ঢাকা, বুধবার, ১৯ মে ২০২১, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ধারা সংশোধনের দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০১৮ সোমবার, ০৫:০৮ পিএম
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ধারা সংশোধনের দাবিতে মানববন্ধন

বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নয়টি ধারা সংশোধনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে মুদ্রিত সংবাদপত্রগুলোর সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ। 

আজ সোমবার অনুষ্ঠিত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন থেকে সরকারের কাছে সংসদের আগামী অধিবেশনেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছে। দেশের নামকরা মোট ১৬টি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকরা ব্যানার হাতে প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে ১০ মিনিটের এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাদের অভিযোগ ছিল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের পরিপন্থী।

সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আনাম এ কর্মসূচিতে সাত দফা দাবি তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা আশা করব, আমাদের এই দাবি সরকার গ্রহণ করবে এবং এই সংসদের শেষ অধিবেশনেই যথাযথ সংশোধনী এনে এই আইনটি সবার জন্য গ্রহণযোগ্য আইন উনারা করবেন।’

ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম আরও বলেন, ‘বিভিন্ন মন্ত্রী বলছেন আলোচনার দরজা বন্ধ হয়নি, আমরাও মনে করি না আলোচনার দরজা বন্ধ। তবে আলোচনার নামে প্রহসন যেন না হয়। আমরা আলোচনায় গেছি, আমরা অত্যান্ত বিশ্বাস নিয়ে গেছি। কিন্তু সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন এখনো হয়নি।’

অন্যদের মধ্যে মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, নিউ এইজের সম্পাদক নূরুল কবীর, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, ইনডিপেনডেন্ট সম্পাদক এম শামসুর রহমান, ইনকিলাবের সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহান, করতোয়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি ও সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনিরুজ্জামান।

সম্পাদক পরিষদের সাত দফা দাবিগুলো হলো:

১. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নয়টি ধারা যথাযথভাবে সংশোধন করা

২. বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনেই এসব সংশোধনী আনা

৩. পুলিশ বা অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে কোনো সংবাদ মাধ্যম প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানোর ক্ষেত্রে তাদেরকে শুধু নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু আটকে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া যাবে, কিন্তু কোনো কম্পিউটার ব্যবস্থা বন্ধ করার অনুমতি দেওয়া যাবে না। আর কেবল তখনই প্রকাশের বিষয়বস্তু আটকানো যাবে, যখন যখন ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়বস্তু আটকে দেওয়ার যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে পারবে

৪. কোনো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কোনো কম্পিউটার ব্যবস্থা আটকে দেওয়া বা জব্দ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই আদালতের অনুমতি নিতে হবে

৫. সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের সাংবাদিকতার দায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করতে হবে। সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের কোনো অবস্থাতেই পরোয়ানা ছাড়া ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা ছাড়া আটক বা গ্রেপ্তার যাবে না

৬. গণমাধ্যমের পেশাজীবীর বিরুদ্ধে মামলার গ্রহণযোগ্যতা আছে কিনা তার প্রাথমিক তদন্ত প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে করাতে হবে। সেজন্য প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করতে হবে

৭. তথ্য অধিকার আইনকে ‘দ্ব্যর্থহীনভাবে’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ওপর প্রাধান্য দিতে হবে

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ