ঢাকা, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিএনপি ঘোষিত ৭ দফা দাবি ও ১২ লক্ষ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ রবিবার, ০৮:৪৮ পিএম
বিএনপি ঘোষিত ৭ দফা দাবি ও ১২ লক্ষ্য

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, সুচিকিৎসা, সকল নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা প্রতাহারের দাবিতে বিএনপির সমাবেশ থেকে ৭ দফা দাবি ও ১২টি লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে।  

আজ রোববার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশ থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই দাবি ও লক্ষ্য ঘোষণা করেন।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই:

১. খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার,

২. জাতীয় সংসদ বাতিল করা

৩. সরকারের পদত্যাগ ও সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করা

৪. সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রতিটি ভোটকেন্দ্র ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সশস্ত্র বাহিনী নিয়োগ নিশ্চিত করা

৫. নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার বিধান নিশ্চিত করা

৬. যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যব্ক্ষেক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যব্ক্ষেণে তাদের ওপর কোনও ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপ না করা।

৭.

ক) দেশের সব বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মুক্তি, সাজা বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার,

খ) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনি ফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা ও নতুন কোনও মামলা না দেওয়ার নিশ্চয়তা

গ) পুরনো মামলায় কাউকে গ্রেফতার না করার নিশ্চয়তা

ঘ)কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সাংবাদিকদের আন্দোলন এবং সামাজিক গণমাধ্যমে স্বাধীন মতপ্রকাশের অভিযোগে ছাত্র-ছাত্রী, সাংবাদিকসহ সবার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির নিশ্চয়তা।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাত দফা দাবির পাশাপাশি ১২টি লক্ষ্যও তুলে ধরেন। বিএনপির লক্ষ্যগুলো হলো: রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সুশাসন নিশ্চিত করা, প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দলীয়করণের বদলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সশস্ত্র বাহিনীকে আরো আধুনিক ও শক্তিশালী করা, সব নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারপতি নিয়োগ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ, কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদকে মদদ না দেওয়া, কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদীকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়া, আয়ের বৈষম্য অবসানকল্পে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আজকের জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরুদ্দিন সরকার, ড. মঈন খান, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, আব্দুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, শামসুজ্জামান দুদু, বরকত উল্লাহ বুলু, আমান উল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আতাউর রহমান ঢালী, ফজলুর রহমান, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আসাদুল হাবীব দুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শামা ওবায়েদসহ আরও অনেকেই।

বাংলা ইনসাইডার/আরকে/জেডএ