ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নথি সংগ্রহের পেছনের গল্প বললেন জাবেদ পাটোয়ারী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শুক্রবার, ০৮:৫৯ পিএম
নথি সংগ্রহের পেছনের গল্প বললেন জাবেদ পাটোয়ারী

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে তৎকালীন পাকিস্তান ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চের গোপন নথি নিয়ে ‘সিক্রেট ডকুমেন্ট অব ইন্টেলিজেন্স ব্রান্স অন ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শিরোনামে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৪ খণ্ড প্রকাশিতব্য বইয়ের প্রথম খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন করা হয় আজ শুক্রবার বিকেল ৬ টায়।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, স্পেশাল ব্রাঞ্চে (এসবি) দায়িত্বপালনের সময় গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংগ্রহে সহায়তাকারী বর্তমান বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বিপিএম(বার ) ।

জাবেদ পাটোয়ারী তাঁর বক্তব্যে বলেন, তিনি যখন স্পেশাল ব্রাঞ্চের দায়িত্ব নেন, তখন জানতে পারেন স্পেশাল ব্রাঞ্চে একটি রেকর্ড রুম আছে। যেখানে ১৯৪৭ সাল থেকে তখন অবধি সকল তথ্যাদিই সংরক্ষিত আছে। কিন্তু রেকর্ড রুম পরিদর্শন করতে চাইলে, বাকি অফিসাররা তাঁকে সেখানে যেতে নিষেধ করেন। তাকে এও বলা হয় যে, ওখানে এতোই ধূলার আস্তরণ যে ওখানে যেয়ে কোন রেকর্ডে হাত দিলে অসুস্থও হয়ে যেতে পারেন তিনি। তারপরও রেকর্ড পরিদর্শনে সেখানে যান তিনি। মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লাভস পড়ে সেখানে যান তিনি। কয়েক লক্ষ রেকর্ডের কপি, সারা রুম স্যাঁতসেঁতে। এমনই পরিবেশ সেখানকার।

হঠাৎ রুমের এক পাশে বস্তা বন্দী অনেকগুলো রেকর্ড খুঁজে পান তিনি। রেকর্ডগুলো হাতে নিয়ে দেখেন এগুলো সবই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রেকর্ড ফাইলস। রেকর্ডগুলো হাতে পাওয়ার পর পরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি সেগুলো সুবিন্যস্ত করতে তার অফিসারদের নির্দেশ দেন। কিন্তু, তা ছিল প্রায় অসম্ভব। কেননা ফাইল গুলোর অবস্থা এমন ছিল যেন হাত দিলেই বিস্কিটের গুড়ার মত ধূলা পড়ে। অধিকাংশ রেকর্ডেরই পাতাগুলো পোকায় খাওয়া, কিছু কিছু অক্ষর মিলিয়ে গেছে। এমতাবস্থায় তা থেকে সুনির্দিষ্ট অর্থ বের করা রীতিমত অসম্ভব। এরজন্য ন্যাশনাল আর্কাইভের এক্সপার্টদের ডাকা হয় রেকর্ডগুলোর অর্থ উদ্ধারে। তাদের পরামর্শে দশটি স্ক্যানিং মেশিন সংগ্রহ করা হয়। সেইসঙ্গে ফটো মেশিনও কেনা হয়, কিন্তু তারপরও এক্সপার্টরা রীতিমত হিমশিম খাচ্ছিলেন। এ কাজ করতে বাইশ জনের টিম নিরলস ভাবে কাজ করে। একটা পাতা পাঠউদ্ধার করতে কয়েক দিনও লেগেছে তাদের। এমনকি একটা শব্দ বের করতে এক্সপার্টদের বোর্ড মিটিংও বসিয়েছেন তারা। সেইসঙ্গে অক্ষর বড় করে দেখার জন্য সিনেমার পর্দার মত বড় পর্দা তারা একাজে ব্যবহার করেছেন।

দীর্ঘ আট বছর লেগেছে নথিগুলোকে বই আকারে প্রকাশ করতে। নিয়মিত দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি। পুরো বাংলাদেশের ইতিহাস এই রেকর্ডগুলোর মধ্যে আছে বলে দাবি করেন তিনি। সকল জাতীয় নেতাদের যাবতীয় সকল রেকর্ডও  স্পেশাল ব্রাঞ্চে সংরক্ষণে আছে বলে জানান তিনি। এমনকি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম থেকে শুরু করে ধারাবাহিক বিবর্তনের যাবতীয় তথ্যাদি স্পেশাল ব্রাঞ্চে সংরক্ষিত আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশের প্রতিটা প্রান্তের দেয়া ভাষণ সংরক্ষণ করেছেন তারা। এমনকি তাঁর লেখা সকল চিঠি, সেইসঙ্গে তাঁর নিকট লেখা বিভিন্ন জনের চিঠি, সবই স্পেশাল ব্রাঞ্চের সংরক্ষণে আছে।

জাতির পিতার বিরুদ্ধে তৎকালীন পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার সেই সব গোপন নথিগুলো বই আকারে প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে অমূল্য এসব ডকুমেন্ট দেশ-জাতি ও বহির্বিশ্বে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসে ‘সিক্রেট ডকুমেন্ট অব ইন্টেলিজেন্স ব্রান্স অন ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শিরোনামে ১৪ খণ্ডে বই আকারে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে। হাক্কানী পাবলিশার্স থেকে প্রকাশ করা হচ্ছে এই বই।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি হিসেবে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করছেন ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক হিসাবে ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।


বাংলা ইনসাইডার/বিকে