ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৪ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের জন্মবার্ষিকী আজ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০১৮ শুক্রবার, ০২:০৫ পিএম
বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের জন্মবার্ষিকী আজ

বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৪তম জন্মবার্ষিকী আজ।  ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট তৎকালীন মহকুমা শহর নড়াইলের চিত্রা নদীর পাশে সবুজ-শ্যামল ছায়া ঘেরা, পাখির কলকাকলীতে মুখরিত মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পিতার নাম মো. মেছের আলী এবং মাতার নাম মাজু বিবি। বাবা-মা আদর করে নাম রেখেছিলেন লাল মিয়া। বাবা ছিলেন দরিদ্র রাজমিস্ত্রী।

দারিদ্র্যতার মাঝে বেড়ে ওঠা সুলতান ১৯২৮ সালে নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন। স্কুলের অবসরে রাজমিস্ত্রি বাবাকে কাজে সহযোগিতা করতেন এবং মাঝে মাঝে ছবি আঁকতেন শিশু সুলতান। ১৯৩৩ সালে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রাবস্থায় জমিদার শ্যামাপ্রাসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবি এঁকে তাক লাগিয়ে দেন। মুগ্ধ হন শ্যামাপ্রাসাদসহ নড়াইলের তৎকালীন জমিদাররা। লেখাপড়া ছেড়ে ১৯৩৮ সালে কলকাতায় গিয়ে ছবি আঁকা শুরু করেন তিনি। সেসময় চিত্র সমালোচক শাহেদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সোহরাওয়ার্দীর সুপারিশে অ্যাকাডেমিক যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ১৯৪১ সালে কলকাতা আর্ট স্কুলে ভর্তির সুযোগ পান এসএম সুলতান। ১৯৪৪ সালে আর্ট স্কুল ছেড়ে ঘুরে বেড়ান এখানে-সেখানে।

১৯৪৫-৪৬ সালে ভারতের শিমলায় তার প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী হয়। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বোন ফাতিমা জিন্নাহ ১৯৪৮ সালে লাহোরে সুলতানের চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। ১৯৫০ সালে চিত্রশিল্পীদের আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে পাকিস্তান সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদানের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। এরপর ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের একক ও যৌথ চিত্র প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন।

পাবলো পিকাসো, সালভেদর দালি, পল ক্লীসহ খ্যাতিমান শিল্পীদের ছবির পাশে সুলতানই এশিয়ার একমাত্র শিল্পী যার ছবি এসব প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হবার সুযোগ লাভ করে। ১৯৫৩ সালে নড়াইলে ফিরে আসেন সুলতান। শিশু-কিশোরদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি চারুকলা শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের ১০ জুলাই নড়াইলে ‘দি ইনস্টিটিউট অব ফাইন আর্ট’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৭ সালে স্থপন করেন ‘শিশুস্বর্গ’।

শিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে ১৯৮২ সালে শিল্পী এসএম সুলতান পেয়েছেন একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক, ১৯৮৪ সালে রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননাসহ ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা।

দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্টে ভোগার পর ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। প্রিয় জন্মভূমি নড়াইলের কুড়িগ্রামের নিজ বাড়ির আঙিনায় তাঁকে শায়িত করা হয়।

তাঁর স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য তাঁর মৃত্যুর পর সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিল্পীর বাসভবন সংলগ্ন দুই একর ৫৭ শতক জমির ওপর নির্মিত হয়েছে এসএম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা। ২০০৯ সালে স্থাপন করা হয় এসএম সুলতান আর্ট কলেজ, বর্তমানে এটি এসএম সুলতান বেঙ্গল চারুকলা মহাবিদ্যালয় নামে পরিচিত।

এসএম সুলতানের স্মৃতিতে গত বুধবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ট্যুরিজম বোর্ডের অর্থায়নে চিত্রা নদীতে শিল্পী এসএম সুলতানের ঘাট বাঁধানো ও নৌকা সংরক্ষণ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা।

এসএম সুলতানের ৯৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সুলতান সংগ্রহশালা চত্বরে আজ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কোরআন পাঠ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, শিল্পীর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা, শিশুস্বর্গ মিলনায়তনে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও পুরস্কার বিতরণ।

বাংলা ইনসাইডার/বিকে