ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আনিসুল হক নেই, কোরবানির নিয়মের প্রচারণা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০১৮ সোমবার, ০২:০৪ পিএম
আনিসুল হক নেই, কোরবানির নিয়মের প্রচারণা নেই

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়ে ২০১৫ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন আনিসুল হক। মেয়র হয়ে আসার পরপরই বেশ কিছু উদ্যোগ নেন তিনি। তাঁর উদ্যোগেই নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি করার ব্যবস্থা গ্রহণ হয়। তাঁর মেয়র থাকা অবস্থাতেই প্রথম নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ম মেনে কোরবানির কথা প্রচার হয়েছিল। নাগরিকদের সবাইকে পশুর ভুড়িসহ অন্যান্য বর্জ্য নির্দিষ্ট ব্যাগে রাখতে ফ্রি হলুদ রঙের ব্যাগ সরবরাহ করে সিটি করপোরেশন।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মধ্যে প্রথমবারের মতো পশু জবাইয়ের জন্য এলাকাভিত্তিক স্থান নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ৫০৪টি জায়গায় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়, যেখানে সবাই পশু কোরবানি দিতে পারবেন। এসব স্থানে পর্যাপ্ত পানিসহ পশু কোরবানির অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ও পরিবেশগত বিপর্যয় ঠেকাতে এসব উদ্যোগ নেয় মেয়র আনিসুল। আনিসুল হক তাঁর দায়িত্বের দুই বছরে এই বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এরপর তিনি আর বিষয়টি নিয়ে তেমন কাজ করতে পারেননি। কারণ এর পরবর্তী বছরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর যুক্তরাজ্যের মৃত্যু হয় আনিসুল হকের।

ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানির নিয়ম এখনো আছে। প্রতি বছর বর্জ্য ফেলার জন্য বিশেষ ধরনের পলি ব্যাগও দেওয়া হয়। সিটি করপোরেশনের নির্দিষ্ট পশু কোরবানির স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এ বিষয় নিয়ে যথপোযুক্ত প্রচারেরে কোনো উদ্যোগে চোখে পড়ে না। আর সঠিক প্রচার-প্রচারণা ছাড়া, কোনো ভালো উদ্যোগই সফল হওয়ার সম্ভব নয়। অনিসুল হক দায়িত্ব নেওয়ার পর, প্রথম বছর এই উদ্যোগে ব্যাপক সাড়া না পেলেও নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানিতে নগরবাসীর আগ্রহ বাড়ছিল, একাধিক সূত্র থেকে এমন তথ্য জানা যায়।

মেয়র আনিসুল হক এখন আর নেই, নেই তাঁর উদ্যোগ। পশু কোরবানির নিয়মের প্রচারণাও আর দেখা যাচ্ছে না। তিনিও নেই, সেই প্রচারণাও বিস্মৃত।

যত্রতত্র পশু কোরবানি দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের অভ্যাস। চাইলেই একদিন কিংবা একমাসের উদ্যোগে নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানিতে উদ্ধুদ্ধ করা সম্ভব নয়। এর উদ্যোগের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাওয়া দরকার। আনিসুল হকের নেওয়া কোরবানির নিয়মের প্রচারণা আবারও গ্রহণ করতে হবে।

বাংলা ইনসাইডার/বিপি/জেডএ