ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

এরশাদের জন্য আকুতি বিদিশার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৩:৩৬ পিএম
এরশাদের জন্য আকুতি বিদিশার

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিরোধী দলের নেতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে নিয়ে তার সাবেক স্ত্রী আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছেন। এরশাদ অসুস্থ হয়ে এখন সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যেই তার মৃত্যুর গুঞ্জন উঠেছে। গুঞ্জনে কান না দেওয়ার জন্য তার দল থেকে দেশবাসীকে অনুরোধ করা হয়েছে।

কোন গুঞ্জনে কান না দিয়ে তার জন্য দোয়া করতে বলে আবেগতাড়িত এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদ। এ স্ট্যাটাসে এরশাদের সঙ্গে তার ছেলে এরিকের সম্পর্ক, তাদের অতীত ও বর্তমান জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন বিদিশা।

বিদিশার সেই পোস্টটি (ইংরেজি অক্ষরে বাংলায় লেখা) হুবহু তুলে ধরা হলো, ‘উনাকে আরও কিছু দিন বাঁচতে দিন। এফবিতে (ফেসবুকে) দেখেছি উনাকে মেরে ফেলেছেন। বিশ্বাস করুন, উনি আরও কিছু দিন বাঁচতে চান আমাদের ছেলে এরিকের জন্য। উনি পৃথিবীতে এরিক ছাড়া বোধহয় আর কাউকে এত ভালোবাসেননি। আমিও সব মাতৃত্বের লড়াই করার পরও ছেলেকে বাবা থেকে আলাদা করতে পারিনি।

সব থেকে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছি আমি আমার সন্তানকে কাছে না রেখে, চোখে না দেখে। তারপরও আমাকে পরম আনন্দ দেয় বাবা ছেলের খুঁনসুটি দেখে। কোনো শর্তের বন্ধন নেই। বাবা-ছেলের বয়সের পার্থক্যের পরও তাদের মধ্যে আড্ডা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক চোখে পড়ার মতো। ছেলেকে স্কুলে দিয়ে এবং নিয়ে আসে একজন বৃদ্ধ পিতা। ছুটির দিনে বাবা-ছেলের একসঙ্গে ভ্রমণ।

রাতে এরিক ছাড়া উনি ঘুমাতে পারেন না একদম। তাই তো গত সপ্তাহে আমি যখন সিএমএইচ গেলাম দেখতে, দেখি নাশতা করেন নাই, অপেক্ষায় আছেন এরিকের। দুপুরে এরিক স্কুল থেকে ফিরলে লাঞ্চ করবেন বললেন। আমাকে সরি বললেন, অনেক অন্যায় হয়ে গেছে আমার সঙ্গে, যা সংশোধন করার উপায় নেই। তা অন্য প্রসঙ্গ। অনেক স্মৃতিচারণ করলেন তিনি।

বলেই ফেললেন, রাত জেগে এরিক নাকি বকবক করে, যা নাকি আমি করতাম এককালে। উনি চোখ বন্ধ করলে এরিক নাকি চোখ খুলে দেয়, বলে আচ্ছা ড্যাডি এই বার তা হলে একটা রবীন্দ্র সংগীত শোনাই, কিন্তু তুমি তো ঘুমাবে না আমার আগে। গান করতে করতে এরিক নিজেই ঘুমিয়ে পড়ে। আমিও নাকি একি কাজ করতাম অনেক বছর আগে। সেদিন উনার চোখে জল ছিল। জীবন-মৃত্যুর এই শেষ সময়ে উনার উপলব্ধিগুলো নিশ্চয়ই মিথ্যা নয়।

চল্লিশ মিনিট আমার হাত উনার দুই হাত দিয়ে ধরে বসেছিলেন। চোখ দিয়ে ঝরছিল জল আমাদের দুজনেরই। আমাদের দুজনের মধ্যে সময়ের গ্যাপটা অনেক বেশি হয়ে গেছে এতদিনে, তাই উনার জীবনে শেষ সময়ে আমি কোনো সেবা করতে পারলাম না।

উনি (এরশাদ) বললেন, আমি নাকি বেশি সোজাসাপ্টা, সাদাসিধা ছিলাম, লম্বা হয়েছি, বুদ্ধি হয়নি আমার। আমি আরও খুশি আছি অল্প বুদ্ধিতে সোজাসাপ্টা সিম্পল জীবনে। রাজনীতি, প্যাঁচ ষড়যন্ত্র টেনশন নিয়ে ঘুমাতে হয় না আমার। সততার সঙ্গে স্বল্প পরিশ্রমে আমার ফাউন্ডেশনটা চালাই তাতেই আমার শান্তি।

দিনের শেষে রাতে এরিকের কথা মনে হলে মায়াকে বুকে চেপে ঘুমাই আমি। উনিও মায়াকে ভালোবাসেন। বললেন, তোমার মতো মা থাকলে বাবার দরকার নেই। আমি শুধুই বললাম- i wish our marriage wasn`t so crowded. উনি আমার গালে আলতো করে কাঁপা কাঁপা হাতে স্পর্শ করে বললেন, সরি!

(এরশাদ বললেন) এরিক আছে, মায়া আছে তোমার পাশে। আমার মনে হয়েছে উনি আরও কিছু দিন বাঁচতে চান উনার এরিকের জন্য শুধু। আমিও চাই আরও কিছু দিন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, আনন্দ উনি এরিকের কাছ থেকে নিয়ে যাক। যেটি একমাত্র এরিকই দিতে পারবে উনাকে। কারণ এরিক তো স্পেশাল চাইল্ড।’

বাংলা ইনসাইডার/এমএস