ঢাকা, সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮, ৭ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

তারেক কি বাংলাদেশের নাগরিক?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৮:০০ পিএম
তারেক কি বাংলাদেশের নাগরিক?

এতদিনে বিএনপি আনুষ্ঠানিক ভাবে কবুল করল যে, তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্যে ‘রাজনৈতিক আশ্রয়ে’ আছেন। তাহলে এতদিন যে বিএনপি দাবি করে আসছিল, তারেক জিয়া যুক্তরাজ্যে চিকিৎসার জন্য অবস্থান করছেন, তা অসত্য। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কি এখন জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন? তিনি তারেক জিয়ার জমাকৃত পাসপোর্ট দেখতে চেয়েছিলেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যখন পাসপোর্ট জাতির সামনে উপস্থাপন করলেন, তখন তা লুকাতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রীর ফেসবুকই হ্যাক করা হলো। এটা থেকেই বোঝা যায়, তারেক জিয়া এবং বিএনপির আসল চরিত্র। সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বলাই বিএনপির রাজনীতির মূল দর্শন। বিএনপি প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই এটা করছে। বিএনপির এক নেতা চায়ের আড্ডায় বলছিলেন, তারেক সাহেব যে কোন কথাটা সত্য বলেন, তা বের করা দুষ্কর।’ জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বানানো, খালেদা জিয়ার জন্মদিন এবং সর্বশেষ তারেক জিয়ার পাসপোর্ট সমর্পণের মধ্যে দিয়ে একটি বিষয় জাতির সামনে পরিষ্কার, তাহলো বিএনপির একটি বিষয়ই সত্য তা হলো স্মার্টলি মিথ্যাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা।

এখন আসা যাক দ্বিতীয় প্রশ্নে, তারেক জিয়া কি বাংলাদেশের নাগরিক? তারেক জিয়া জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক নন। তাঁর জন্ম পাকিস্তানের করাচিতে। তিনি পৈতৃক সূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। প্রশ্ন হলো, একজন নাগরিক যদি তাঁর দেশের পরিচয়পত্র ‘সারেন্ডার’ করেন তখন কি তিনি আর ওই দেশের নাগরিক থাকেন? এই প্রশ্নের উত্তরের দুটি দিক রয়েছে। প্রথমত: নৈতিক দিক এবং দ্বিতীয়ত: আইনগত দিক।

তাঁর আগে বলে রাখা ভালো, তারেক জিয়ার নামে কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। তিনি কোনো ভোটার পরিচয়পত্রও গ্রহণ করেননি। সর্বশেষ ভোটার তালিকায় তাঁর নামও অন্তর্ভুক্ত নয়। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তাঁর শেষ পরিচয় তাঁর পাসপোর্ট তিনি ব্রিটিশ সরকারে কাছে জমা দিয়ে ‘রিফিউজি’ হিসেবে যুক্তরাজ্যে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। রিফিউজি মানে হলো ‘হোম লেস’ যাঁর নিজের কোনো দেশ নেই। আর তারেক জিয়া তো রোহিঙ্গা নন, জোর করে তাঁকে ঠেলে লন্ডনে পাঠানো হয়েছে। তিনি স্বেচ্ছায় লন্ডনে গেছেন। স্বেচ্ছায় ‘রাজনৈতিক আশ্রয়’ নিয়েছেন। যখনই ব্রিটিশ সরকার তাঁকে আশ্রয় দিয়েছে তখনই তাঁর বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আপনা আপনি স্থগিত হয়ে গেছে। কারণ নাগরিক হলে তাঁর বৈধ ভিসা লাগবে। ভিসার মেয়াদ শেষ হলে তা বাড়াতে হবে। তাই নৈতিক দিক থেকে বিবেচনা করলে, তারেক জিয়া স্বেচ্ছায় তাঁর নাগরিকত্ব আত্মসমর্পণ করেছেন।

এবার আসা যাক আইনগত দিক। বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, নাগরিকত্বের দুটি দিক আছে। এক, নাগরিকত্বের প্রমাণ। পাসপোর্ট, ভোটার আইডি ইত্যাদি হলো নাগরিকত্বের প্রমাণ। আজ বাংলাদেশের পথে ঘাটে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে মোবাইলের সিম। বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে বয়স্ক ভাতা সর্বত্রই নাগরিকত্বের একটা প্রমাণ লাগে। এই মুহূর্তে কি তারেক নাগরিকত্বের কোনো প্রমাণ দিতে পারবেন? যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনেক শাখা আছে। তারেক জিয়া কি এই মুহূর্তে কোনো বাংলাদেশি ব্যাংকে নিজ নামে অ্যাকাউন্ট করতে পারবেন? পারবেন না। অর্থাৎ এই মুহূর্তে তারেক জিয়ার হাতে নাগরিকত্বের কোনো বৈধ আইনগত প্রমাণপত্র নেই।

তবে, যেহেতু তারেক জিয়া পৈত্রিক সূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি চাইলে তাঁর নাগরিকত্ব পুনর্জীবিত করতে পারবেন। সে জন্য তাঁকে আবেদন করতে হবে বাংলাদেশ সরকারের কাছেই। রাষ্ট্রের প্রতি তাঁকে আনুগত্য প্রকাশ করতে হবে। সেটা করে ১৭ বছরের কারাদণ্ড মাথায় নিয়ে তারেক জিয়া কি স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে এসে বলতে পারবেন ‘প্রথম বাংলাদেশে আমার শেষ বাংলাদেশ?’ না পারলে কাপুরুষ রিফিউজি হিসেবেই তিনি পরিচিত হবেন, যার কোনো দেশ নাই, ঠিকানাও নাই।




Read In English: https://bit.ly/2HXAg34


বাংলা ইনসাইডার/জেডএ 

বিষয়: তারেক-জিয়া