ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

’রোহিঙ্গা পুনর্বাসন বিলম্বিত করার অজুহাত দিচ্ছে মায়ানমার’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ১০:৩৯ এএম
’রোহিঙ্গা পুনর্বাসন বিলম্বিত করার অজুহাত দিচ্ছে মায়ানমার’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ’প্রত্যাবাসন বিলম্বিত করার জন্য মিয়ানমার নানা অজুহাত দিচ্ছে। ঘনবসতি পূর্ণ বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। সীমান্ত সংঘাত চাই না বলেই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।’ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ১০ দিনের সফরে বর্তমানে নিউ ইয়র্কে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমারের মূল ক্ষমতা দেশটির নেত্রী অং সান সু চি এবং তাদের সেনাবাহিনীর হাতে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সুচি কোনও দ্বন্দ্বে জড়াতে চান না। তবে কোনো পরিস্থিতিতেই শরণার্থীরা স্থায়ীভাবে ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে থাকতে পারে না।

রয়টার্সের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ তার অবস্থান থেকে সরে আসবে কিনা। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই ১৬ কোটি মানুষ রয়েছে। আমরা আর কোনও বোঝা নিতে পারি না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের পক্ষে রোহিঙ্গাদের জন্য কোনও স্থায়ী আবাস তৈরি সম্ভব নয়। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং তাদের অবশ্যই নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। কিন্তু মিয়ানমার সব বিষয়ে একমত হলেও বাস্তবে সে অনুযায়ী কাজ না করায় সংকট তৈরি হয়েছে। সব সময়ই তারা কোনও না কোনও অজুহাত সামনে তুলে ধরে।

প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগের বিষয়টি মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ্য হতে’র কাছে জানতে চাওয়া তিনি সাফ জানিয়ে দেন, নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনের বাইরে ফোনে তিনি সংবাদমাধ্যমের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেবেন না।

জাতিসংঘের সূত্রমতে, বাংলাদেশে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি। তবে বাংলাদেশ বলছে, এ সংখ্যা ১১ লাখেরও বেশি। প্রায় প্রতি রাতেই সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে রোহিঙ্গা পরিবার।

বাংলা ইনসাইডার/জেডআই/জেডএ