ঢাকা, রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আ. লীগ প্রযোজিত, শেখ হাসিনা পরিচালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৮:০০ পিএম
আ. লীগ প্রযোজিত, শেখ হাসিনা পরিচালিত

কোটা সংস্কার আন্দোলন কি তাহলে আওয়ামী লীগ প্রযোজিত, শেখ হাসিনা পরিচালিত একটি সাজানো নাটক ছিল? যে নাটকের পরিণতি একটাই বিএনপির ট্রাজেডি। বিএনপি এখন মূল্যায়নে বসতেই পারে যে, কোনটা তাদের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল? ১. ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচিতে সমর্থন দেওয়া ২. ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে না যাওয়া ৩. কোকোর মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেগম জিয়ার সাক্ষাৎ না করা, নাকি ৪. কোটা সংস্কার আন্দোলনে ষড়যন্ত্র করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা করা?

এই প্রশ্নের উত্তর বিএনপি নেতারাই খুঁজছেন। বিএনপি বার বার কেন অন্যের উপর ভর করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায়, সেটাও এক অমীমাংসিত ইস্যু। কারণ দল হিসেবে বিএনপি শক্তিশালী, তাঁদের সমর্থক সংখ্যাও কম না। সেরকম একটি দল কেন অন্যের আন্দোলনের ফলাফলের অপেক্ষা করবে?  অন্যকে দিয়ে আন্দোলন করার ষড়যন্ত্র করবে?

তারেক জিয়ার সঙ্গে অধ্যাপক মামুন আহমেদের কথোপকথনের পর এটা বুঝতে কারও অসুবিধা হবার কথা না যে বিএনপি এই আন্দোলনকে উসকে দিতে চেয়েছিল। আন্দোলন শুরু হবার পরপরই তারেক জিয়া তাঁর নিজস্ব ক্যাডারদের দিয়ে আন্দোলনকে অন্যখাতে প্রবাহিত করতে চেয়েছিল। ভিসির বাসভবনের হামলার মধ্যে দিয়ে তারেক জিয়া ঘটনাকে সহিংস দিকে নিয়ে যায়। সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তারেক জিয়া প্রাথমিক সাফল্য পেয়েছিল। বিএনপির পরিকল্পনা ছিল খুবই সাদামাটা এবং পরিষ্কার। বিএনপি চেয়েছিল, ছাত্রদের উস্কে দিয়ে একটি বিস্ফোরণ মুখ পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে পরে অন্যরাও যুক্ত হবে এবং একপর্যায়ে সরকারের পতন হবে। কিন্তু শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা এবং সাহসী সিদ্ধান্তে আন্দোলন শেষ হয়। তারেক জিয়া ভিলেন হিসেবে আবির্ভূত হলেন আর শেখ হাসিনা হলেন, ‘মাদার অফ এডুকেশন’। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী যে কোটা বাতিলে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারেন, আগের দিন পর্যন্ত বিএনপি তা চিন্তাও করেনি। বরং বিএনপি আন্দোলনের কোন স্পটে কে যাবে তা ঠিক করছিল। বৃহস্পতিবার এই কর্মসূচির সঙ্গে তাদের একাত্মতা ঘোষণা করার কথা ছিল। প্রদীপ নেভার আগে যেমন দপ করে জ্বলে ওঠে তেমনি আন্দোলন শেষ হওয়ার আগে বুধবার জ্বলে উঠেছিল। আর  এই আলোতেই ষড়যন্ত্রকারীদের চেহারা জাতির সামনে উন্মোচিত হলো। তারেক জিয়ার নেতৃত্ব বিএনপির যে ‘খারাপ মতলব’ ছিল তা বেরিয়ে আসে।

এটা কি কাকতালীয় নাকি, সরকারের ফাঁদে বিএনপি পা দিয়ে ধরা পড়ল? এ প্রশ্ন অনেকের। অনেক বিশ্লেষকরা মনে করেন, কোটা সংস্কারে আন্দোলন স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই গড়ে উঠেছিল। ছাত্রলীগ, ছাত্রদল দুপক্ষের শিক্ষার্থীরাই এতে ছিল। সোমবার রাতে ছাত্রদল এবং শিবির আন্দোলনের নেতৃত্ব নেয়। এরাই উপাচার্যের বাসায় ভাংচুর করে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, উপাচার্যের বাসভবনে হামলার পরপরই, সরকার বুঝতে পারে এর পেছনে বিএনপি এবং জামাতের হাত আছে। একারণেই সোমবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পাদকের বৈঠকের পরও সরকার আন্দোলনকে পুরোপুরি বন্ধ হতে দেয়নি। মঙ্গলবার থেকে যে আন্দোলন তা সম্ভবত ছিল আওয়ামী লীগ প্রযোজিত। এই আন্দোলনের নেপথ্যে কারা, কারা কি ফায়দা লুটতে চায় এবং উপাচার্যের বাড়িতে হামলার ব্লু প্রিন্ট কার? এসব প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য আন্দোলনটা চালিয়ে নেওয়া দরকার ছিল।  

দ্বিতীয় ভাগের আন্দোলনে বিএনপির আসল লক্ষ্য, তারেকের এবং অন্যান্য বিএনপি নেতাদের তৎপরতা সব নজরে আসে। ষড়যন্ত্রকারীরা প্রকাশ্য হয়ে যায়। আর তখনই প্রধানমন্ত্রী আরেকটি চ্যালেঞ্জ নেন। আরেকটি সাহসী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রী জানতেন, ভবিষ্যতে বিশেষ করে নির্বাচনের আগে বিএনপি জামাত এরকম চক্রান্ত আরও করবে। তাই এবার তিনি হাতেনাতে ধরার জন্যই বড় ঝুঁকি নিয়েছিলেন। জয় সবসময় সাহসীদের হয়। শেখ হাসিনারও জয় হলো। শেষটা এমন হলো- চোরও ধরা পড়ল, আন্দোলনও থেমে গেল।সিনেমার দৃশ্যে যেমন দেখা যায়, একটা জায়গায় টাকা রেখে ভিলেনকে ডাকা হয়। ভিলেন টাকা নিতে এসে নায়কের কাছে মার খায়।পাঠক দেখুন তো সিনেমার দৃশ্যের সঙ্গে ঘটনাটা মেলে কিনা? সরকার পতন ঘটাতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কাজ করার ষড়যন্ত্র করতে গিয়ে ধরা খেলেন ভিলেন তারেক। আন্দোলনও শেষ হলো। বিএনপি কি ভবিষ্যতে এরকম সত্যিকার আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার সাহস পাবে?



Read in English- https://bit.ly/2qpaVaK

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ