ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ৪ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারীদের চরম শাস্তি দেওয়া হোক’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০১৮ রবিবার, ০৬:৩৩ পিএম
‘জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারীদের চরম শাস্তি দেওয়া হোক’

‘পরিবহন শ্রমিকরা কয়েকদিন পরপর এভাবে হঠাৎ করে পরিবহন বন্ধ করে মানুষকে কষ্ট দেয়, এটা ঠিক না। কিছুদিন পরপর এমন অরাজকতা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারীদের  আইনের আওতায় এনে চরম শাস্তি দেওয়া হোক। তাদের লাইসেন্স বাতিল করার দাবি করছি সকারের কাছে।’

উপরোক্ত কথাগুলো বলছিলেন পরিবহণ ধর্মঘটের কারণে ভোগান্তির শিকার মিরপুর ১ নম্বর নিবাসী এবং ধানমন্ডি ২৭ এ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আলম সরকার। 

তিনি আরও বলেন, ‘সকালে অফিসে আসার সময় অনেকে কষ্ট করে এসেছি। মিরপুর ১ নম্বর থেকে কল্যাণপুর পর্যন্ত হেটে এসেছি। কল্যাণপুর থেকে ধানমন্ডি ২৭ পর্যন্ত দুইজনে শেয়ার করে আসছি, রিকসায় ভাড়া লাগছে ১০০ টাকা। যাওয়ার সময় কিভাবে যাব, কত লাগবে আল্লাই জানে।’ 

শুধু আলম সরকার নয় পরিবহন ধর্মঘটের কারণে রাজধানীসহ সারাদেশে অসংখ্য মানুষ এমন ভোগান্তির কবলে পরে সীমাহীন কষ্ট পোহায়। 

‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ এর কয়েকটি ধারা সংশোধন এবং ৮ দফা দাবিতে শ্রমিকদের সারা দেশে টানা ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট চলছে। শ্রমিকদের পরিবহন ধর্মঘটের কারণে রাজধানীতে সকাল থেকেই কোনও গণ পরিবহন চলাচল করে নাই। যার ফলে অফিসগামী মানুষজন চরম কষ্টে করে অফিস যেতে হয়। বাস না থাকায় অনেকেই পায়ে হেটে অফিসে অথবা গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। অন্যদিকে আবার পরিবহন অবরোধের সুযোগে রিকসা ও সিএনজি চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছামত কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করে নেয়।

সরেজমিনে ফার্মগেট এলাকায় দেখা যায়, প্রাইভেট গাড়ী এবং সিনজি, মোটর সাইকেল ছাড়া রাস্তায় আর কোনো যানবাহন নেই। অনেকক্ষণ পর পর একটা দুইটা বিআরটিসি গাড়ী আসলেও তা যাত্রীর তুলনায় অপর্যাপ্ত। তাই বিআরটিসির কোনো গাড়ী আসলেই উঠার জন্য হুড়োহুড়ি পরে যায়। বাধ্য হয়ে অনেকে বিআরটিসি বাসের হ্যান্ডেল ধরে ঝুলে ঝুলে যেতেও দেখা যায়।   

ফার্মগেটে বাসের জন্য অপেক্ষারত হুমায়ুন কবির শিকদার নামের একজন আইনজীবী বলেন, ‘আমরা পরিবহন শ্রমিকদের কাছে দিনে দিনে জিম্মি হয়ে পড়ছি। যখন আইনটা সংসদে উঠলো তখন তাঁরা কিছু বললো না, এখন আইন পাশ হয়ে যাওয়ার পর তাঁরা কেন এভাবে মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে। আজকে প্রায় সবাই সময়মত তাদের অফিসে যেতে পারে নাই, কাজ করতে পারে নাই। শারীরিক কষ্টতো হচ্ছেই মানুষের আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে।’

সেফা আক্তার নামে আরেকজন নারী যাত্রী ঘণ্টা খানেক সময় ধরে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন বলে বাংলা ইনসাইডারকে জানান। তার কাছে পরিবহন ধর্মঘটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এভাবে মানুষকে কষ্ট দেওয়ার কোনো দরকার আছে? পুরান ঢাকা থেকে হেটে এবং রিকসায় ফার্মগেট আসলাম। মিরপুর দশে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি। মনে হচ্ছে বাকি পথও হেটেই যেতে হবে। 

সাজ্জাদ হোসেন নামে মকবুল হোসেন কলেজে দর্শনের তৃতীয় বর্ষের পরিক্ষার্থী বলেন, আজকে আমার ফাইনাল পরীক্ষা ছিল, ভোর পাঁচটার সময় সাভার থেকে রওনা দিয়েছি, অনেক কষ্টে কলেজে পৌঁছেছি। পরীক্ষা শেষে এখন আবার বাড়ী ফেরার জন্য যুদ্ধ করতে হবে। পরিবহন শ্রমিকরা যা ইচ্ছা তাই করছে, দেশের মানুষকে কষ্ট দেওয়ার জন্য তাদের শাস্তি হওয়া উচিৎ।

বারডেম হাসপাতালে ভর্তি অসুস্থ দাদিকে দেখতে এসেছিলেন মুন্সিগঞ্জ থেকে আলমগীর হোসেন নামের একজন মাদ্রাসার ছাত্র। দাদিকে হাসপাতালে দেখে শ্যাওড়াপাড়ায় তার চাচার বাসায় যাবেন কিন্তু রাস্তায় বাস না পেয়ে হাটা শুরু করেছেন।

মিরপুর কাজিপাড়া যাওয়ার জন্য কাওরান বাজারে অপেক্ষামান নুরুল হক নামে একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী বলেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের নেতারাইতো সরকারে আছে। শ্রমিকদের কোনও দাবী দাওয়া থাকলে তা সকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের লোকদের সঙ্গে বসেতো সমাধান করা যায়। তা না করে কার নির্দেশে জনসাধারণকে এমন কষ্ট দেওয়া হচ্ছে তাদের খুঁজে বের করা দরকার। তাদেরকেই আগে শাস্তি দেওয়া দরকার।

পরিবহন ধর্মঘটের কারণে আজ ঢাকায় যারাই বাসা থেকে হয়েছে, বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য প্রায় সবাই সীমাহীন কষ্ট ও দুর্ভোগে শিকার হয়েছেন। সকলের কন্ঠেই পরিবহন শ্রমিকদের এমন কর্মকান্ডে ক্ষোভ ও হতাশা লক্ষ করা যায়। পরিবহন শ্রমিক ও সরকারের কাছে ধর্মঘট প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোড় দাবিও করেন সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষ।   

বাংলা ইনসাইডার/আরকে/জেডএ