ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ৯ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্ট আইন পাশে কী পরিবর্তন হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০১৮ সোমবার, ০৩:৫৬ পিএম
কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্ট আইন পাশে কী পরিবর্তন হবে?

সর্বস্তরের জনগণের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্ট আইন মন্ত্রিসভায় পাশ হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এই আইন পাশের প্রস্তাব উঠলে মন্ত্রিসভার সদস্যরা এতে সম্মতি দেন। জানা গেছে, ট্রাস্টের একটি উপদেষ্টা পরিষদ থাকবে যার সভাপতি হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় এসেই দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমিউনিটি ক্লিনিকের রূপরেখা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট সরকার ক্ষমতায়ে এসেই এই প্রকল্প বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পের কার্যক্রম দ্বিতীয়বারের মতো শুরু করে। তখন প্রকল্পটি শুরু হয় ‘রিভাইটালাইজেশন অব কমিউনিটি হেলথ কেয়ার ইনিশিয়েটিভস ইন বাংলাদেশ’ বা সংক্ষেপে ‘কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প’ নামে।

কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম প্রত্যাশা অনুযায়ী চলছিল না। এর কারণ চাকরির বিভিন্ন অসুবিধার কারণে কমিউনিটি ক্লিনিকের চাকরিতে কেউ স্থায়ী হচ্ছিল না। আগে কমিউনিটি ক্লিনিকের চাকরিতে পেনশনের ব্যবস্থা ছিল না, বেতন-ভাতাও অনিয়মিত ছিল। এসব অসুবিধার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকে কাজ করার জন্য যাদের হেলথ প্রোভাইডার বা অন্য কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হত, তাঁরা এক সময় এই চাকরি ছেড়ে অন্যান্য পেশায় চলে যেত। কমিউনিটি ক্লিনিকে কোনো ভবিষ্যৎ দেখতে না পাওয়ায় এই কর্মীরা কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ায় ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

কিন্তু সদ্য পাশ হওয়া খসড়া আইনে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ার (সিবিএইচসি) প্রকল্পে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)পদে নতুন করে যাঁরা চাকরিতে যোগদান করবেন তাঁদের চাকরিও স্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ হবে। আর আগে যাঁরা চাকরিতে প্রবেশ করেছেন তাঁরা জ্যেষ্ঠতা পাবেন। এর ফলে চাকরির অনিশ্চয়তা দূর হবে এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরতদের বেতন-ভাতা প্রভৃতির সমস্যারও সমাধান হবে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে দেশের স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করছেন, এতে করে মাঝপথে কমিউনিটি ক্লিনিকের চাকরি ছেড়ে যাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পাবে। অর্থ্যাৎ এই আইন পাশের ফলে শেখ হাসিনার স্বপ্নের কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম কোনো বাধা ছাড়াই সচল থাকবে এমন সম্ভাবনা তৈরি হলো।


বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ