ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

জনপ্রিয় আ. লীগ নেতাদের বঞ্চিত করছেন জাতীয় পার্টি মহাসচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর ২০১৮ সোমবার, ০৬:৫১ পিএম
জনপ্রিয় আ. লীগ নেতাদের বঞ্চিত করছেন জাতীয় পার্টি মহাসচিব

জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে ব্যক্তিস্বার্থে দলকে বলি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচনে অংশ নিতে গিয়ে তিনি নিজের ও স্ত্রী নাসরিন জাহান রত্নার আসন দুটি নিশ্চিত করেছেন সবার আগে।

বিপরীতে গোপন সমঝোতা আর আর্থিক সুবিধা নিয়ে দলের ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়নবঞ্চিত করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে জাতীয় পার্টির কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। এ ক্ষোভ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে রোববার। এদিন পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বনানী কার্যালয় ও গুলশানে রুহুল আমিন হাওলাদারের বাসার সামনে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন।

দলকে বিকিয়ে দিতে মনোনয়ন বাণিজ্যে মেতে ওঠেন রুহুল আমিন হাওলাদার। প্রথমেই তিনি নিজের জন্য পটুয়াখালী-১ আসন এবং স্ত্রী নাসরিন জাহান রত্নার জন্য বরিশাল-৬ আসন বাগিয়ে নেন আওয়ামী লীগের কাছ থেকে।

অনেকের অভিযোগ, পটুয়াখালী-১ আসনের স্থায়ী নন রুহুল আমিন হাওলাদার। তিনি বহিরাগত। দুর্নীতিবাজ হিসেবে পরিচিত। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জীবনে প্রথমবারের মতো এ আসন থেকে তিনি বিনা ভোটে এমপি হন। নির্বাচিত হওয়ার পর পটুয়াখালীতে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়নও করেননি। উপরন্তু নৌকার শক্ত ঘাঁটি এ আসনে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের বঞ্চিত করেছেন। মহাজোটের ওপর ভর করে এমপি হওয়া হাওলাদার নিজের আখের গুছিয়েছেন। এর আগে কখনোই নির্বাচন করা তো দূরের কথা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও তাকে এ এলাকায় অংশ নিতে দেখা যায়নি। হাওলাদারের মতো বিচ্ছিন্ন দুর্নীতিবাজকে আবারও মনোনয়ন দেয়া হলে এখানে মহাজোটের পরাজয় নিশ্চিত।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পটুয়াখালীর বাসিন্দা নন রুহুল আমিন হাওলাদার। উড়ে এসে জুড়ে বসে তিনি ওই আসন থেকে ২০১৪-এর ৫ জানুয়ারির বিনা ভোটের নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন। এমপি হয়েই পটুয়াখালীতে হোটেল ব্যবসা শুরু করেন। এর সঙ্গে জমি দখলসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

একই অবস্থা তার স্ত্রী নাসরিন জাহান রত্নার বেলায়ও। বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসন থেকে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা ভোটে প্রথম এমপি হন তিনি। এলাকায় জনপ্রিয়তা না থাকলেও দলকে বলি দিয়ে আওয়ামী লীগকে ম্যানেজ করে আসন নিশ্চিত করেন হাওলাদার। এবারের নির্বাচনেও একই কাজ করেছেন।

জানা গেছে, পটুয়াখালী-১ ও বরিশাল-৬ আসন আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি। পটুয়াখালী-১ আসন থেকে এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাজাহান মিয়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান আহম্মেদ মৃধা।

বরিশাল-৬ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) হাফিজ মল্লিক, উপজেলা চেয়ারম্যান সামশুল আলম চুন্নু, বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম মাসুদ রেজার স্ত্রী আইরিন রেজা।

এরা প্রত্যেকেই এলাকায় জনপ্রিয়। অথচ জনবিচ্ছিন্ন হয়েও দুটি আসনেই মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন রুহুল আমিন হাওলাদার ও নাসরিন জাহান রত্না। এ নিয়ে দুই নির্বাচনী এলাকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ/ডেজএ