ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ২৯ চৈত্র ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘দুঃখ একটাই, আমি জিয়ার বিচার করতে পারলাম না’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ আগস্ট ২০১৮ বুধবার, ০৭:৫৮ পিএম
‘দুঃখ একটাই, আমি জিয়ার বিচার করতে পারলাম না’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘৭৫ এর পর আমাকে আর রেহানাকে দেশে আসতে দেওয়া হয় নাই। রেহানার পাসপোর্টটাও নবায়ন করেনি জিয়াউর রহমান। আওয়ামী লীগ যখন আমাকে সভাপতি নির্বাচন করে, আমি তখন জোর করে দেশে ফিরে আসি। আমাকে বাড়ীতে ঢুকতে দেওয়া হয় নাই। বাড়ির দরজায় তালা দেওয়া ছিল। রাস্তার উপরে বসে আমি ও রেহানা এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দোয়া ও মিলাদ করেছিলাম বাবা-মা, ভাই-বোনদের জন্য। বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে জাতির পিতার নাম মুছে ফেলা হয়েছিল। নিষিদ্ধ করা হয়েছিল জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণ। কিন্তু ইতিসাহকে কেউ মুছে ফেলতে পারে না। সত্যকে কেউ চাঁপা রাখতে পারে না। জিয়ার যা পরিণতি হয়েছিল তা অবধারিত ছিল। আমার দুঃখ একটাই আমি জিয়ার বিচার করতে পারলাম না, তাঁর আগেই আগেই সে মারা গেল।

আজ বুধবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে ধানমন্ডিতে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠানের বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্নেল ফারুক ও রশিদ ‘বিবিসি’র এক সাক্ষাৎকারে বলেছিল, তারাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। অ্যান্থনি মাসকারেনহাস সেই সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমরা কেন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছো? তখন বঙ্গবন্ধুর খুনিরা বলেন, বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তা কমানোর জন্য তাঁরা অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু কিছুতেই জনপ্রিয়তা কমানো যায় নাই। তাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা ছাড়া তাঁদের নাকি আর কোন পথ ছিল না। খুনিরা এটাও বলেন তাঁদের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের সম্পর্ক ছিল। তাঁরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার বিষয়টি জানালে জিয়াউর রহমান বলেন এগিয়ে যাও। আমি তোমারদের সফলতা কামনা করছি।’

এসময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘জিয়াউর রহমান সায়েম সাহেবকে বঙ্গভবনে অস্ত্র ঠেকিয়ে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে ইতিহাস বিকৃতি করা শুরু করেন। ৭৫ এর পর বাংলাদেশে একের পর এক ক্যু ও হত্যা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নস্যাৎ করা হয়। ৭৫ এর পর বাংলাদেশে ১৯ টা ক্যু হয়েছিল। সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর বহু অফিসারকে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধা বহু অফিসারকে হত্যা করা হয়েছিল।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এদেশের নির্বাচনের প্রক্রিয়া ধ্বংস ও দুর্নীতির প্রতিষ্ঠা করা, ঋণ খেলাপি সৃষ্টি করা, এই সমস্ত অপকর্মগুলো জিয়াউর রহমান শুরু করে গেছেন। শুধু তাই না জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার করা যাবে না ইনডেমনিটি আইনের মাধ্যমে এই আইন পাশ করে গিয়েছে। জাতির পিতার আত্ম-স্বীকৃত খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিল জিয়া। আমরা ক্ষমতায় এসে জাতির পিতার হত্যার বিচার করেছি।’   

দেশবাসীকে ধন্যবাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও দেশবাসী ধন্যবাদ জানাই, তাঁরা আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনে জাতির পিতার খুনিদের বিচার করার সুযোগ করে দিয়েছে। আজকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। একেকটা অর্জন যখন হয়, তখন একটা কথাই বার বার মনে হয়। আমার আব্বা-মা বেহেস্ত থেকে হয়ত দেখতে পাচ্ছে তাঁর বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমার উপর বারবার আঘাত করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও করা হবে, তবে আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না।’ 

বাংলাইনসাইডার/আরকে