ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রী কেন কড়া হেডটিচার

সৈয়দ বোরহান কবীর
প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০১৯ রবিবার, ০৭:০০ পিএম
প্রধানমন্ত্রী কেন কড়া হেডটিচার

আমাকে টেলিফোন করলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। বললেন ‘প্রধানমন্ত্রী এতো কড়া কেন?’ উত্তরে আমি বললাম প্রধানমন্ত্রী এখন জনগণের ভাষায় কথা বলছেন। আজ রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে যান। সেখানে সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়ে কঠোর বার্তা দেন।

তিনি নার্সদেরও মানুষের সেবা করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘সেবা না দিতে চাইলে চাকরী ছেড়ে দিন।’ প্রধানমন্ত্রীর বডি ল্যাংগুয়েজেই স্পষ্ট ছিলো তিনি তার বিশ্বাস  থেকে এই কথাগুলো বলছেন। শুধু আজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য নয়, চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি যেন ‘কড়া হেডটিচার’। ৭ জানুয়ারি শপথ নেয়ার পর প্রথমে গেছেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে, সেখানে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দুর্নীতি করলে চাকরী ছাড়ুন। বেতন তো অনেক বাড়ানো হয়েছে।’ এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও তিনি কঠোর ভাষায় দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলেন। চতুর্থবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যেন অন্যরূপ। বাসায় কড়া গৃহকর্ত্রী যেমন সব কিছু ঠিকঠাক পরিপাটি চান, নিয়ম শৃংখলার এতোটুকু ছেদ তার দৃষ্টি এড়ায় না। তেমনি প্রধানমন্ত্রীও দুর্নীতিমুক্ত, পরিচ্ছন্ন, সুন্দর একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চান। আর দায়িত্ব নেয়ার পরই তিনি বুঝিয়ে দিচ্ছেন, এসব ব্যাপারে ন্যূনতম ছাড় দিতে রাজী নন তিনি।

তাই, শুধু আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান নন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও একটু ভয় পেয়েছে। তাদের আলোচনার সারকথা একটাই ‘আপা এবার কাউকে ছাড়বে না, সাবধান।’ এই যে প্রধানমন্ত্রী এতো কঠোর ভাষায় কথা বলছেন, তা কেন? এ প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ। তিনি জনগণের ভাষায় কথা বলছেন। একজন ভুক্তভোগী অসুস্থ মানুষ যখন হাসপাতালে যান, গিয়ে দেখেন ডাক্তার নেই, তখন তার কী অনুভূতি হয়? তার কি বলতে ইচ্ছে করে না, হাসপাতালে না এলে চাকরী করার দরকার কী? অবশ্যই করে। আমারও এরকম মাঝে মধ্যে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করেছে। কিন্তু আমি বলতে পারিনি। কারণ আমি জানতাম, এর ফলে হয়তো আমার মা’র চিকিৎসাই বন্ধ হবে। আমার মতো অনেক, হাজারো ভুক্তভোগী এভাবে নীরবে চিৎকার করে। প্রধানমন্ত্রী যেন আজ আমাদের কণ্ঠস্বর হলেন। একটা মানুষের চাকরী যখন ঘুষের উপর নির্ভর হয়ে পড়ে, একটা ফাইল যদি শুধু টাকার তেলে সচল হয়, তখন আপনার কী বলতে ইচ্ছা করে। এরকম না যে, ‘ঘুষ খান কেন? বেতন পান না?’ প্রধানমন্ত্রীর মানুষের কথা গুলো বলেছেন। যখন আমরা চারপাশে মাদকের থাবা দেখি, দেখি তরুণ-তরুণীদের কাছে চলে আসছে ড্রাগস। তখন আমাদের কী বলতে ইচ্ছে করে? পুলিশ কী করে? প্রধানমন্ত্রী মানুষের এই অনুভূতিই প্রতিধ্বনিত করেছেন তার বক্তৃতায়। এবার প্রধানন্ত্রী সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়েছেন। তাদের আশা আকাঙ্ক্ষার কণ্ঠস্বর হয়েছেন। এটাই হলো ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’। জনগণের অধিকারের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মানুষ যা বলতে চায়, তা বলছেন প্রধানমন্ত্রী।

মানুষ যেরকম দেশটাকে দেখতে চায় সেরকম ভাবেই দেশ সাজানোর আয়োজন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। অতএব, যারা মনে করছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় দেশটা এখন আমাদের। তারা শিগগিরই বিপদে পড়তে যাচ্ছেন। এবার শেখ হাসিনা দেশটার মালিকানা জনগণকে দিয়েছেন। এজন্যই তিনি জনগণের ভাষায় কথা বলছেন। এজন্যই তিনি এখন কড়া হেডমাস্টার।