ঢাকা, রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সড়ক পরিবহনের নতুন আইনে যা আছে

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ আগস্ট ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ১২:৪৮ পিএম
সড়ক পরিবহনের নতুন আইনে যা আছে

এবার ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার শর্ত। সেই সঙ্গে ফোন কানে নিয়ে গাড়ি চালালেও থাকছে শাস্তি। এমন নতুন কিছু বিধান যুক্ত ও শাস্তি বৃদ্ধি করে আসছে সড়ক পরিবহন আইন। সরকার ১৯৮৩ সালে সামরিক সরকারের সময়ে জারি করা ‘দ্য মোটর ভেহিক্যাল অর্ডিনেন্স’ (মোটরযান অধ্যাদেশ)টি আদালতের নির্দেশে পরিবর্তন করে সড়ক পরিবহন আইন নামে পাস করতে যাচ্ছে।

গতকাল বুধবার আইনটির ভেটিং সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। নতুন আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্সপ্রাপ্তি থেকে শুরু করে গাড়ি ড্রাইভিং-এর ক্ষেত্রে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন আইনে যা আছে

১) আগের আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে চালকের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনও শর্ত ছিল না। কিন্তু নতুন আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে চালককে কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে।

২) চালকের সহকারীর কমপক্ষে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া থাকতে হবে। সেইসঙ্গে সহকারীর বাধ্যতামূলকভাবে লাইসেন্স থাকতে হবে।

৩) গাড়ি চালনার জন্য চালকের বয়স আগের মতোই কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। আর পেশাদার চালকদের বয়স হতে হবে কমপক্ষে ২১ বছর।

৪) আগের আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে তিন মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান ছিল। কিন্তু নতুন আইনে এ অপরাধের জন্য অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ড দেওয়া যাবে।

৫) নতুন আইনের খসড়ায় চালকের সহকারীর লাইসেন্স না থাকলে এক মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। 

৬) কেউ গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে নতুন আইনের খসড়ায় এক মাসের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার বিধান করা হয়েছে।

৭) নতুন আইনের খসড়ায় ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে যেসব ক্ষেত্রে এমন অপরাধে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় চালকদের গ্রেপ্তার করতে পারবে।

৮) চালকদের জন্য প্রস্তাবিত আইনে পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে।

৯) আগের অধ্যাদেশে জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহারের জন্য ২ বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান থাকলেও নতুন আইনে ২ বছরের কারাদণ্ড বা ৩ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

১০) দুর্ঘটনার জন্য দণ্ডবিধিতে তিন রকমের বিধান আছে। নরহত্যা হলে ৩০২ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের সাজা হবে। খুন না হলে ৩০৪ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটালে ৩০৪ (বি) ধারা অনুযায়ী ৩ বছরের কারাদণ্ড হবে। সেই সাথে দুর্ঘটনায় না পড়লেও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর জন্য আইনে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে নতুন আইনে।

১১) এক্সেল বা ওজনসীমা অতিক্রম (৫ টন ধারণক্ষমতার ট্রাক এর থেকে বেশি ওজন পরিবহন ) করলে গাড়ির মালিক ও চালককে ৩ বছরের কারাদণ্ড বা তিন লাখ টাকা জরিমানার বিধান করা হয়েছে।

বিভিন্ন দেশে চালকদের পয়েন্ট কাঁটার সিস্টেম আছে। ড্রাইভার যদি একবার দোষ করেন তাহলে একটা বা দুইটা পয়েন্ট কাটা হতে থাকে। এভাবে পয়েন্ট নিল (শূন্য) হয়ে গেলে ওই চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল হয়ে যায়। নতুন আইনে এমন বিধান রাখা হয়েছে। নতুন আইনে চালকদের জন্য মোট ১২ পয়েন্ট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এছাড়াও মোটরযান চলাচলে সাধারণ নির্দেশাবলী নামে একটি নতুন ধারায় ২৫টি নির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে। সিট বেল্ট না বেঁধে গাড়ি চালানো, মহিলা, শিশু, প্রতিবন্ধী এবং বয়োজ্যেষ্ঠ যাত্রীর জন্য সংরক্ষিত আসনে অন্য কোনও যাত্রী বসলে এক মাসের কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন আইনের খসড়ায় মদ পান করে বা নেশাজতীয় দ্রব্য খেয়ে গাড়ি চালালে, সহকারীকে দিয়ে গাড়ি চালালে, উল্টো পথে গাড়ি চালালে, নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য স্থানে গাড়ি থামিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে, চালক ছাড়া মোটরসাইকেল একজনের বেশি সহযাত্রী ওঠালে, মোটর সাইকেলের চালক ও সহযাত্রীর হেলমেট না থাকলে, ছাদে যাত্রী বা পণ্য বহন করলে, সড়ক বা ফুটপাতে গাড়ি সারানোর নামে যানবাহন রেখে পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে, ফুটপাতের ওপর দিয়ে কোনও মোটরযান চলাচল করলে সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড বা ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

বাংলা ইনসাইডার/বিকে