ঢাকা, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ৫ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সড়কে যানবাহন নেই, আন্দোলনকারীরাও নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০১৮ রবিবার, ১২:৪৪ পিএম
সড়কে যানবাহন নেই, আন্দোলনকারীরাও নেই

নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রতিদিন ধানমন্ডিতে অফিস করতে আসেন রহমত সাহেব। এতদিন বাসে করেই যাতায়াত করতেন। ভোর থেকেই বাস সার্ভিস চালু থাকায় কখনো সময়মতো অফিসে পৌঁছাতে সমস্যা হয়নি। কিন্তু নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের জের ধরে এক সপ্তাহ যাবৎ বাস চলাচল বন্ধ থাকায় এখন তাঁকে ট্রেনে করে চলাচল করতে হচ্ছে। ট্রেন সার্ভিস একটু বেলা করে শুরু হওয়ায় আজকাল সময়মতো অফিসে পৌঁছাতে পারছেন না তিনি। শুধু তাই নয়, কমলাপুর রেল স্টেশনে পৌঁছানোর পর দ্বিগুণ, তিনগুণ রিকশা ভাড়া দিয়ে অফিসে যেতে হতে যাচ্ছে তাঁকে। মাঝে মাঝে রিকশাও পাওয়া যায় না। তখন রহমত সাহেবকে হেঁটে হেঁটে অফিসের পথ ধরতে হয়।

শুধু রহমত সাহেবই নয়। রাজধানী ও এর আশেপাশের এলাকায় বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। বাস মালিক-চালকরা দাবি করছেন, গাড়ি ভাঙচুরের ভয়ে তাঁরা রাস্তায় গাড়ি নামাচ্ছেন না। কিন্তু শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সমর্থনকারীরা দাবি করছেন, জনগণকে জিম্মি করার উদ্দেশ্যে বাস রাস্তায় নামাচ্ছেন না বাস মালিকরা।

তবে শুধু বাসই নয়, আজ রোববার রাজধানীর রাস্তাগুলোতে আন্দোলনকারীদেরও দেখা মেলেনি। দীর্ঘ এক সপ্তাহ সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করার পর রাস্তা থেকে সরে গেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার আন্দোলনকারীরা ফেসবুকে গুজব শুনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে হামলা চালানোর পর ধানমন্ডি-ঝিগাতলা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে এসে শিক্ষার্থীরা স্বীকার করে তারা মিথ্যা তথ্য শুনে হামলা চালিয়েছিল। এবার রাজপথ থেকেই সরে গেল তারা।

গত রোববার দুই বাসের রেষারেষিতে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহণের একটি বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। এরপরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন সোমবার থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে শুরু করে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। এই প্রেক্ষাপটে ‘অঘোষিত’ পরিবহণ ধর্মঘট ডাকে পরিবহণ শ্রমিকরা। এই ধর্মঘট এখনো চলমান থাকলেও শিক্ষার্থীদেরকে আজকে আন্দোলন করতে দেখা যায়নি।


বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ