ঢাকা, সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বাংলাদেশে ছাপা সংবাদপত্র শক্তিশালী হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০১৮ বুধবার, ০৩:৪৯ পিএম
বাংলাদেশে ছাপা সংবাদপত্র শক্তিশালী হচ্ছে

বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যমের জনপ্রিয়তা। ধারণা করা হয়, নিকট ভবিষ্যতে এই মাধ্যমের জনপ্রিয়তা টেলিভিশন এবং সংবাদপত্রকেও ছাড়িয়ে যাবে। আর বিশ্বব্যাপী একটি বিষয় লক্ষণীয়, পশ্চিমা অনেক বড় মিডিয়া হাউজও তাদের ছাপা সংস্করণ বন্ধ করে অনলাইনে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ভবিষ্যত নিয়ে গবেষণা করেছে। এই গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল ‘বাংলাদেশের ছাপা সংবাদমাধ্যমের কি মৃত্যু হবে?’। বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের গতি প্রকৃতি নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। গবেষণায় একটি বিষয় স্পষ্ট যে, বাংলাদেশে ছাপা সংবাদপত্রের মৃত্যু এখনই হচ্ছে না। বরং ছাপা সংবাদপত্র আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। গত এক বছরে বাংলাদেশে ছাপা সংবাদপত্রের পাঠক সংখ্যাও বেড়েছে।

বাংলাদেশের এখন ২৩ শতাংশ মানুষ পত্রিকা পড়ে। সে হিসেবে এদেশে পত্রিকার পাঠক প্রায় ৩ কোটি ৬৮ লাখ। এর মধ্যে ৫৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি ২ লাখ ৪০ হাজার পাঠক একাধিক পত্রিকা পড়েন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিপ্রেক্ষিতের সাম্প্রতিক এক গবেষণা জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

পরিপ্রেক্ষিতে গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই গবেষণা জরিপ চালায়। প্রিন্ট মিডিয়ার কি মৃত্যু হবে?’  এই শিরোনামের গবেষণায় সারাদেশে এক হাজার লোকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এতে দেখা গেছে, অনলাইন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার যুগেও বাংলাদেশে ছাপা সংবাদপত্রের পাঠক বাড়ছে।

জনপ্রিয়তায় শীর্ষে কোন পত্রিকা কিংবা বিশ্বাসযোগ্যতার দিক থেকেইবা কারা এগিয়ে এমন প্রশ্ন করে থাকেন অনেকেই। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতেই গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিপ্রেক্ষিত এক জরিপ পরিচালনা করেছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ওপর চালানো এই জরিপে ৫৩ শতাংশ পুরুষ ও ৪৭ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ করেছেন। 

পাঠক সংখ্যায় শীর্ষে কোন পত্রিকা?

প্রচার সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের শীর্ষ পাঁচটি পত্রিকা হলো: বাংলাদেশ প্রতিদিন, প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, যুগান্তর ও আমাদের সময়। হকারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রচার সংখ্যা হয় ৫ লাখ ৭২ হাজার কপি। প্রথম আলোর প্রচার সংখ্যা দিনে গড়ে ৪ লাখ ৬৬ হাজার। কালের কণ্ঠ ২ লাখ ২০ হাজার কপি। আর যুগান্তর ও আমাদের সময়ের প্রচার সংখ্যা যথাক্রমে ২ লাখ এবং ৭৬ হাজার কপি। এর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ প্রতিদিনই হকারদের কাছ থেকে কোনো পত্রিকা ফেরত নেয় না। বাকি সংবাদপত্র হকারদের কাছ থেকে ফেরত নেয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, একটি পত্রিকায় গড়ে ১২ জন মানুষের হাতে যায় বা পড়েন। সে হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিদিনের মুদ্রণ সংস্করণের পাঠক সংখ্যা ৬৮ লাখ ৬৪ হাজার। প্রথম আলোর পাঠক সংখ্যা ৫৫ লাখ ৯২ হাজার। কালের কণ্ঠের পাঠক সংখ্যা ২৬ লাখ ৪০ হাজার। যুগান্তর পড়ে থাকে ২৪ লাখ পাঠক। আর আমাদের সময়ের পাঠক প্রায় ৯ লাখ ১২ হাজার। এই গবেষণায় অনলাইন পাঠকদের সংখ্যা হয়নি।

পত্রিকা পড়েন এমন এক হাজার জন পাঠকের ওপর চালানো এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতিদিন ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ পত্রিকায় চোখ বুলান ৬৪ শতাংশ মানুষ। অন্যদিকে, প্রথম আলো পড়ে প্রায় ৪৭ শতাংশ মানুষ। উল্লেখ্য, উত্তরদাতাদের শতকরা ২৭ জন বলেছেন তাঁরা অন্তত তিনটি পত্রিকা পড়েন। ৫৫ জন দুটি পড়েন। শতকরা ১৮ জন ১ টি পত্রিকা পড়েন।

বিশ্বাসযোগ্যতায় শীর্ষে কোনটি?

জনপ্রিয়তার থেকেও বড় কথা হলো, একটি পত্রিকা পাঠকদের কাছে কতটা বিশ্বাসযোগ্য। প্রকৃতপক্ষে সংবাদের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপরই নির্ভর করে সেই পত্রিকাটির গ্রহণযোগ্যতা।

এক হাজার জন পাঠকের ওপর চালানো জরিপে দেখা গেছে, ৪৭ শতাংশ মানুষ মনে করে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সংবাদ বিশ্বাসযোগ্য। অর্থাৎ প্রথম আলোর সংবাদকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে ২৩ শতাংশ মানুষ। আর ১১ শতাংশ পাঠকের মতে, ডেইলি স্টারকে সবচেয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদপত্র মনে করে।

পূর্বানুমানে এগিয়ে কোন পত্রিকা?

এক হাজার জন পাঠকের মধ্যে ৩৭ শতাংশ মনে করে বাংলাদেশ প্রতিদিনের পূর্বানুমান সঠিক হয়। প্রথম আলোর আগাম সংবাদ সঠিক হয় ২৬ শতাংশ। অন্যান্য পত্রিকার নাম বলেছে ২১ শতাংশ। এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি ১৬ শতাংশ উত্তরদাতা। এরমধ্যে ৯৮ শতাংশ পাঠক আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে পত্রিকাটিতে প্রকাশিত একটি সংবাদের কথা উল্লেখ করেছে। ওই খবরে বলা হয়েছিলো, ওবায়দুল কাদেরই আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক হতে যাচ্ছেন।

কোন পত্রিকা নিরপেক্ষ?

জরিপে দেখা গেছে, পাঠকদের মধ্যে ৫৪ শতাংশ মনে করে বাংলাদেশ প্রতিদিন দল নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশ করে। আর ২৩ শতাংশের মতে প্রথম আলোর সংবাদ নিরপেক্ষ। ডেইলি স্টারকে নিরপেক্ষ মনে করে ১১ শতাংশ পাঠক।  

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি/জেডএ