ঢাকা, সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

প্রচারণা শেষে সুনসান নীরবতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০১৮ রবিবার, ০২:০৯ পিএম
প্রচারণা শেষে সুনসান নীরবতা

তিন সিটিতে গতকাল মধ্যরাত থেকে শেষ হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা। এখন অপেক্ষা শুধু ভোট গ্রহণের। ভোট গ্রহণের সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। টানা ১৮ দিনের প্রচার-প্রচারণা-মাইকিং-পথসভা-অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের সমাপ্তি ঘটেছে গতকাল রাতে। রোববার সকাল থেকে তাই এ তিন সিটিতে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। তিন সিটিতেই মোতায়ান করা হয়েছে বিজিবি। প্রচারণা বন্ধ থাকলেও কৌশলে কোনো কোনো প্রার্থী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ আছে।  

রাজশাহী

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, ভোটের আগে ও পরে তিন দিন সমগ্র নগরীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হবে। এর অংশ হিসেবে নগরীর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ভোটকেন্দ্র ঘিরেও থাকছে তিন স্তরের নিরাপত্তা। সাদা পোশাকেও থাকবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যারা। আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা নেই। পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তারা ভোটারদের আতঙ্কিত না হতে পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে নগরীতে ১৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আরও চার প্লাটুন রিজার্ভ রাখা হয়েছে।  

রাজশাহী সিটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। ১৩৮টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১১৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রাজশাহী সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সাবেক দুই মেয়রসহ ৫ প্রার্থী। সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৬০ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাাউন্সিলর পদে ৫২ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন।   

সিলেট

সিলেট সিটিতে নির্বাচন উপলক্ষে ১৪ প্লাটুন বিজিবি, র‍্যাবের ২৭টি টিম থাকছে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ২২ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। ১৩৪টি ভোট কেন্দ্রে ২৯৪৮ জন পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।

গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ২ জন করে অতিরিক্ত (অস্ত্রসহ) ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও ৯টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোবাইল টিম ৯টি, ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনের মাঠে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকবেন।

সিলেট সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে ছয়জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৩৪ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৬২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সিলেট সিটি নির্বাচনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন।

বরিশাল

বরিশাল সিটি নির্বাচনে ১২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫০টি কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ন (ঝুঁকিপূর্ণ) এবং ৬২টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ, এছাড়া ১১টি কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ, এপিবিএন, আনসার বাহিনী নিয়ে ১৪ জন সশস্ত্রসহ মোট ২৪ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্বরত থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্রে ১২ জন সশস্ত্র পুলিশ, এপিবিএন ও আনসারসহ মোট ২২ জন সদস্য দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়ও পুলিশের একাধিক দলকে টহল  দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রিজার্ভ এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বরিশাল সিটিতে ১৯ প্লাটুন বিজিবি ছাড়াও র‍্যাবের ৩৫টি টহল দল ও সাদা পোশাকধারীসহ প্রায় সাড়ে ৩শ সদস্য নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন।

এবার বরিশাল সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে ৬ জন, সাধারণ কাউন্সিলর হিসেবে ৯৪ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করছে জয়ের লক্ষে। বরিশাল সিটিতে মোট ভোটার ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন।

আগামীকাল ৩০ জুলাই ভোটগ্রহণ উপলক্ষে আজ যেন সবকিছুই থমকে আছে এই তিন সিটিতে। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে তিন সিটি এলাকা। র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবির টহল টিম টহল দিচ্ছে একটু পরপর। তিন সিটিতেই দেখা যায় অন্যান্য দিনের থেকে অনেকটাই জনমানবহীন ফাঁকা। ইতিমধ্যে এই তিন সিটি থেকে বহিরাগতরা চলে গিয়েছেন। এছাড়া নির্বাচনি এলাকায় মোটরসাইকেল ও যানবাহন চলাচলে দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। সবকিছু মিলিয়ে ব্যাস্ততম রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটিতে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা।

বাংলাইনসাইডার/আরকে/জেডএ