ঢাকা, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৫ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কূল-কিনারা হয়নি কেন্দ্রীয় কারাগারের গ্রেনেড রহস্যের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০১৮ মঙ্গলবার, ১২:৫০ পিএম
কূল-কিনারা হয়নি কেন্দ্রীয় কারাগারের গ্রেনেড রহস্যের

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ের সামনে ২০০৪ এর ২১ আগস্ট এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে সমাবেশের মঞ্চে বক্তৃতা শেষে নিচে নেমে আসতে শুরু করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ঠিক সে সময়ই মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা শুরু হয়। মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যে ১১টি শক্তিশালী গ্রেনেডের বিস্ফোরণে পুরো এলাকা পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। এই হামলায় নিহত হন ২৪ জন।

সে সময়টাতে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দিকেই নজর ছিল সবার। কিন্তু হামলার পরদিন ২২ আগস্টেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ঘটেছিল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার পর পরই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে একটি গ্রেনেড পাওয়া যায়। কারা নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে কে বা কারা গ্রেনেডটি রেখেছিল, কী উদ্দেশ্য রেখেছিল ঘটনার ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তা আজও উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানা গেছে, গ্রেনেডটি উদ্ধার করে সঙ্গে সঙ্গেই চকবাজার থানায় নেওয়া হয়। কারা কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় একটি মামলাও দায়ের করে। বিএনপি-জামাত জোট সরকার এই মামলার বিষয়ে উদাসীনতা দেখায়। তবে মামলাটি এখন তদন্ত করছে পুলিশের বিশেষ শাখা সিআইডি। কিন্তু সিআইডিও এই রহস্যের কূলকিনারা করতে পারেনি। তবে সিআইডির ধারণা, যারা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করেছে তারাই কারাগারে গ্রেনেডটি রেখেছিল।

ঠিক কী উদ্দেশ্যে কারাগারে গ্রেনেড নিয়ে রাখা হয়েছিল সে বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়া গেলেও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সে সময়টাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পাঁচ আসামি। কারাগারে আটক বঙ্গবন্ধু হত্যার আসামি ও হুজিসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের বন্দীদের মুক্ত করার জন্য কারাগারে গ্রেনেড হামলার নীল নকশা প্রণয়ন করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হয়।

কারাগারের ভেতরের যে অংশে গ্রেনেডটি পাওয়া গিয়েছিল সেখানে কারারক্ষী ছাড়া কোনো সাধারণ মানুষ অথবা কারাবন্দীদের প্রবেশ সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে সিআইডির একটি সূত্র। তাই এই ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এই ঘটনায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের তৎকালীন জেল সুপার হারুন উর রশিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কী না সে বিষয়ও খতিয়ে দেখছে সিআইডি। বিভিন্ন অভিযোগে হারুন উর রশিদকে ইতিমধ্যে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার কয়েকজন আসামিকেও কারাগারের গ্রেনেড সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু সন্তোষজনক কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

অতীতে বিভিন্ন সময় সিআইডির পক্ষ থেকে অতিদ্রুত কারাগারের গ্রেনেড রহস্য উদঘাটনের ব্যাপারে আশ্বাস পাওয়া গেলেও কিন্তু তা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ