ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বাস পেতেই নাভিশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সোমবার, ০৫:১৩ পিএম
বাস পেতেই নাভিশ্বাস

জাকিরুল ইসলাম, পেশায় ব্যাংক কর্মকর্তা। অফিস মতিঝিলে হলেও থাকেন মিরপুর শেওড়াপাড়াতে। যৌথ পরিবার হওয়ার কারণে আর্থিক সামর্থ্যানুযায়ী পছন্দসই বড় ফ্লাট নিয়ে ভাড়া থাকতেই কর্মস্থল থেকে এত্তদূরে থাকা। কেননা ঢাকার অন্যান্য স্থানের তুলনায় মিরপুরের বাড়ি ভাড়া তুলনামূলক একটু কমই। পেশাগত কারণে জাকিরুল ইসলামকে সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত মাসের অন্যান্য দিন শেওড়াপাড়া থেকে মতিঝিলের বাস ধরতে হয়। প্রতিদিন মিরপুর শেওড়াপাড়ার বাসস্ট্যান্ড থেকেই বাসে উঠেন তিনি। তার অফিস টাইম নয়টা থেকে হওয়ায় বাসা থেকে সাড়ে সাতটার দিকে রওনা দেন তিনি। সকালে রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকার কারণে দেড় ঘণ্টার বেশি লাগেনা তার কর্মস্থলে পৌঁছাতে। যদিও অফিস শেষে ফিরতে এই সময়টা বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। দিনে প্রায় চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা বাস যাত্রাতেই কাঁটে তার, এতে তার আক্ষেপের পাশাপাশি অভিযোগের শেষ নেই।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আশফাক মাহমুদের কপালে চিন্তার আজ ভাঁজ। বার বার তাকাচ্ছেন ঘড়ির দিকে। সময় সকাল ১০ টা, ভার্সিটিতে সাড়ে বারোটায় মিড টার্ম পরীক্ষা তার কিন্তু এখনো বাসে উঠতে ব্যর্থ তিনি। অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ একটু আগেই রওনা দিয়েছিলেন আশফাক। কিন্তু বিধি বাম, আধাঘণ্টার বেশি সময় ধরে বাসের জন্য অপেক্ষা করেও বাস পাননি। ২০/২৫ মিনিট পর যাও দুই একটা বাস আসছে, তাও গেটলক করে, সিটিং সার্ভিস। পরীক্ষা টা আজ আর দেওয়া হলো না, সারারাত পড়াটাই বৃথা। এভাবেই আক্ষেপের কথা বলছিল আশফাক।

জাকিরুল ইসলাম, আশফাক মাহমুদ এরা প্রত্যেকেই যেন রাজধানীতে গণপরিবহনে চলাচলকারীর প্রতিনিধিত্ব করছে। প্রতিদিনই পরিবহণ সংকটে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পাবলিক বাসে যাতায়াতকারীরা। এই কয়দিন ঈদের ছুটিতে রাজধানীতে লোকসংখ্যা কম থাকায় সেভাবে সমস্যাটি বোঝা যায়নি, তবে ছুটি শেষে সবাই শেকড় ছেড়ে ঢাকায় ফিরে আসায় বাস সংকটি তীব্র আকারে দেখা দিয়েছে।  ফলশ্রুতিতে যাতায়াতে ব্যাপক ভোগান্তির হচ্ছে রাজধানীবাসীরা। নির্ধারিত বাসে উঠতে রীতিমত গলদঘর্ম হচ্ছে যাত্রীরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর কোনো বাস এলেও তাতে উঠতে হলে ধস্তাধ‌স্তি করতে হচ্ছে যাত্রীদের। বাসে উঠার যুদ্ধে পুরুষরা গায়ের শক্তি খাটিয়ে জয়ী হলেও, বয়স্ক এবং নারীদের জন্য তা হয়ে দাঁড়ায় রীতিমত অসম্ভব।

মাত্র কয়েকদিন আগেও রাজধানীর রাস্তাগুলোতে গণপরিবহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যেত, সেখানে এখন যেন ম্যাজিকের মতো সব গনপরিবহনগুলো উধাও হয়ে গেছে। যেখানে যাত্রী নেওয়ার জন্য গনপরিবহনগুলো নিজেদের মধ্যে পাল্লাপাল্লি ও ধাক্কাধাক্কি করতো, সেখানে আজ রাস্তা ভর্তি অপেক্ষারত যাত্রী কিন্তু বাসের দেখা নেই।

এ বিষয়ে বাসের চালক ও সহকারীরা জানান, নিরাপদ সড়কের দা‌বিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর লাইসেন্সহীন চালক ও ফিটনেস এবং অনুমোদনহীন বাস চলাচলের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সেজন্য মামলার ভয়ে কাগজপত্রহীন গা‌ড়ি রাস্তায় নামাচ্ছে না কোম্পা‌নিগুলো।

ধানমণ্ডি এরিয়ার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর পল্লব কুমার সাহা জানান, গতকাল রোববার ধানমণ্ডি ট্রাফিক জোন ৭৯ টি মামলা ও ২২ টি গাড়িতে র‍্যাকার লাগিয়েছে। এমন চিত্র রাজধানীর অন্যান্য এলাকাগুলোতেও।

জগাতলা থানার ট্রাফিক সার্জেন্ট ইফতেখার আহমেদ জানান, আজ সোমবার সকাল থেকেই তিনি এগারোটা মামলা দিয়েছেন। অধিকাংশ মামলা লাইসেন্সহীন চালক ও ফিটনেস না থাকার কারণে।

মামলার ভয়ে অধিকাংশ বাস মালিকরাই তাদের বাস রাস্তায় নামাচ্ছেন না। প্রতিটা পরিবহণ কোম্পানির চার ভাগের মাত্র এক ভাগ বাস রাস্তায় চলাচল করছে। বিভি‌ন্ন ঝামেলার কারণে ইতিমধ্যে অনেক বাস মালিকরাই বাসের ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার চিন্তা করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেছেন, পরিবহনের কাগজ-পত্র ঠিক করার ব্যাপারে পরিবহনের মালিকরা কাজ করছে। খুব জলদি তাদের কাগজ-পত্রের সমস্যার সমাধান হলে পরিবহণ সংকট কমে আসবে।


বাংলা ইনসাইডার/বিকে/জেডএ