ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১২ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

পিতার ইজিবাইকে দিন কাটছে শিশু জান্নাতুলের

অনুব্রত সাহা মিঠুন, যশোর থেকে
প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রবিবার, ১১:৫২ এএম
পিতার ইজিবাইকে দিন কাটছে শিশু জান্নাতুলের

প্রতিটি শিশুরই রয়েছে মানবাধিকার। রয়েছে বাকি ১০টি শিশুর মত বেঁচে থাকার অধিকার। কিন্তু সবার ভাগ্যে কি আর তেমনটা জোটে? আজ বলবো ৭ বছরের শিশু জান্নাতুল ফেরদাউস মাওয়া‘র কথা। যার নামটি এতো সুন্দর হলেও হয়তো সুন্দর হবেনা তার ভবিষ্যত। কারণ তার দূরন্ত শৈশব যেন ইজিবাইকে লোহার খাঁচায় বন্দি।

সাধারণত এই বয়সে শিশুরা খেলাধুলা, পড়াশুনা আর দুষ্টুমিতেই মেতে থাকে। কিন্তু তার শৈশব আর দশটা শিশুর শৈশবের মতো নয়। জান্নাতুলের জীবনযাপন একেবারেই ভিন্ন। যখন আশপাশের শিশুরা খেলা করে, স্কুলে যায় তখন শিশু জান্নাতুলের দিন ও রাতের অধিকাংশ সময় পার হয় পিতার ইজিবাইকে বসে। পিতা ইজিবাইক চালান, আর শিশু জান্নাতুল তার ডান পাশেই বসে থাকে। তিনবেলা খাওয়াদাওয়া সেরে নিতে হয় হোটেলে। রাতে পিতার সঙ্গেই ঘুম ইজিবাইক চার্জ দেওয়া গোডাউনে।

তাকে দেখাশুনার জন্য পিতা ছাড়া আর কেউ নেই। ১ বছর আগে সংসার ছেড়ে মা চলে যাওয়ায় মায়ের আদর-ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত। আর এভাবে রাস্তায় রাস্তায় শৈশব পার করে দেওয়া জান্নাতুল ফেরদাউস মাওয়ার। লেখাপড়ার প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহ থাকলেও সেটা আর সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে জান্নাতুল জানায়, তার আম্মু চলে গেছে। এখন তাকে দেখার মতো কেউ নেই। আব্বু ইজিবাইক চালায়, আমি পাশে বসে থাকি। হোটেলে খাই, গোডাউনে ঘুমাই। কথা বলতে বলতেই তার হাসি মুখটা একেবারে অন্ধকারে ঢেকে যায়।

জান্নাতুলের পিতা ইজিবাইক চালক মুন্না মিয়া জানান, তার বাড়ি যশোর শহরের বেজপাড়া তালতলা এলাকায়। চাচাতো ভাইয়েরা মিলে পৈত্রিক সম্পত্তি কৌশলে দখল করে নিয়েছে। এই ঘটনার পর তার স্ত্রীও সংসার ছেড়ে চলে গেছে। বর্তমানে তার বসতবাড়ি নেই। শহরে ঘর ভাড়া করে থাকার মতো সামর্থ্য নেই তার। কেননা সারাদিন ইজিবাইক চালিয়ে যে অর্থ রোজগার হয় তা দিয়ে কোনোরকম খাওয়া দাওয়া চলে। তাই একমাত্র মেয়ে জান্নাতুলকে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় দিন রাতের অধিকাংশ সময় পার হয় তার। ভোর থেকে গভীররাত পর্যন্ত ইজিবাইকে জান্নাতুল পাশে বসে থাকে। গভীররাতে ফিরে ইজিবাইক চার্জ দেওয়া গোডাউনে তাদের রাত কাটে।

তিনি আরও জানান, একমাত্র মেয়েকে নিয়ে তারও স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়া। কিন্তু অর্থের কারণে তা হয়ে উঠছেনা। অর্থ সংকটের কারণে মেয়েকে স্কুলেও ভর্তি করাতে পারছেন না। কোনো সুহৃদ ব্যক্তি যদি দৃষ্টি দেন তাহলে শিশু জান্নাতুল ফেরদাউস মাওয়া লেখাপড়া করতে পারবে অবশ্যই। পথে পথে তার রাত দিন আর পার হবেনা তখন।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ