ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

লবণের কৃত্রিম সংকটে নষ্ট হচ্ছে চামড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০১৮ সোমবার, ০৬:৩৪ পিএম
লবণের কৃত্রিম সংকটে নষ্ট হচ্ছে চামড়া

এবছর কোরবানির ঈদে চামড়ার অস্বাভাবিক দরপতন হয়েছে। অন্যদিকে লবণের কৃত্রিম সংকটে পশুর চামড়া সংরক্ষণ ব্যাহত হচ্ছে। চামড়া পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই। বরং অনেক লবণ উদ্বৃত্ত আছে।

কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের অন্যতম উপাদান লবণ। লবণের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে বাড়তি দামে বিক্রয় করার জন্যেই এ অবস্থা তৈরি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।  

চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা যায়, গত মে মাসে উত্পাদনের মৌসুম শেষে আয়োডিন ছাড়া প্রতিবস্তা (৭৫ কেজি) লবণ ৭০০-৭০৫ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। ঈদের আগে লবণের দাম বস্তা প্রতি ২০০ টাকা বেড়ে যায়। আর ঈদে দিন থেকে সেই দাম আরোও বেড়ে প্রতিবস্তা দেড় হাজার টাকা হয়ে গেছে।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এবছর কোরবানির ঈদে প্রায় ১ কোটি ১৬ লক্ষ পশু কোরবানি করা হয়েছে সারা দেশে। একটা গরুর চামড়া সংরক্ষণে প্রায় ১০ কেজি লবণের প্রয়োজন হয়। এবছর পশুর চামড়া সংরক্ষণে প্রায় দুই লাখ টন লবণের প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।  

কাঁচা চামড়ায় সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টার মধ্যে লবণ দিতে হয়। এই সময়ের মধ্যে লবণ না দিলে চামড়ায় পচন ধরতে শুরু করে। লবণের কৃত্রিম সঙ্কট ও চড়া দামের কারণে অনেক চামড়া ব্যবসায়ী সঠিক সময়ে চামড়ায় লবণ দিতে পারেনি। এরফলে অনেক পশুর চামড়া পচে গিয়েছে বলে জানান চামড়া ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন রিটেইল ডিলার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নওয়াব হোসেন বলেন, সরকার লবণের দাম বাড়ায়নি। অথচ চাহিদা বেশি থাকায় লালবাগের একটা সিন্ডিকেট লবণের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

লালবাগ পোস্তার আরেক কাঁচা চামড়া আড়তদার মোহাম্মদ শাহিদ বলেন, আমি বেশি দাম দিয়েও লবণ পাইনি। আমাদের লাখ লাখ টাকার চামড়া পচে গেছে। পোস্তার আরও কয়েকজন চামড়া ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে এবিষয়ের সত্যতা পাওয়া যায়।    

মদিনা সল্টের স্বত্বাধিকারী জামিল আহমেদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এবার আড়াই হাজার বস্তা লবণ বিক্রি হয়েছে। এরপরেও চামড়ার আড়তদাররা লবণ কিনতে আসেন। চাহিদা বিবেচনায় ঈদের দিন অতিরিক্ত ট্রাক ও লেবার ভাড়া করে লবণ তোলা হয়েছে। বেশি দামে কেনা তাই বেশি দামে বিক্রিও করতে হয়েছে।’  


বাংলা ইনসাইডার/আরকে/জেডএ