ঢাকা, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ছোবল হানছে আ. লীগে ঘাপটি মেরে থাকা বিএনপি-জামাত

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৯:২১ পিএম
ছোবল হানছে আ. লীগে ঘাপটি মেরে থাকা বিএনপি-জামাত বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়নে হামলায় আহত একজন (বাঁয়ে), ডানে অভিযুক্ত সাবেক যুবদল সভাপতি ও বর্তমানে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান মো. শহীদুল ইসলাম ফকির।

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই নেতাকে বোরকা পরিয়ে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। নিহত দুজন হলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী দিহিদার (৫৩) ও উপজেলা যুবলীগের সদস্য শেখ শুকুর আলী (৪৫)। দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) প্রাঙ্গণে এ হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন ইউনিয়ন তাঁতী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক বাবুল শেখ (২৫)। তাঁকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।

আহত বাবুল শেখ ও নিহতদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, দৈবজ্ঞহাটি ইউপির আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান মো. শহীদুল ইসলাম ফকির ও তাঁর লোকজন এ হামলা চালিয়েছেন।

এই অন্তর্দ্বন্দ্বের পেছনে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের হাত রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহীদুল বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে তিনি দলটিতে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য মোজাম্মেলের কাছের লোক হয়ে ওঠেন। এই ইউপি চেয়ারম্যানের আওয়ামী লীগে কোনো পদ নেই। অথচ পরপর দুবার তিনি নৌকার মনোনয়নে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

এর আগে গত বছর পঞ্চম শ্রেণির এক শিশুর আঁকা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘বিকৃত’ ছবি ছাপানোর অভিযোগে বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী তারিক তারিক সালমনের বিরুদ্ধে মামলা করেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ওবায়েদউল্লাহ সাজু। মানহানির এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে থানা হাজতেও থাকতে হয়েছে তারিক সালমানকে। দেশজুড়ে তোলপাড় তোলা এ ঘটনা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কানেও পৌঁছে যায়। এক পর্যায়ে মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন বাদী ওবায়েদউল্লাহ সাজু। তাঁকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারও করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, এক সময় বিএনপির রাজনীতি করতেন অ্যাডভোকেট সাজু। ভোলা জেলা বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোশারেফ হোসেন শাজাহানের খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

চেয়ারম্যান মো. শহীদুল ইসলাম ফকির ও  ওবায়েদউল্লাহ সাজুই নয়। অতীতে বিএনপি করেছেন কিন্তু রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে পরিচয় বদলে ফেলে আওয়ামী লীগার হয়ে গেছেন এমন অনেকেই আমাদের চারপাশে আছেন। এই অনুপ্রবেশকারীরাই বর্তমানে সাধারণ জনগণের কাছে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে এবং দলের মধ্যে অন্তর্কোন্দল সৃষ্টি করতে তৎপর। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগে ঘাপটি মেরে থাকা বিএনপি-জামাতরা আবার তৎপর হয়ে উঠেছে। এতদিন আওয়ামী লীগের সুযোগ সুবিধা নিয়ে এবার সেই আওয়ামী লীগেই আঘাত হানছে তারা।  অনুপ্রবেশকারীদের কারণে তৃণমূলে আওয়ামী লীগের কোন্দল এখন খুনোখুনিতে পরিণত হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে ব্যবস্থা না নিতে পারলে আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে মূল্য দিতে হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ