

ডিবিসি নিউজ প্রধান সম্পাদক মঞ্জরুল ইসলাম একটি টকশোতে এ বিষয়ে বলেন, শাইখ সিরাজ সাহেবকে তিনটি কারণে অভিনন্দন জানাতে চাই। প্রথমে হচ্ছে তিনি একটি পুরষ্কার পেয়েছেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পুরস্কার। দ্বিতীয় হচ্ছে একটি ক্যাটাগরি প্রবর্তন করে পুরস্কার পাবার সৌভাগ্যবান ব্যক্তি তিনি। অর্থাৎ ক্যাটাগরি কৃষি সাংবাদিকতা বলে বাংলাদেশের কিছু ছিল না স্বাধীনতা পুরস্কারে সেটি। আর তৃতীয় হচ্ছে অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব এটি আমরাও রিপোর্ট করেছি বাংলাদেশের ৪৭ বছরের ইতিহাসে দেখা যায় একটি সরকারের ক্ষেত্রেও যাঁকে রিকগনাইজ করা হয় পড়ে তাদের এক ধরণের নীতি আদর্শ মতের কাছাকাছি মানুষকে পরবর্তী সরকারের কাছে উনি পুরষ্কার পান এরকম নজিরবিহীন। শাইখ সিরাজ অনন্য সাধারণ দৃষ্টান্ত। ১৯৯৪ সালে তিনি একুশে পদক পেয়েছিলেন। এবং সেই সময় ড. এমাজুদ্দিন স্যার সহ অনেকেই পেয়েছিলেন। তাদের ব্যক্তিগত পরিচয় আমরা জানি। এবং অনেক বছর পরে প্রথম বার কিন্তু যেমনটি আপনাদের প্রতিবেদনে এসেছে তেমনটি আমরাও কিন্তু রিপোর্ট করেছি। এবার ১৮ জনের মধ্যে ১৬টি পদক ঘোষণা করা হয়েছে। এবং তাঁর পরে দুজনের নাম ঘোষণা এটাও কিন্তু একটু ব্যতিক্রমী এটি কাইন্ড অফ আমাদের ওই গ্রেস দিয়ে পাশ করানো কিংবা পড়ে রেজাল্ট ঘোষণা করার মতো ব্যাপার কিনা এই কারণে আমাদের কাছে একটু চোখে ঠেকেছে। এবং আমরা রিপোর্টটি করেছি। বাংলাদেশের পরপর দুই জন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে রাষ্ট্রীয় পুরষ্কার নেওয়া এটা কিন্তু সৌভাগ্যবান ব্যক্তিরই ব্যাপার। মোজাম্মেল বাবু একটি অনুষ্ঠানে বলছিলেন ২০০৬ সালে যখন আমরা সৎ ও যোগ্য প্রার্থী আন্দোলন নামে যারা সক্রিয় চিলেন আমাদের পেশাজীবী মানুষের মধ্যে তাদের মধ্যে কিন্তু শাইখ সিরাজ সাংবাদিক হিসেবে একজন প্রথিতযশা ও অগ্রগণ্য মানুষ ছিলেন। যখন মাইনাস টু ফরমুলা দিয়ে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা নেবার নাম আসছিল সেখানেও অনার নাম সামনের দিকে আসছিল। অর্থাৎ তাঁর মানে তিনি সেইরকম সর্বজন গ্রাহ্য মানুষ জাকে আওয়ামীলীগের লোকজন পছন্দ করে, বিএনপির লোকজন পছন্দ করে, আওয়ামীলীগ-বিএনপির দুই নেত্রীকে মাইনাস করতে চায় এইরকম লোকজনও পছন্দ করে। এরকম বিরল ব্যক্তিত্বের মানুষ নিশ্চয়ই বাংলাদেশের কম। কিন্তু একটি তথ্য আমি দিতে চাই যেটা শাইখ সিরাজ ভাই বলেছেন যে সকলের কাছে সমাদৃত হতেই পারেন। কিন্তু ব্যতিক্রমী ঘটনা হলো উনি আমাদের এটিসিও এর নেতা ছিলেন, আমরা জানি কতগুলো প্রতিষ্ঠান যেমন এফবিসিসিআই এটিসিও তে সাধারণত যারা দায়িত্বে থাকেন সেই সময় সরকারের অন্তত মতের অথবা আদর্শের কাছাকাছি মানুষগুলো না থাকলে সংগঠনগুলো পরিচালনা কঠিন হয়। শাইখ সিরাজ কিছু দিন আগেও বিনপির আমলে এটিসিও’ র মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন। যেটার প্রধান আহ্বায়ক ছিলেন জনাব মোসাদ্দেক হোসেন ফালু। আওয়ামী লীগ শাসনামল শুরু হবার পর অনেকদিন এটিসিও নিষ্ক্রিয় ছিল। এখন এটিসিও র সদস্যরা বসে মিটিং করে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করেছে। আজকে নতুন প্রেসিডেন্ট হচ্ছে জনাব সালমান রহমান এবং সিনিয়র সভাপতি হচ্ছে জনাব মোজাম্মেল বাবু আরেকে জন সহ সভাপতি হচ্ছে জনাব আরিফ সাহেব দেশ টিভির। ফলে এই বাস্তবতায় আমরা জানি বাংলাদেশের সরকার কি ভাবে চলে। অর্থাৎ কতগুলো প্রতিষ্ঠানকে চলার ক্ষেত্রে মানুষের বিশ্বাস ভাজন আস্থার কাছাকাছি মানুষগুলো থাকে। এই কারণেই পুরষ্কার বিতরণের এই জায়গাটা নিয়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এত আলোচনা। এই ১৮ জনের মদ্যে সেখানে কিন্তু আরও একজন বিশেষ পুরষ্কার পেয়েছেন। বীর উত্তম এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ। ওনার মুক্তিযুদ্ধের অবদানের কথা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলে নাই। তাকে যখন সামনের সারিতে দেখি আমাদের গর্বে বুক ভরে যায়। কারণ তিনি জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। সেই জায়গায় অন্যদের নামটা যখন পাশাপাশি আসে তখন মনে প্রশ্ন জাগাটা স্বাভাবিক।


বাংলা ইনসাইডার/ডিজি/জেডএ

বিষয়: শাইখ-সিরাজ