ঢাকা, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ৫ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সড়কে বাস নেই, চরম ভোগান্তিতে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২ আগস্ট ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০১:৪৩ পিএম
সড়কে বাস নেই, চরম ভোগান্তিতে মানুষ

বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে, রাজধানীতে দেখা দিয়েছে তীব্র গণপরিবহন সংকট। গত চারদিনে বেশ কিছু বাস ভাংচুরের প্রতিবাদে নিরাপত্তার জনিত কারণের কথা বলে যানবাহন বন্ধ করে দিয়েছেন শ্রমিকরা। এর ফলে অফিসগামী জনসাধারণ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বেশির ভাগ মানুষকেই পায়ে হেঁটে বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।

পুরাণ ঢাকার বাবুবাজার ব্রিজ, সদরঘাট, তাতীবাজার, রায়সাহেব বাজার মোড় এলাকায় যাবাহন নেই বললেই চলে। হাতে গোনা কিছু বাস চলাচল করতে দেখা যায়। যে যানবাহনগুলো চলাচল করছে সেগুলোতে দেখা যায় ছিল উপচে পড়া ভিড়।

মিরপুর থেকে যে বাসগুলো গুলিস্থান, মতিঝিল ও গুলশান রুটে যাতায়াত করে সেই বাসগুলোকে আজ রাস্তায় দেখা যায় নাই। সকালে মিরপুর, কাজীপাড়া, শ্যাওড়াপাড়া, তালতলা রাস্তার পাশে গন্তব্যে যাওয়ার জন্যে শত শত মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

আগারগাঁও, বিজয়সরণী, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, কাকরাইল, শাহবাগ, গুলিস্থান, মতিঝিল, মহাখালী ও সাতরাস্তার মতো ব্যস্ততম এলাকা আজ ছিল তুলনামূলকভাবে অনেকটাই ফাঁকা।

অন্যান্য দিন বিমানব্দর গোল চত্বর এলাকায় সকালে দীর্ঘ যানজট দেখা গেলেও  বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিমানবন্দর সড়কে যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায় নাই।

মোহাম্মদপুর এলাকায় গণপরিবহণ একেবারে ছিলো না বললেই চলে। সকাল নয়টা পর মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাস ডিপোতে একটি বাসও ছিল না। এখান থেকে থেকে বিআরটিসির বাস বাড্ডা, নতুন বাজা, কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় চলাচল করে। তবে মোহাম্মদপুর বাস ডিপোর বাইরে থেকে লেগুনা ছেড়ে যায় বিভিন্ন গন্তব্যে।

যানবাহন না থাকায় রিকশা ও সিএনজিতে ইচ্ছামতো ভাড়া নেওয়া হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে। ফলে পায়ে হাটা ছাড়া বিকল্প কিছু নেই জনসাধারণের। ফুটপাথে ছিল হেঁটে রওনা হওয়া মানুষের ভিড়।

বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা আব্দুল মমিন জানান, ‘গত চার দিন ধরেই কষ্ট হচ্ছে অফিস করতে। তবুও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন করুক। সড়কে নিরাপত্তার দরকার আছে আমাদের তাই কষ্ট শিকার করতে সমস্যা নাই।’ যে কোনো ধরনের কষ্টের বিনিময়ে তিনি নিরাপদ সড়ক চান, নিরাপদে ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা চান বলেও তিনি জানান। 

গণপরিবহনের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সড়কে গণপরিবহন নামাবেন না বলে তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে ঢাকার রাস্তায় সকাল থেকেই এক ধরনের অঘোষিত ধর্মঘটের পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।    

বাংলা ইনসাইডার/আরকে