ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘দেশের মানুষ পেট ভরে খেতে পারাই আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০ মে ২০১৮ বুধবার, ০৬:৪৬ পিএম
‘দেশের মানুষ পেট ভরে খেতে পারাই আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার’

নোবেল পুরস্কারের নাম প্রস্তাব পাঠানো প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি লবিং করে পুস্কার পাওয়ার পক্ষে নই। প্রস্তাবও পাঠানোর পক্ষে নই। আমার সেই টাকাও নাই। তবে বহুবার বহুদেশ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আমার কাছে সব চেয়ে বড় পুরস্কার হলো আমার দেশের মানুষকে দু বেলা পেট ভরে খেতে দিতে পারলাম কি না তাঁরা শান্তিতে থাকতে পারল কি না সেটাই বড় কথা।’

আজ বুধবার বিকাল ৪টায় গণভবনে সাম্প্রতিক ভারত সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেছেন, ‘তাঁরাও (বিএনপি) তো কম যায় নাই। খালেদা জিয়া কি ভারতে যায় নাই, জিয়াউর রহমান কি ভারতে যায় নাই। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করার দুই বছরের মধ্যেই ভারতে গেছেন। আজকে তাঁরা তিস্তার পানি পানি করে। বিএনপি নেতারা কি ভুলে গেছে উনাদের নেতা ভারতে গিয়ে গঙ্গার পানির নায্য হিস্যা চাইতে ভুলে গিয়েছিলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ৬৮ বছরের সমস্যার সমাধান করেছি।’

যুক্তফ্রন্ট দলটি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিন্দু বিন্দু মিলেই সিন্ধু হয়। ছোট ছোট দল মিলে জোট হচ্ছে ভালো কথা। তবে জিরো প্লাস জিরো ইকুয়ালটু জিরো।’

ভারতের সঙ্গে পানিবন্টন চুক্তি নিয়ে একজন সাংবাদিক বিএনপির সমালোচনার কথা তুললে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘কেউ কেউ বলেছে এক বালতি পানিও নাকি আনা হয়নি। রিজভীর জন্য এক বালতি পাঠাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী একজন নেতাকে রিজভীকে এক বালতি পানি পাঠানোর নির্দেশও দেন।’

জাতীয় সরকার গঠনের প্রশ্নে বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন হ্যাঁ না ভোট করেছিলেন তখন তিনি (বদরুদ্দোজা চৌধুরী) কোথায় ছিলেন। জিয়াউর রহমান যখন রাস্তড়পতি নির্বাচন করেছিল সেই নির্বাচন কেমন ছিল। যে দল তাঁকে রেললাইনের নিচে দিয়ে দাবড়ানি দিলো, তিনি পালালেন। সেই দলের নেত্রীকে মুক্তির দাবি জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, `মেরেছো কলসির কানা তাই বলে কি প্রেম দেব না’

বাংলাদেশ তিস্তা পানি চুক্তির জন্য ভারতের উপর বিশ্বাস করে বসে নেই এমন তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমি কোন কিছুতে কারও ওপরই ভরসা করে চলি না। আমার দেশের পানির ব্যবস্থা কীভাবে করতে হবে আমি সেটা করে যাচ্ছি। নদী ড্রেজিং করছি। জলাধার তৈরি, পুকুর খনন করছি। পানি যাতে ধরে রাখা যায়, সেই ব্যবস্থাও করছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়াই বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তো দুরের কথা বিরোধী দলের নেতাও হতে পারব না। তারপরেই ২১ শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা, কোটালী পাড়ায় ৭৬ কেজি বোমা পোতা হয়েছে। এখন রাখে আল্লাহ মারে কে আর মারে আল্লাহ রাখে কে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেছেন, ‘আমি সব পত্রিকা পড়ি। দুইটা বাদে সব পত্রিকা আমি পড়ি। সব বিষয়ই খেয়াল রাখি।’

মাদক বিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। এই অভিযান চলবে। আমি যখন ধরি তখন ভালো করেই ধরি।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারাই পত্রিকায় বড় বড় করে লিখেছেন মাদকে দেশ একাকার, এখন মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে আবার আপনারাই প্রশ্ন তুলছেন। আপনারা কাকে গডফাদার বলছেন সেটা আমি জানি না। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সমাজে এখন শান্তি ফিরে এসেছে। সব গণমাধ্যমে অভিযানে নিহতের কথা বলে। কিন্তু ১০ হাজার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হয়েছে। আইনের আওতায় এসেছে। কিন্তু কোনো গণমাধ্যমে এ তথ্য নেই। আপনারা বলেন তাহলে মাদকের বিরুদ্ধে, ভেজালের বিরুদ্ধে সব অভিযান বন্ধ করে দেই তাহলে কি সমাজ ভাল থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী এসময় আরও বলেন, ‘নির্বাচন কালীন সময়ে দেশে সংবিধান আছে সেই অনুযায়ীই নির্বাচন হবে। নির্বাচনতো আর আমি করব না করবে নির্বাচন কমিশন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশ থেকে ফিরে আসার পর সফরের বিষয়বস্তু বরাবরই আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানান।’

ভারত সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন হলেও সমসাময়িক দেশ ও রাজনীতির অনেক বিষয় সংবাদ সম্মেলনে চলে আসে।

বাংলা ইনসাইডার/ আরকে/ জেডএ