ঢাকা, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ৫ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ঈদে বন্ধ হোটেল-রেস্টুরেন্ট, দুর্ভোগে পেশাজীবীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৩:০৬ পিএম
ঈদে বন্ধ হোটেল-রেস্টুরেন্ট, দুর্ভোগে পেশাজীবীরা

রাজধানীর একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে চাকরি করেন সাকিব রহমান। সংবাদ মাধ্যমের চাকরি হওয়ার কারণে ঈদের ছুটি পাননি। এবারের ঈদুল আজহা তাই ঢাকাতেই কাটাচ্ছেন। ঈদের এই সময়টাতে সাধারণত বাসার পাশে শ্যামলী বা অফিস এলাকা শঙ্করের হোটেল-রেস্টুরেন্ট খাওয়া দাওয়া করেন সাকিব। অভ্যাস অনুসারে আজ বৃহস্পতিবার ঈদের দ্বিতীয় দিনে সকালের নাস্তা করতে অফিসে আসার পথে শ্যামলী এলাকায় রেস্টুরেন্ট খোঁজে করেন সাকিব। কিন্তু সব রেস্টুরেন্টই বন্ধ। অফিসে এসে ধানমন্ডি ২৭, শঙ্কর এলাকাও চষে বেড়িয়েছেন। কিন্তু এখানেও একই অবস্থা। পরে চায়ের টং দোকান খুললে সেখান থেকেই কলা-পাউরুটি কিনে সকালের নাস্তা সারেন সাকিব রহমান।

এই গল্প সাকিব রহমানের একার নয়। রাজধানীর দিনমজুর, ব্যাচেলার, শিক্ষার্থী, অফিস পাড়ার মানুষ; যারা সামর্থ্য অনুযায়ী কম দামী থেকে মোটামুটি দামের হোটেল-রেস্তোরায় খাওয়া-দাওয়া করেন তারা ঈদ আসলেই এমন ভোগান্তিতে পড়েন।

সারা বছর রাজধানী জনমানুষে পরিপূর্ণ থাকলেও ঈদের সময় ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা থাকে। বেশিরভাগ ঢাকাবাসীই নাড়ির টানে ঈদ করতে গ্রামে চলে যাওয়ায় জনমানুষ শূন্য রাজধানীতে দোকানিরাও আর থাকেন না। তাঁরাও দোকানপাট গুটিয়ে বাড়ি চলে যান পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন কর‍তে। তাই যারা শিক্ষাগত বা পেশাগত বিভিন্ন কারণে গ্রামে যেতে পারেন না তাঁরা খাওয়া-দাওয়া নিয়ে বিপাকে পড়ে যান। ক্ষুধা মেটানোর জন্য প্রতিদিন যে হোটেল-রেস্তোরায় তাঁরা হানা দিতেন সেগুলোর বন্ধ দরজা তখন তাঁদের হাত পুড়িয়ে রান্না করে খেতে বাধ্য করে। কর্মব্যস্ত জীবনে সময়ের অভাবে এই বাড়তি কাজটি অনেকের জন্যই চাপ হয়ে যায়।

রাজধানীর হানিফ বিরিয়ানি, নান্না বিরিয়ানি, স্বাদ বিরিয়ানির মতো বিখ্যাত বিরিয়ানির দোকানগুলো এখন বন্ধ। বন্ধ আছে পাড়া-মহল্লার ভাতের হোটেলগুলোও। মতিঝিল, গুলশানের অফিস পাড়ার সব কটি দোকানও ঈদ উপলক্ষে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই এ মুহূর্তে ক্ষুন্নিবৃত্তির জন্য হোটেল-রেস্তোরার বাইরে অন্য উপায় খুঁজতে হচ্ছে ঢাকায় অবস্থান করা মানুষকে।

শুধু হোটেল-রেস্তোরাই নয়, ঈদ উপলক্ষে বন্ধ আছে শহরের প্রায় সব কটি ফাস্টফুডের দোকান। পাড়ার অলি-গলি, বিভিন্ন শপিং মলের ভেতরে-বাইরে গড়ে ওঠা ফাস্টফুডের দোকানগুলোতেও এখন শুধুই শুন্যতা। এসব দোকান থেকে কিছু খেয়ে যে মানুষ পেটপূর্তি করবে এমন সুযোগও নেই।

এর পরও কিছু কিছু এলাকায় দু একটি খাবারের দোকান খোলা আছে। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে সেখানে খাবার বিক্রি হচ্ছে উচ্চমূল্যে। কোনো বিকল্প না থাকায় বেশি দামেই সেই খাবার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা আর অপেক্ষা করছেন ঈদের ছুটি শেষে কখন গমগম করে উঠবে রাজধানী। কখন স্বাভাবিক হবে হোটেল-রেস্টুরেন্ট বেচা-বিক্রি।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ