ঢাকা, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

টকশো থেকে রাজনীতির মাঠে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা

বাহাদুর আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার, ১১:৫৭ এএম
টকশো থেকে রাজনীতির মাঠে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা

নিয়মিত টিভিতে যারা টকশো দেখেন তাদের কাছে ব্যাপক পরিচিত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বিএনপি’র হয়ে তিনি বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনে নিয়মিত টকশোতে অংশ নিয়ে থাকেন। তবে টকশোর কারণে দেশব্যাপী পরিচিত হলেও এবারই প্রথম রাজনীতিতে নেমেছেন তিনি।

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে আশুগঞ্জ-সরাইল উপজেলা নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ নির্বাচনী এলাকার অধীনে বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুরে। ভাষা সৈনিক অলি আহাদের মেয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে নিয়ে চলছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ নির্বাচনী আসনে ব্যাপক আলোচনা। হঠাৎ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ থেকে রুমিন ফারহানার নির্বাচনকে তারা সহজভাবে নিচ্ছেন না। আলোচনা চলছে দুই উপজেলার তৃনমূল নেতাকর্মীদের মাঝেও। তারা বলছে, টেলিভিশন টকশোতে বসে আলোচনা ও মাঠের রাজনীতি ভিন্ন বিষয়। আর ব্যারিস্টার রুমিনকে দুই উপজেলার মানুষ তো দূরের কথা স্থানীয় নেতা-কর্মীরাই কোন দিন দেখে নি। তাকে সবাই টেলিভিশন টকশোতে দেখেছে।

সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন যাবত সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি সহ স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পূর্বে তাঁর (রুমিন ফারহানা) নাম শুনি নাই ও চেহারাও দেখি নাই। তবে টেলিভিশন টকশোতে দেখে তাঁর নাম জানতে পেরেছি। ধারণা করছি, তিনি জীবনেও এই এলাকায় পা রাখেনি। যেখানে আমি নিজে দেখি নাই, চেনা জানা নেই সেখানে তৃনমূলের নেতাকর্মীরা কিভাবে চিনবে ও জানবে।’

আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু আসিফ আহমেদ বলেন, আমরা তো জানি উনার (রুমিন ফারহানা) বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ নির্বাচনী এলাকায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য তিনি দলীয় মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন কিনা জানি না। আমরা কোন দিন এই নির্বাচনী এলাকায় তাকে দেখি নাই এবং তার সাথে আমাদের কোন দিন কথাও হয়নি। তবে এই আসনে বাইরের কোন প্রার্থীর জায়গা নেই। আমাদের এলাকায় একটা কথা প্রচলিত আছে, তাহলো-`শুনলে মোদের হাসি পায়, ভিনদেশীরা ভোট চায়`।

আশুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি ফাইজুর রহমান বলেন, উনি ফোন দিয়ে খোজ খবর নিয়েছে। উনাকে তো টিভি টকশোতে দেখি। আমার সঙ্গে একবার কথা হয়েছে। দল যাকে মনোনয়ন দেয় তার পক্ষে কাজ করব।

আশুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সহ সভাপতি আমিনুল হক মামুন বলেন, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে আমরা তো শুধু টকশোতে দেখেছি। আমরা তো কোনদিন উনাকে দেখি নাই। মনে হয় না উনি কোন দিন সরাইল বা আশুগঞ্জের মাটিতে পা রেখেছেন।

তবে এ বিষয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, আমার সঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সেক্রেটারিসহ দলীয় নেতাকর্মীদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আছে। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে আমাদের বাড়ি ইসলামপুর সরাইলের অধীনে ছিল। পরে ইসলামপুর বিজয়নগরের অধীনে চলে যায়। ৭৩ সালে আমার বাবা এই আসন থেকে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছিল। সেই অর্থে সরাইল আমার নির্বাচনী এলাকা।

তিনি আরও বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গেও আমার যোগাযোগ রয়েছে। ম্যাডামের নির্দেশে বেশির ভাগ সময় আমাকে দেশের বাইরে থাকতে হয়েছে। আমি প্রতিদিনই দেশের কোন না কোন টিভি চ্যানেলে দলের জন্য কথা বলেছি। আমি তো সরাইল বসে এই কাজটি করতে পারব না। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর আমি যখন মাঠে কাজ করব তখন সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মোহাম্মদ শামীম, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. আজিজ আহমেদ, ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এসএন তরুণ দে, জাভেদ হাসান স্বাধীন, আহসান উদ্দিন খান শিপন, আশুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু আসিফ আহমেদ, সরাইল উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান এবং সরাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টার।

এদের মধ্যে উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া এই নির্বাচনী আসন থেকে বিএনপির হয়ে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০১ সালে বিএনপি জোটের শরিক ইসলামী ঐক্যজোটকে আসনটি ছেড়ে দেয়। সেবার বিজয়ী হন দলটির প্রয়াত আমির মুফতি ফজলুল হক আমিনী।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ