ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

গাবতলীর হাটে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০১৮ সোমবার, ১০:৩৪ এএম
গাবতলীর হাটে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য

রাজধানীর অন্যতম প্রধান কোরবানির পশু বেচা-কেনার হাট গাবতলী। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা ভোগান্তি সত্ত্বেও গরু ব্যবসায়ী ও খামারিরা একটু লাভের আশায় গাবতলীতে আসে পশু বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে। কোরবানির পশু বিক্রয়ের সঙ্গে তাদের জীবন ও জীবিকা জড়িত। কিন্তু গাবতলীর হাটে ঢোকা মাত্র গরুর খামারি ও ব্যবসায়ীদের নানা ধরনের হয়রানি, ভোগান্তি এবং চাঁদাবাজির শিকার হতে হয়।

গাবতলীর হাটে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গরু বাঁধার জন্য হাট কর্তৃপক্ষ যে স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সেই স্থানে খুঁটিতে গরু বাঁধার জন্য প্রতিটি গরু বাবদ দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। গরুর আকার অনুযায়ী টাকার পরিমাণ ক্ষেত্র বিশেষে আরও বেড়ে যায়। এখানে লক্ষণীয় যে একটি খুঁটি থেকে আরেকটি খুঁটির দূরত্ব অনেক কম। একটি গরুর শরীরের সঙ্গে আরেকটি গরুর শরীর প্রায় লেগে থাকে। একারণে আমাদের দেশি ছোট-মাঝারী গরুর কোন সমস্যা না হলেও, বিদেশী জাতের বড় গরুগুলোর গরমে অবস্থা কাহিল হয়ে যায়। 

বিদেশি জাতের বড় গরুগুলো অনেক বেশি স্পর্শকাতর। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার ফ্রিজিয়ান জাতের গরুগুলো গরম একেবারে সহ্য করতে পারে না। খামারিরা এই জাতের গরুর লালন পালনে সার্বক্ষণিক ফ্যানের ব্যবস্থা রাখেন। কিন্তু গাবতলীর হাটে দেখা যায় এই জাতের গরুগুলো গরমে হাঁসফাঁস করছে। অনেককেই আবার গরুকে হাত পাখা দিয়ে বাতাস দিতেও দেখা যায়। হাত পাখা দিয়ে গরুকে বাতাস করা এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ‘একটি ফ্যানের শুধুমাত্র বিদ্যুতের সংযোগ বাবদ সাতশ টাকা দিতে হয়। ফ্যান ও বিদ্যুতের তার নিজস্ব।’

কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানার হালসা গ্রামের একজন খামারি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কুষ্টিয়া থেকে এখানে এসে আমাদের নানা ধরণের হয়রানি পোহাতে হচ্ছে। এখানে শুধু মাত্র বাল্ব জালানো হয়। ফ্যান লাগাতে চাইছি কিন্তু তার জন্যে সাতশ টাকা দিতে হবে। বিদ্যুতের তার ও ফ্যান নিজেদের। গরমে আমার এই দশ লাখ টাকার গরুর যদি কোন কিছু হয়ে যায়, তাহলে এর দায়িত্ব কে নেবে? এছাড়াও গরুকে গোসল করাতে গেলে আগে পঞ্চাশ টাকা নিলেও এখন একশ টাকা করে নিচ্ছে। আমরা যদি ওয়াসরুমে যাই তার জন্যে দশ টাকা দিতে হয়। সকালে হাতমুখ ধুতেও পাঁচ টাকা করে দেওয়া লাগে। গরুর খাওয়ানোর জন্য এক কলস পানি কিনতে হয় দশ টাকা দিয়ে। আমারা এখানে গরু নিয়ে এসে অনেক কষ্ট ও হয়রানির শিকার হচ্ছি। আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নাই।’ 

তের বছর ধরে গরুর খামার ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আলমডাঙ্গার আঠার খাদার একজন খামারি এবারে ছোট বড় ২০ টি গরু এনেছেন গাবতলির হাটে বিক্রির জন্যে। তার সঙ্গে কথা বললে তিনি অভিযোগ করে বলেন, গরুর বাঁধার যে খুঁটি, তার জায়গা অনেক ছোট। ছোট গরুর জায়গা হলেও বড়গুলোর জন্য এত কম জায়গায় হয় না। ২০ টার গরুর জন্য আশি হাজার টাকা দিতে হয়েছে। খুঁটি প্রতি এই টাকা অনেক বেশি, তার পরেও আমাদের কষ্টের কোন শেষ নাই।

এই খামারি আরও বলেন, গরমে গরুর সমস্যা হয় তাই আমি বাড়ি থেকে একটি ফ্যান নিয়ে আসছি, কিন্তু ফ্যানের লাইন নিতে আটশ টাকা দিতে হয়েছে। আর ওনারা ফ্যান দিলে প্রতিদিন তিনশ টাকা করে ভাড়া দিতে হয়। এর সাথে আরও সাত-আটশ টাকা ফ্যানের লাইন টানার জন্য দিতে হয়।’

গরুর ব্যবসায়ী ও খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গরুর খুঁটি প্রতি যে টাকা নেওয়া হয় তাদের কাছ থেকে, তার জন্য কোন কাগজপত্র বা রশিদ দেওয়া হয় না তাদের। ব্যবসায়ীদের দাবি গাবতলীর হাট থেকে যেন অচিরেই এইসব যাবতীয় অনিয়ম বন্ধ করতে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অন্যথায় ব্যবসায়ীরা পরের বছর থেকে গাবতলির হাটে আর কোরবানির পশু বিক্রয় করতে আসবেন না বলেও জানান। এই বিষয়ে কথা বলার জন্য হাট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কয়েকবার চেষ্টা করেও কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় নাই।    

বাংলা ইনসাইডার/আরকে