ঢাকা, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ২ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘বিদ্রোহী প্রার্থী হলে আজীবনের জন্য বহিষ্কার’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০১৮ শনিবার, ০৯:২০ এএম
‘বিদ্রোহী প্রার্থী হলে আজীবনের জন্য বহিষ্কার’

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের কেউ ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তাঁকে আওয়ামী লীগ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে।

গতকাল শুক্রবার রাতে গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় শেখ হাসিনা এমন কঠোর হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেন।

শুধু উন্নয়ন দিয়ে ভোট পাওয়া যায় না। ভোট পাওয়া যায় ভালোবাসা দিয়ে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনবিচ্ছিন্ন এমপিরা দলীয় মনোনয়ন পাবেন না। শেষ মুহূর্তেও দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তন করা হতে পারে। এছাড়া এবার চেহারা দেখে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দাঁড়ালেই এমপি হওয়া যাবে—এটা মনে করেই এবার এত প্রার্থী। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে ওভার কনফিডেন্স হওয়া যাবে না। ছিয়ানব্বই-দুই হাজার সালেও আমরা অনেক উন্নয়ন করেছিলাম। কিন্তু নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারেনি। তাই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে উন্নয়ন প্রচার করতে হবে। তা না হলে ভোট পাওয়া যাবে না। ’    

হেফাজতে ইসলাম আর জামাত এক নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী কওমি মাদরাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে বিদ্রূপ করে ‘তেঁতুল হুজুর’ না বলা এবং তাঁর সম্পর্কে সব ধরনের নেতিবাচক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়। সভায় আপাতত প্রতি নির্বাচনী এলাকার তিনজন নেতাকর্মী নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার এবং তফসিল ঘোষণার পর বিভাগীয় ও জেলাপর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এছাড়া সভায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি কোর কমিটিসহ ১৫টি উপকমিটি গঠন করা হয়। কোর কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, কো-চেয়ারম্যান হিসেবে এইচ টি ইমাম এবং সদস্যসচিব হিসেবে ওবায়দুল কাদেরকে মনোনীত করা হয়। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে কারা থাকবেন তা বিস্তারিত জানানো হয়।

গত বৃহস্পতিবার আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ড. কামাল হোসেনের বক্তব্য নিয়েও আলোচনা হয়েছে সভায়। ওই বক্তব্য প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ড. কামাল হোসেন হয়তো চাচা হিসেবে ওই সব কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগের অনেকে ড. কামালের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে সভায় সূচনা বক্তব্যে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন চান কি না সে নিয়েও সভায় সংশয় প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। ঐক্যফ্রন্ট নেতারা দেশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি চায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের ‘নিরপেক্ষ সরকারের’ অধীনে নির্বাচন দাবির এবং ইভিএম নিয়ে বিরোধী দলগুলোর আপত্তির সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমরা বিরোধী দলে থাকতে কথা বলা তো দূরের কথা, একটা মিটিংও করতে দেয়নি। আমরা কিন্তু সকলের জন্য সভা-সমাবেশ উন্মুক্ত করে দিয়েছি। কাউকে বাধা দিইনি। এখন একটা ঐক্যজোট হয়েছে। তারা মুখে বড় বড় কথা বলে আর দুর্নীতিবাজ সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া এবং সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমান তাদের সঙ্গে জোট করেছে। সেই দলসহ বিএনপি-জামায়াত জোট ঐক্য হয়েছে। তারা বলল, আমরা নাকি তাদের মিটিং করতে দিচ্ছি না। সিলেটে তারা মিটিং করল। আগেই তারা বলে, আমাদের দিচ্ছে না। আমার যেটা মনে হয় যে তারা চায় আমরা তাদের বাধা দিই। ’

এছাড়া সভায় আগামী নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।

গতকালের সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ ও সংসদীয় দলের সদস্যরা।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি