ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯, ১১ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না যাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার, ১১:২৯ এএম
খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না যাদের

মর্গে থরে থরে সাজানো লাশ থেকে প্রিয়জনকে খুঁজে পেতে আকুল হয়ে আছেন স্বজনরা। প্রিয়জনের খোঁজে এখনো ভীড় করছেন স্বজন। চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ উদ্ধারের পর নেয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে। সেখানেই স্বজনদের আহাজারি যদি এক টুকরো মাংসও পাওয়া যায়। উদ্ভ্রান্তের মতো ছুটছেন এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে, গড়াগড়ি খাচ্ছেন মাটিতে। কান্না আর আহাজারিতে বৃহস্পতিবার সারা দিন ভারী ছিল বাতাসও। শুক্রবার সকালেও এমন চিত্র দেখা গেছে।

প্রাপ্ত খবরে ৬৭ জনের লাশ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সনাক্ত ৪৫ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। যাদের এখনো পাওয়া যায়নি। তাঁদের মধ্যে রয়েছে:

১. মর্গ চত্বরে মজিবর হাওলাদারের লাশের অপেক্ষায় রয়েছেন তার ছেলে মামুন ও স্বজনরা।

২. সন্তানের লাশের জন্য আহাজারি করছেন রাজীব মৃধা। আগুন লাগার ১০ মিনিট আগেও ছেলের সঙ্গে কথা হয় মোবাইল ফোনে।

৩. আছিয়া বেগম হারিয়েছেন ৬ বছর বয়সী ছোট ভাইকে। মোবাইল ফোনে ছবি দেখিয়ে আহাজারি করছেন। বলছেন, ‘আমার ভাইডারে আনে দাও। আমার ভাই স্কুলে যাবে।’

৪. তাসলিমা আক্তার হাঁরিয়েছেন তার দুই ভাই ও ভাইয়ের ২ বাচ্চাকে।  তখন পর্যন্ত লাশ শনাক্ত করতে পারেননি তিনি। ভাইয়ের খোঁজে এসেছেন কাজী এনামুল হক। লাশ শনাক্ত করতে পারেননি তিনিও।

৫. চাচা কাজী এনামুল হক অভির খোঁজে মর্গ ও জরুরি বিভাগে ঘুরছেন কাজী জহির।

৬. ছোট ভাই আনোয়ার হোসেনকে (৩৫) খুঁজতে এসেছেন শাহাদত হোসেন। জরুরি বিভাগের সামনে টাঙানো আহতদের তালিকা কিংবা মর্গে রাখা লাশ- কোথাও তিনি পাচ্ছেন না ভাইয়ের সন্ধান।

৭. হাজী বান্নু রোডে থাকতেন শাহীন (৪৫)। বিভিন্ন পণ্যের ‘ব্রোকার’ হিসেবে কাজ করতেন তিনি। তাকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

৮. মো. সেলিম নামের একজন বন্ধু রেজাউল ইসলামকে খুঁজছেন। রেজাউল আহত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছেন সেলিম। রেজাউল ওয়্যার হাউসে কাজ করেন। তার বাড়ি কেরানীগঞ্জে।

৯. এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর ছাত্র তানজিল হাসান খান রোহানের। আজ শুক্রবার ভোর বেলা স্বজনেরা রোহানের সন্ধানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে গিয়েছেন।

১০. দোলা ও বৃষ্টি নামে দুই আবৃতিকার নিঁখোজ রয়েছেন। বুধবার সকালেও তাঁদের খোজ মেলেনি। বুধবার রাত ১০টার দিকে পরিবারের সঙ্গে যখন তারা শেষ কথা বলেন। তখন তাঁদের অবস্থান চক বাজারের আশেপাশে ছিল।

১১. বুধবার রাতে যে স্থানে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে তার পাশেই একটি ফার্মেসি থেকে অসুস্থ মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে যান ব্যবসায়ী নাফিজ। এখন পর্যন্ত তার কোন সন্ধান পায়নি নাফিজের স্বজনরা।

অনেকেই আশা করছেন, অক্ষত বা জীবিত তো এখন পাওয়া সম্ভব নয়। এখন পর্যন্ত যাদের সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাদের মধ্যে হয়তো আছেন তাদের প্রিয় স্বজনরা।


বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ