ঢাকা, শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

উত্তেজনা ও আশঙ্কার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০১:১০ পিএম
উত্তেজনা ও আশঙ্কার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা

আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে মুসলিমদের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ বিশ্ব ইজতেমা। সাম্প্রতিক সময়ে তাবলিগের দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে একসময় এ বছরের ইজতেমা স্থগিত করে দেয়া হয়। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সরকারী নির্দেশনা মেনে একত্রে ইজতেমা করতে রাজি হয়। কিন্তু এবারও ইজতেমায় গণ্ডগোলের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। সরকারী নির্দেশ মতে ১৫ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। কথা ছিল প্রথম দু’দিন এক পক্ষ এবং পরের দু’দিন অন্য পক্ষ ইজতেমার ব্যবস্থাপনায় থাকবে। কিন্তু কোনো পক্ষই এখন এই সিদ্ধান্ত মানছে না। বরং নিজেদের মতো করে তারা ৩ দিনের ইজতেমার তারিখ ঘোষণা করেছে। আখেরি মোনাজাতও আলাদাভাবে করার ঘোষণা দিয়েছে পক্ষ দুটি।

ইজতেমা নিয়ে দুই পক্ষের মতের গড়মিলের বিষয়টি নতুন করে আবারও সামনে আসে গত রোববার। তাবলিগ জামাতের আমির মাওলানা সাদ কান্দলভীর বিরোধী পক্ষকে সমর্থন দিয়ে বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক) একটি বিবৃতি দেয়। সেখানে ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ইজতেমা সফল করার আহ্বান জানানো হয়। যদিও সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাদবিরোধীরা ইজতেমার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পেয়েছেন ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি। অপরদিকে সাদপন্থীদের জন্য সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী ইজতেমার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি থাকলেও তারা ১৭, ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি—এই তিন দিন ইজতেমা করার ঘোষণা দিয়েছে।

গত বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমা থেকেই মূলত বাংলাদেশে তাবলিগের মধ্যে বিভেদ সামনে আসে। ধর্ম নিয়ে মাওলানা সাদের কিছু বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে তাবলিগের দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। সাদপন্থী পক্ষে আছে সাদের পক্ষে আছে তাবলিগ জামাতের নিয়মিত নেতাদের একটি অংশ। অপরদিকে সাদবিরোধী পক্ষে একাত্মতা ঘোষণা করে হেফাজতে ইসলাম ও কওমী মাদ্রাসার আলেমরা।

গত বছরের ১ ডিসেম্বর টঙ্গীর তুরাগ তীরে ইজতেমা ময়দানের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে তাবলিগের দুই পক্ষ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে ২ জন নিহত এবং অনেকেই আহত হয়। এমন অবস্থায় সরকারের সঙ্গে কয়েক দফায় বৈঠক শেষে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ ১৫ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি ইজতেমার তারিখ ঘোষণা করেন।

কিন্তু এরপরও তাবলিগের দুই পক্ষের মধ্যে একটি চাপা উত্তেজনা কাজ করছিলো। এর প্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের নেতারা। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদেরকে শান্তিপূর্ণভাবে ইজতেমা আয়োজনের নির্দেশ দেন। পরস্পরবিরোধী কোন বক্তব্য না দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু তারপরও তাবলিগের দুই পক্ষের মধ্যে গোলযোগের আশঙ্কা ও উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

বাংলা ইনসাইডার/এমআর