ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ডিসিদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৫:৫০ পিএম
ডিসিদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

সুশাসন নিশ্চিত করতে ও প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ২৩টি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদাণকালে তিনি এ সকল নির্দেশনা দেন।

জেলা প্রশাসক বা ডিসিদের প্রধানমন্ত্রী যে সকল নির্দেশনা দিয়েছেন তার মধ্যে তৃণমূলে সেবা পৌঁছে দেওয়া, মাদক নিয়ন্ত্রণ, জঙ্গিবাদ দমন, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১. ডিসিদের সরকারি দপ্তরগুলোর বিদ্যমান সকল সেবা তৃণমূলে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে তথ্য মেলা, সেবাসপ্তাহ পালনসহ ইত্যাদি কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

২. সরকারি সেবা পেতে সাধারণ মানুষ যাতে কোনোভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হন, ডিসিদের সেদিকে কঠোর দৃষ্টি রাখতে হবে।

৩. তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করতে হবে। মাঠ পর্যায়ে গিয়ে জনগণের কথা শোনার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

৪. গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সম্ভাবনাময় স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে উদ্যোগী হতে হবে। দেশীয় সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে জোর দেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। আর কীভাবে তা সম্ভব ডিসিদের তা ভাবার নির্দেশনা দেন তিনি।

৫. দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ থাকা থেকে রক্ষা করতে হবে। এই উদ্দেশ্যে মাদকবিরোধী অভিযান চলবে।

৬. জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করে সারা দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে।

৭. শিল্পাঞ্চলে শান্তি রক্ষা, পণ্য পরিবহন ও আমদানি-রফতানি নির্বিঘ্ন করতে ডিসিদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পেশিশক্তি ও সন্ত্রাস নির্মূল করার ব্যবস্থা গ্রহণ করার কোথাও বলেছেন তিনি। এক্ষেত্রে অপরাধীদের দলীয় পরিচয় বিবেচনা করার নির্দেশে দিয়েছেন তিনি ডিসিদের।

৮. শিক্ষার সব স্তরে নারী শিক্ষার হার বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে ডিসিদের। এছাড়া ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

৯. ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। এছাড়া সরকারি ভূমি রক্ষায় সর্বদা দৃষ্টি রাখতে হবে।

১০. কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় সকল উপাদান অর্থাৎ সার, বীজ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ইত্যাদির সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে হবে।

১১. দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম আরও জোরদার করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে ডিসিদের।

১২. ভেজাল খাদ্যদ্রব্য বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করতে হবে।

১৩. আদালতে মামলার জট কমানোর উদ্দেশ্যে এবং সাধারণ মানুষকে যাতে সহজে সুবিচার দেওয়া যায় সেই উদ্দেশ্যে গ্রাম আদালতগুলোকে কার্যকর করতে হবে।

১৪. পরিবেশ রক্ষায়ও কাজ করতে হবে ডিসিদের। এই উদ্দেশ্যে জনসচেতনতা বাড়াতে এবং এই বিষয়ে আইন ও বিধি-বিধানের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

১৫. প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয় প্রশমনে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২’ এর প্রয়োগ করতে হবে এবং এ সংক্রান্ত স্থায়ী নির্দেশনাবলী অনুসারে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

১৬. বাজার ব্যবস্থার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের প্রতি গুরুত্বারোপ করতে ডিসিদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করার কথা বলেছেন তিনি।

১৭. সমাজের প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

১৮. নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে এবং নারী ও শিশু পাচার, যৌতুক, ইভটিজিং এবং বাল্যবিয়ের মতো সামাজিক সমস্যার রোধে ডিসিদের নিজ নিজ জেলায় নজরদারি বাড়াতে হবে।

১৯. নারী নির্যাতন বন্ধে নারীর প্রতি সহিংসতা, নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

২০. ডিসিরা জেলা পর্যায়ে যেসব কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সেসব কমিটিকে সক্রিয়, গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে হবে।

২১. দেশের সকল পার্বত্য জেলার ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, বনাঞ্চল, নদী-জলাশয়, প্রাণিসম্পদ এবং গিরিশৃঙ্গগুলোর সৌন্দর্য সংরক্ষণ করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

২২. ডিসিদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশে নেতৃত্ব দিতে হবে।

২৩. ডিসিদের সবাইকে নিজ নিজ জেলায় ক্রীড়া, বিনোদন ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়াতে হবে। বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে জেলার শিশু-কিশোরদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংস্কৃতিবোধ ও বিজ্ঞানমনস্কতা জাগিয়ে তুলতে হবে।

সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী নিজ কার্যালয়ের শাপলা মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০১৮ উদ্বোধন করেন।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ

বিষয়: 22811 , 22806 , 22819 , 22807 , 22803 , 22659