ঢাকা, রোববার, ১৩ জুন ২০২১, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নৌকাবিরোধীই হতে চান নৌকার মাঝি

বাহাদুর আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১৩ নভেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার, ০১:১৪ পিএম
নৌকাবিরোধীই হতে চান নৌকার মাঝি মনিরুজ্জামান সরকার (বাঁয়ে) ও এম. এ. করিম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে ১৩ জন প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। এদের দুইজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে উপ-নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরোধীতার অভিযোগ রয়েছে। ফলে তাদের মনোনয়নের বিষয়টি নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগও বিব্রত।

এ আসনে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক। গত বছর ডিসেম্বরে মৃত্যুর আগে উপজেলায় একক আধিপত্য ছিল তাঁর। মৃত্যুর পর শূন্য হওয়া এই আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে মাঠে সক্রিয় ছিলেন ১২ জন প্রার্থী। শেষ পর্যন্ত দলের মনোনয়ন দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফরহাদ হোসেন সংগ্রামকে।

উপ-নির্বাচনে দলের মনোনয়ন না পাওয়ায় নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরজ্জামান সরকার ও কেন্দ্রীয় কৃষক লীগ নেতা এম. এ. করিম নৌকার প্রার্থীর বিরোধীতা শুরু করেন। মনিরুজ্জামান তখন নৌকার পরিবর্তে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট প্রত্যাশী বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় ছাত্রলীগের সভায় তোপের মুখে পড়েন বলেও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। আর এম. এ. করিম তার এক ঘনিষ্ঠজনকে মোবাইল ফোনে নৌকা প্রতীক যেন ভোট না পায় সেই নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তবে দলীয় নেতাদের বিরোধীতার পরও ভোটের লড়াইয়ে সংগ্রাম বিজয়ী হন।

আবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ছায়েদুল হকের স্ত্রী দিলশাদ আরা মিনু, মনিরুজ্জামান সরকার ও এম. এ. করিম ১১ জনের একটি জোট গঠন করেছেন। জোটের নেতারা বিভিন্ন সভা-সমাবেশের মাধ্যমে দলীয় সাংসদ ফরহাদ হোসেন সংগ্রামের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন।

জোটের বাকি নেতারা হলেন, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের অর্থ সম্পাদক নাজির মিয়া, কেন্দ্রীয় আওয়ামী প্রজন্ম লীগের সহসভাপতি ইখ্তেশামুল কামাল, কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগ নেত্রী এম.বি কানিজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা হিন্দু মহাজোটের সভাপতি রাখেশ সরকার, নাসিরনগর উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি আদেশ চন্দ্র দেব, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আলমগীর, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দ এহসানুল হক ও জেলা কৃষক লীগের সদস্য মো. আলী আশ্রাফ।

নৌকার বিরোধীতার পরেও নৌকার প্রার্থীতার বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে মনিরুজ্জামান সরকার বলেন, আমি সেক্রেটারি হওয়ার পর আওয়ামী লীগকে পাশ করানোর জন্য অনেক করেছি। এজন্য এখানে প্রতিবার নৌকা জিতেছে। উপনির্বাচনে জাপার পক্ষে ভোট চাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগ সঠিক নয়। এটা বর্তমান এমপির লোকজনের ষড়যন্ত্র।

নৌকার বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগ অস্বীকার করে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগ নেতা এম. এ. করিম বলেন, ফাঁস হওয়া ফোনালাপ আমার নয়। অন্যারা ষড়যন্ত্র করে পাঠিয়েছে। আমি নৌকার পক্ষে যে কাজ করেছি এলাকাবাসী জানেন। এগুলো নিয়ে বাড়াবাড়ি করা ঠিক না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. রাফিউদ্দিন বলেন, উপ-নির্বাচনে আমি তাদের (মনিরুজ্জামান ও করিম) ইউনিয়নে বলেছি আপনাদের নৌকায় বসে নৌকা টানা খারাপ। যারা আওয়ামী লীগে থেকে নৌকার বিরোধীতা করে আমি তাদের ঘৃণা জানাই। নৌকার বিরোধীতা করে নৌকার প্রার্থী হওয়া নিন্দনীয়। দল থেকে যাকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হবে আমরা তার জন্যই কাজ করবো।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ