ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘সমতলের আদিবাসীদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৮:৩৭ পিএম
‘সমতলের আদিবাসীদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা হবে’

আইনমন্ত্রী আনিসুল বলেছেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন আইন এবং ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সমতলে আদিবাসীরা যেখানে, যে অবস্থায় আছে, সেইখানে যেন তাঁরা থাকতে পারে এই বিষয়ে একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি এক মাসের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।’

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় তেজগাঁও সমকাল কার্যালয়ে ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেড, হেকস/ইপার এবং সমকাল পত্রিকার উদ্যোগে আয়োজিত, সমতলের ‘ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও দলিত জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক নীতি কাঠামোর দাবি’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকের আলোচনায় আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।

গোলটেবিল বৈঠকে আইনমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাড. সুলতানা কামাল, সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, পরিপ্রেক্ষিতের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ বোরহান কবির, হেকস/ইপারের কান্ট্রি ডিরেক্টর অনিক আসাদ। আদিবাসী নেতা সঞ্জীব দ্রং সহ আরও অনেক আদিবাসী ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও দলিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। গোল টেবিল বৈঠকটি পরিচালনা করেন সমকাল পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাড. সুলতানা কামাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘বৈষম্য বিরোধ আইন পাস হলে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। খসড়া হয়ে যাওয়ার পরেও কেন এই আইনটি পাস হচ্ছে না। তাহলে এই আইন পাস করতে সমস্যা কোথায়?’

এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান বলেন, ‘পার্বত্য চট্রগ্রামের বাইরে যেসকল আদিবাসী আছে, তাদের সংখ্যাও কম নয়, আমার মনে হয়, তারাই সংখ্যায় বেশি এখন সময় এসেছে তাদের জন্যেও আলাদাভাবে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে কিছু করা দরকার। এই বিষয়ে আমাদেরকে চিন্তাভাবনা করতে হবে। আমরা যদি উন্নত দেশ হতে চাই, তাহলে কাউকে বাদ দিয়ে বড় হতে পারবো না।’ 

গোলটেবিল বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে পরিপ্রেক্ষিতের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ বোরহান কবির বলেন, আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃতে মুক্তিযুদ্ধ করেছি, যার অন্যতম ভিত্তি ছিল সাম্যতা, ন্যায্যতা ও ন্যায় বিচার। আমরা যদি সমতলের আধিবাসী ও দলিত শ্রেণীর অধিকার প্রতিষ্ঠা না করতে পারি, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অর্জিত হবে না।

হরিজন সম্প্রদায়ের নির্মল চন্দ্র বলেন, ‘আমরা আজ সমাজে অবহেলিত। আমরা হোটেলে বসে এখনো খেতে পারি না। চুল কাটতে গেলেও নাপিতরা আমাদের চুল কাটতে চায় না। আমাদের চুল কাঁটার জন্য অন্য জেলায় যেতে হয়।’

এছাড়াও গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন আদিবাসী ও ক্ষুদ্র জাতি সত্তার প্রতিনিধিরা তাদের নানাবিধ সমস্যা ও দাবি দাওয়ার কথা তুলে ধরেন।

বাংলা ইনসাইডার/আরকে/জেডএ