ঢাকা, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কমিউনিটি ক্লিনিক কার?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৪:০০ পিএম
কমিউনিটি ক্লিনিক কার?

কমিউনিটি ক্লিনিকের মালিকানা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আর কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্টের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। ট্রাস্ট গঠিত হওয়ার পরও এর কর্তৃত্ব ছাড়েনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের একজন লাইন ডিরেক্টরের স্বেচ্ছাচারিতায় চলছে কমিউনিটি ক্লিনিক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন হলো কমিউনিটি ক্লিনিক। প্রত্যন্ত ও তৃণমূল মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে তিনি এই কমিউনিটি ক্লিনিকের ধারণাটির সূচনা করেন। কমিউনিটি ক্লিনিকের মূল লক্ষ্য ছিল প্রতি ৬০০০ হাজার মানুষের জন্য তৃণমূলে একটি করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি-জামাত জোট কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এর ফলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আবারও কমিউনিটি ক্লিনিক পদ্ধতির সূচনা করে। ভবিষ্যতে অন্য কেউ যেন কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করতে না পারে সেজন্য জনগণের অংশিদারিত্বের মাধ্যমে করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এটাকে আরও জনঅংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ কার তৃতীয় মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে ২০১৮ সালে কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্ট গঠন করে। ট্রাস্টের চেয়ারম্যান করা হয় অধ্যাপক সৈয়দ মোদাচ্ছের আলীকে।

কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্ট হওয়ার পরেও এখানে নিয়োগ, টেন্ডারসহ যাবতীয় কাজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন লাইন ডিরেক্টর নিজের স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে করছেন বলেই অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি ট্রাস্টকে অবহিত না করেই বিভিন্ন টেন্ডারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং চাকরিতে লোক নিয়োগের ঘটনা ঘটছে।

কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোদাচ্ছের আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলা ইনসাইডারকে বলেন যে, আইনত যেদিন ট্রাস্ট গঠিত হয়েছে সেদিন থেকেই কমিউনিটি ক্লিনিকের সমস্ত দায়-দায়িত্ব, অধিকার ট্রাস্টের উপর। তারপরও তারা যদি এসব কাজ করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে যে, কমিউনিটি ক্লিনিক গঠিত হলেও এটা দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। নিয়োগ এবং টেন্ডার বাণিজ্য করার জন্যই কমিউনিটি ক্লিনিকের বর্তমান লাইন ডিরেক্টর এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ট্রাস্টকে আড়াল করে অবৈধভাবে সমস্ত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তাই প্রশ্ন উঠেছে, ‘কমিউনিটি ক্লিনিক কার?’

বাংলা ইনসাইডার/এমআর