ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৩ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আলমডাঙ্গা রেল স্টেশন ‘ক্লোজ ডাউন’, ভোগান্তি চরমে

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সোমবার, ০৩:২৬ পিএম
আলমডাঙ্গা রেল স্টেশন ‘ক্লোজ ডাউন’, ভোগান্তি চরমে

জনবল সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী আলমডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের কার্যক্রম। গত ২৯ জানুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে স্টেশন থেকে কর্তব্যরত মাস্টারসহ অন্যান্য কর্মচারীদের প্রত্যাহার করায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি। একেবারে ‘ক্লোজ ডাউন’ অবস্থায় চলছে এই স্টেশনের কার্যক্রম। বর্তমানে বন্ধ রয়েছে ট্রেন প্রবেশের সিগন্যালও। 

এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। এ পরিস্থিতিতে অভিযোগের আঙুল উঠছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (আরটিও) আব্দুল্লাহ আল মামুনের খামখেয়ালিপনার দিকে। স্টেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালুর দাবিতে নানান কর্মসূচিও নিয়েছে স্থানীয়রা।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় অবস্থিত এই স্টেশনটি থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মত রাজস্ব উপার্জন হয়। আলমডাঙ্গার জন্য নির্ধারিত টিকেটের বিপরীতে প্রায় ৭/৮ গুণ বেশি টিকেটের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশন ও পোড়াদহ রেলওয়ে জংশন থেকেই আলমডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী।

যাত্রীরা স্টেশনে ট্রেনের সময়সূচি জানতে চাইলেও কেউ সেটা জানাতে পারছে না। আগে ট্রেন আসার আগ মুহূর্তে ঘণ্টা বাজলেও ৩১ জানুয়ারি থেকে তা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তবে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা রয়েছে এখনো।

এই স্টেশন ঘিরে প্রায় শতাধিক ছোট মাঝারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধের ফলে ব্যবসায়ীদের চোখেমুখে এখন হতাশা। ব্যবসায়ীরা জানান, স্টেশনটি যখন পুরোদমে চালু ছিল তখন শত শত যাত্রীর আনাগোনায় মুখরিত থাকত।

স্টেশনমাস্টার শরিফুল ইসলাম জানান, আরটিও আব্দুল্লাহ আল মামুন পৃথক আদেশে ২৯ জানুয়ারি সহকারী স্টেশনমাস্টার (এএসএম) নাজমুল হোসেনকে কুষ্টিয়ার পোড়াদহ রেলস্টেশনে, পয়েন্টসম্যান মাহাবুল হককে যশোরের সিঙ্গিয়া এবং ৩০ জানুয়ারি পয়েন্টসম্যান সাইফুল ইসলামকে কুষ্টিয়ার হালসা স্টেশনে বদলি করেন। এর আগে পয়েন্টসম্যান ইমদাদুল হককে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বদলি করা হয়েছিল। যেকোন সময় শরিফুল ইসলামেরও বদলির আদেশ আসতে পারে।

বিভিন্ন নিয়ম বাদ দেওয়ায় অনেক সমস্যার মধ্যে দিয়ে ৩১ জানুয়ারি থেকে লোকোমাস্টারদের (ট্রেনচালক) ট্রেনের গতি কমিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হচ্ছে।

আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, জানান, দ্রুত স্টেশনের সব কর্মকর্তাদের আবার স্টেশনে দায়িত্ব প্রদান করে স্টেশনের সকল কার্যক্রম সচল করতে হবে। ইতিমধ্যে উপজেলা তৃণমূলের ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ আলোচনা করে একটি আন্দোলনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে। স্টেশনের কার্যক্রম স্বাভাবিক না করলে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে।

রেলওয়ের বিভাগীয় কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এর আগেও আরও ৫১টি স্টেশন থেকে জনবল গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমাদের দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। এমন পরিস্থতিতে আলমডাঙ্গা স্টেশন থেকে জনবল প্রত্যাহারের মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছি আমরা। সরকারিভাবে এখনো কোন নিয়োগ প্রদান করা হয়নি। আগামী মাসের মধ্যে স্টেশনের বিভিন্ন স্তরে নিয়োগ প্রদান করা হলে হয়ত আবারও আলমডাঙ্গা স্টেশনের সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক করা যাবে।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/এমআর