ঢাকা, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কোন্দল মেটাতে ‘নারায়ণগঞ্জ মডেল’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল ২০১৮ শুক্রবার, ০৮:০০ পিএম
কোন্দল মেটাতে ‘নারায়ণগঞ্জ মডেল’

গাজীপুর এবং খুলনায় জিততে মরিয়া আওয়ামী লীগ। আর আওয়ামীলীগের জয়ের পথে প্রধান বাঁধা হলো অন্তঃকোন্দল। অন্তঃকোন্দল মেটাতে দলের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা `নারায়ণগঞ্জ মডেল` অনুসরন করবেন। প্রধানমন্ত্রী গত রাতে, তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে বলেছেন `নারায়ণগঞ্জের চেয়ে কোন্দল তো আর কোথাও নেই, নারায়নগঞ্জে যদি পারি তাহলে গাজীপুর, খুলনায় কেন পারব না।` তিনি এও বলেছেন `কোন কোন্দল সহ্য করা হবে না।` 

নারায়ণগঞ্জে সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং শামীম ওসমানের দ্বন্দ দীর্ঘদিনের এবং প্রকাশ্য। গত সিটি নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী দুই নেতাকেই গণ ভবনে ডেকে পাঠান। তাঁদের সাথে খোলামেলা বৈঠক করেন এবং শেষে দলীয় সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তার কঠোর অবস্থান ঘোষনা করে বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যদি কেউ কাজ করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ নারায়ন গঞ্জে সেলিনা হায়াৎ আইভী আওয়ামী লীগ মনোনয়ন পান। প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশে শামীম ওসমান এবং তাঁর অনুসারীরা নির্বাচনের সকল কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকেন। শুধু ভোটের দিন যেয়ে ভোটটা দিয়ে আসেন। ঐ নির্বাচনে আইভী বিপুল ভোটে জয়ী হয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে শামীম ওসামানের সমর্থকরা নিষ্ক্রিয় ছিল, কিন্তু কেন্দ্রের কঠোর নজরদারির জন্য আইভীর বিপক্ষে কাজ করতে পারেনি। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘দুই গ্রুপের একটিকে যদি নিষ্ক্রিয় করা যায়, তাহলেই আওয়ামী লীগ ক্ষতি থেকে বাঁচে।’ তাঁর মতে, ‘গ্রুপিং করে অল্প ক’জন নেতা। কর্মী সমর্থকরা নৌকা মার্কার পক্ষেই থাকে।’

নারায়ণগঞ্জের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে আওয়ামী লীগের ওই প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ‘আমরা শুধু কঠোর বার্তা দিয়েছিলাম এবং সতর্ক করে দিয়েছিলাম যে ‘নৌকা’র প্রার্থীর বিরুদ্ধে যেন কেউ ষড়যন্ত্র না করে। আমরা এতে কাজ পেয়েছি।‘ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কোন্দল করে হাতে গোণা কয়েকজন। কর্মী-সমর্থকরা কোন্দলে নেই। তাই উপরের দিকে ১০/১২ জনকে ঠিক করলেও কোন্দল ঠেকানো সম্ভব।‘

নারায়ণগঞ্জের মতোই প্রধানমন্ত্রী গাজীপুরে বিবাদমান দুই পক্ষ আজমত উল্লাহ এবং জাহাঙ্গীর আলমকে গনভবনে তলব করবেন বলে জানা গেছে। এখানে দুই নেতার সঙ্গেই খোলামেলা আলাপ করবেন এবং আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কাজ করলে কি পরিণতি হবে, সে সম্পর্কেও হুঁশিয়ারি বার্তা দেবেন। একই ভাবে খুলনা নিয়েও প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানা গেছে। গাজীপুর এবং খুলনায় নারায়ণগঞ্জ মডেল সফল হলে আওয়ামী লীগ দেশের যেখানে যেখানে এধরনের সমস্যা আছে, সেখানে এই মডেল অনুসরন করবে।

আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দলীয় কোন্দল অবশ্যই আমাদের এক বড় সমস্যা। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি,তাহলে কেউ আমাদের পরাজিত করতে পারবে না। এ কারনেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে অন্ত:কলহ মেটানোর জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন।’ কাদের বলেন,‘অন্ত:কলহ যে মেটানো যায়, নারায়নগঞ্জ তার সবচেয়ে বড় উদাহরন।’



Read In English: https://bit.ly/2He4tdE


বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ