ঢাকা, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৫ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শেখ হাসিনার ওপর যত হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০১৮ মঙ্গলবার, ১২:৩১ পিএম
শেখ হাসিনার ওপর যত হামলা

দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। কিন্তু এর পরও বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী, পাকিস্তানপন্থী অংশটির তৎপরতা কমেনি। দেশকে ছায়া পাকিস্তান বানানোর স্বপ্ন থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। কিন্তু ওই দিন দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। পরবর্তী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির প্রতিনিধি হওয়ায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকেও বারবার হত্যার চেষ্টা চালায় দেশ বিরোধী চক্র। এই নিয়ে সর্বমোট ২১ বার শেখ হাসিনার প্রাণের ওপর হামলা করা হয়েছে।

১৯৮১ সাল

দেশে ফেরার বছরই ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা চালায় ফ্রিডম পার্টির সন্ত্রাসীরা।

১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি

শেখ হাসিনার ওপর দ্বিতীয় হামলা হয় ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারিতে, চট্টগ্রামে। সেদিন লালদীঘি ময়দানে আট দলীয় জোটের সমাবেশ ছিল। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে মিছিল করে জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে শেখ হাসিনার ট্রাক মিছিলে সশস্ত্র হামলা হয়।

১৯৮৯ এর ১১ আগস্ট

এর পরের বছর ১৯৮৯ এর ১১ আগস্ট রাতে ফ্রিডম পার্টির সন্ত্রাসী কাজল ও কবিরের নেতৃত্বে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডিস্থ ৩২ নম্বরের বাসভবনে  গুলি বর্ষণ ও গ্রেনেড হামলা চালায়।

১৯৯১ এর  ১১ সেপ্টেম্বর

১৯৯১ এর  ১১ সেপ্টেম্বর গ্রিনরোডে পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে ভোটের পরিস্থিতি দেখতে যান শেখ হাসিনা। গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই বঙ্গবন্ধু কন্যাকে লক্ষ্য করে বিএনপির কর্মীরা গুলিবর্ষণ ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটনায়।

১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর

১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরদী ও নাটোর রেল স্টেশনে প্রবেশের মুখে শেখ হাসিনাকে বহনকারী রেল গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয়।

১৯৯৫ এর ৭ ডিসেম্বর 

১৯৯৫ এর ৭ ডিসেম্বর শেখ রাসেল স্কোয়ারের নিকট সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় শেখ হাসিনার উপর গুলি বর্ষণ করা হয়।

১৯৯৬ এর ৭ মার্চ

শেখ হাসিনাকে আরেকবার হত্যার চেষ্টা চালানো হয় ১৯৯৬ এর ৭ মার্চ সন্ধ্যায়। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে শেখ হাসিনার বক্তৃতার পর হঠাৎ একটি মাইক্রোবাস থেকে সভামঞ্চ লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনায় ২০ জন আহত হয়।

১৯৯৭ সাল

১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পুত্রকন্যাসহ ৩১ জনকে হত্যার জন্য পুরস্কারের ঘোষণা সংবলিত ইমেইল আদান-প্রদাণের খবর পাওয়া যায়। এই ই-মেইলের হোতা ছিলেন ইন্টার এশিয়া টিভির মালিক শোয়েব চৌধুরী।

২০০০ সালের ২০ জুলাই

২০০০ সালের ২০ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার শেখ লুত্ফুর রহমান ডিগ্রি কলেজ মাঠের এক সভায় প্রধানন্ত্রীর বক্তব্য রাখার কথা ছিলো। শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কলেজের পাশে ৭৬ কেজি ও তিনদিন পর ২৩ জুলাই হেলিপ্যাডের কাছ থেকে ৪০ কেজি ওজনের দুটি শক্তিশালী পুঁতে রাখা হয়। সেনাভিনীর বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা এই দুটি বোমা উদ্ধার করে।

২০০১ সালের ২৯ মে

পরের বছরও বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। ২০০১ সালের ২৯ মে খুলনার রূপসা সেতুর কাজ উদ্বোধন করতে যাওয়ার কথা ছিল তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। জঙ্গিরা সেখানে বোমা পুঁতে রাখে যা গোয়েন্দা পুলিশ উদ্ধার করে।

২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর

২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বরে শেখ হাসিনা নির্বাচনী প্রচারণার উদ্দেশ্যে সিলেট গেলে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করে হুজি। কিন্তু শেখ হাসিনার জনসভাস্থল থেকে ৫০০ গজ দূরে রাত ৮ টার দিকে একটি বাড়িতে বোমা বিস্ফোরিত হলে ঘটনাস্থলেই দুই জঙ্গি নিহত হওয়ায় এই ষড়যন্ত্র সফল হয়নি।

২০০২ সালের ৪ মার্চ

বিএনপি-জামাত জোট সরকার গঠন করার পরের বছরই তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার ওপর তিন তিনবার প্রাণঘাতি হামলা করা হয়। প্রথমবার হামলা করা হয় ২০০২ সালের ৪ মার্চ। সেদিন নওগাঁয় বিএমসি সরকারি মহিলা কলেজের সামনে শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা চালানো হয়।

২০০২ সালেরই ২৯ সেপ্টেম্বর

এরপর ২০০২ সালেরই ২৯ সেপ্টেম্বর বিএনপি-জামাতের নেতাকর্মীরা সাতক্ষীরার কলারোয়ার রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে শেখ হাসিনার ওপর হামলা চালায়।

২০০২ সালের ৩০ আগস্ট

শেখ হাসিনার ওপর পরবর্তী হামলা চালানো হয় ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট।  কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলি গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে দেখতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। সেখান থেকে যশোরে ফিরে যাওয়ার পথে বিএনপি অফিসের সামনে রাস্তার ওপর একটি যাত্রীবাহী বাস আড়াআড়ি ফেলে রেখে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা চালায়। হামলায় জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রকৌশলী শেখ মুজিবুর রহমান ও সাংবাদিকসহ দলীয় অনেক নেতাকর্মী আহত হন। ওই হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও তৎকালীন সাংসদ হাবিবুল ইসলামের হাবিব ও বিএনপি নেতা রঞ্জু।

২০০৪ সালের ২ এপ্রিল

২০০৪ সালের ২ এপ্রিল গৌরনদীতে শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে গুলিবর্ষণ করে বিএনপি-জামাত।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট

সে বছরই বিএনপি-জামাত জোট সরকার শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এক ন্যাক্কারজনক হামলা চালায়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। সেই ঘটনায় শেখ হাসিনা সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হয়। গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হন কয়েক শতাধিক।

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই এক-এগারোর অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার বিশেষ সাব-জেলে বন্দী থাকাকালীন শেখ হাসিনার খাবারে ক্রমাগত বিষ মিশিয়ে তাঁকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়।

২০১১ সাল

২০১১ সালে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শ্রীলংকার একটি সন্ত্রাসবাদী গ্রুপের সঙ্গে বাংলাদেশের শত্রু রাষ্ট্র এবং আর্ন্তজাতিক সন্ত্রাসী চক্র সুইসাইড স্কোয়াড গঠন করে। কিন্তু আততায়ীদের দল গাড়ি করে কলকাতা বিমানবন্দরে যাবার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে ভেস্তে যায় শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনাটি।

২০১৪ সাল

২০১৪ সালে প্রশিক্ষিত নারী জঙ্গিদের মাধ্যমে মানববোমায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১৫০জন নারী ও ১৫০ জন যুবককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও প্রশিক্ষণরত অবস্থায়ই পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে ওই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে যায়।

২০১৫ এর ৭ মার্চ

পরের বছর ২০১৫ এর ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার সময়ে কাওরানবাজারে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে বোমা হামলা চালানোর চেষ্টা করে জঙ্গি দল জেএমবি।

২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর

২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রাণ সংশয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন প্রধানমন্ত্রীবাহী বিমানের ইঞ্জিনে অয়েল (লুব্রিকেন্ট) সিস্টেমের একটি নাট-বোল্ট অর্ধেক খোলা ছিল যা করাচির আকাশসীমা পার হওয়ার পর সবাই খেয়াল করে। এতে ওই বিমানের ইঞ্জিন তেলশূন্য হয়ে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর বড় দুর্ঘটনার সম্মুখে পড়েন। এই দুর্ঘটনার পেছনে বিমান কর্তৃপক্ষের কিছু কর্মীর হাত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট

সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকীতে ধানমণ্ডি ৩২ এ শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে আগস্টের মিছিলে জঙ্গি গোষ্ঠী আত্মঘাতী বোমা হামলার চেষ্টা চালায়। যদিও পুলিশি বাধায় তা আর সফল হয়নি।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ