ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কাজ ছাড়া কাছের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ মার্চ ২০১৯ রবিবার, ০৯:০০ পিএম
কাজ ছাড়া কাছের মানুষ

একজন রাজনীতিবিদের জীবন কর্মব্যস্ততায় ভরা। তাকে সারাক্ষণ কাজের মধ্যে থাকতে হয়। কখনও দেশের কাজ, কখনও দলের কাজ। রাজনৈতিক কলাকৌশলের গোপন বৈঠকেও বসতে হয়। সারাক্ষণ নানারকম ব্যস্ততা, নানারকম বৈষয়ক চাহিদা, নানারকম ঝঞ্ঝাট মেটানোই রাজনীতিবিদদের প্রধান দায়িত্ব। আর তিনি যদি সরকার প্রধান হন তাহলে তো কথাই নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সারাদিনই কাটে ব্যস্ততার মধ্যে। নানারকম সরকারী কাজ, দেনদরবার, তদবির আবদার, আর রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণেই তার কর্মব্যস্ত সময় কাটে। এর মধ্যেই তার একান্ত কাছের কিছু মানুষ আছেন, যাদের সঙ্গে তিনি রাজনীতি, স্বার্থ, তদবির, দেন-দরবারের বাইরে শুধুমাত্র কিছুটা নির্মল সময় কাটান। এই নির্মল সময় কাটানো প্রত্যেক মানুষের জন্যই জরুরি। প্রত্যেকেই তাদের কাজ, স্বার্থের সংঘাতের বাইরে একটা বলয় গড়ে তোলেন, যেখানে তিনি বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারেন, মন খুলে কর্থাবার্তা বলতে পারেন। কিছুটা স্বার্থহীন সময় কাটাতে পারেন।

একটা মানুষের যেমন এইরকম স্বার্থহীন সম্পর্কের নিরেট আড্ডা জরুরি, তেমনি রাজনীতিবিদদের জন্যও এরকম স্বার্থহীন, নির্মল আলাপচারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাহলে যে কোন রাজনীতিবিদই দমবন্ধ অবস্তায় পড়তেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রীরও এরকম দমবন্ধ পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য কিছু কাজহীন কাছের মানুষ আছেন। তার কাজহীন কাছের মানুষের মধ্যে নিঃসন্দেহে তার পরিবারের সদস্যরা সবার আগে। সেখানে তার ছোট বোন শেখ রেহানা, তার দুই সন্তান ও তাদের সন্তানরা অবশ্যই এই কাজহীন সম্পর্কের প্রধান বলয়। এই প্রধান বলয়ের বাইরেও প্রধানমন্ত্রীর কাছের কিছু মানুষ আছেন যাদের সঙ্গে তিনি নির্মল সময় কাটান। যাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে, হাসি ঠাট্টা করে, কিংবা স্বার্থহীন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে স্বস্তি পান। এই স্বস্তিটাই তাকে কর্মদীপ্ত করে এবং একটা ঝঞ্ঝাটমুক্ত সময় কাটিয়ে তিনি আবার সজীব হয়ে ওঠেন। এরকম কিছু মানুষের আমরা সন্ধান পেয়েছি যারা কোন রকম কাজ বা স্বার্থ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কাছের মানুষ। এদের মধ্যে কয়েকজন নিয়ে আজকের এই প্রতিবেদন।

১. চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ: শাহাবুদ্দিন আহমেদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুব প্রিয় শিল্পীদের মধ্যে একজন। প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে তাকে খুবই পছন্দ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শাহাবুদ্দিনের সম্পর্ক ভাইবোনের। প্যারিসপ্রবাসী এই শিল্পী প্রধানমন্ত্রী ডাক দিলেই ছুটে চলে আসেন। সম্প্রতি তিনি টাঙ্গাইলের কুমুদিনীর এক অনুষ্ঠানের জন্য তিনি বাংলাদেশের এসেছিলেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কিছু সময় কাটিয়েছিলেন। পরে গণভবনে এসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন। গণভবনের জন্য একটি নতুন ছবির পরিকল্পনাও তিনি করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার আলাপচারিতা হয় ছবি, চিত্রকলা, সর্বশেষ চিত্রকলার অবস্থা নিয়ে। অনেকেই হয়তো জানেন না, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন ভালো চিত্রবোদ্ধা। তিনি ভালো ছবি বোঝেন এবং গণভবনে ওঠার পর থেকে তিনি গণভবনকে সাজিয়েছেন নানারকম চিত্রকলার সমাহারে। শিল্পী শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক আবেগঘন এবং অনেক পুরনো। সেকারণেই তার সঙ্গে যখন প্রধানমন্ত্রীর সময় কাটে তখন স্বার্থের কোন বেড়াজাল থাকে না।

২. রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা: রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা একজন রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ছোটবোন শেখ রেহানার সঙ্গে একই স্কুলে পড়তেন। সেই সূত্রে তাদের একটি পারিবারিক সখ্যতাও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বড় বোন ছোট বোনের। প্রধানমন্ত্রীর বিনোদনের একটি বড় উৎস হলো রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার গান। যে চ্যানেলেই বন্যার গান হোক না কেন, প্রধানমন্ত্রী সেসময় অবসরে থাকলে সে গান তিনি শুনবেনই। প্রধানমন্ত্রী বন্যার গানের সিডিগুলো নিজের কাছে রাখেন। একটু অবসর পেলেই সেই গানগুলো তিনি বারবার শোনেন। কিছুদিন আগে বন্যার এক লাইভ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ফোন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। বন্যাকেও প্রধানমন্ত্রী মাঝে মাঝে ডেকে নেন। তার গান শোনেন। রবীন্দ্র সঙ্গীত ও সঙ্গীতের বিভিন্ন দিক নিয়ে তার সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন। যে আড্ডাটা শুধুই নির্মল, সেখানে কোন চাওয়া পাওয়ার সম্পর্ক নেই।

৩. ডা. নুজহাত চৌধুরী: ডা. নুজহাত চৌধুরী শহীদ বুদ্ধিজীবি ডা. আলীম চৌধুরীর মেয়ে। তিনিও পেশায় চিকিৎসক এবং বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে চক্ষুবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপনা করেন। চিকিৎসক পরিচয়ের আড়ালে তার বড় পরিচয় হলো তিনি একাত্তরের শহীদদের সন্তানদের সংগঠন ‘প্রজন্ম একাত্তর’ এর অন্যতম নেতা। তিনি প্রধানমন্ত্রী খুবই স্নেহের পাত্র। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার মাঝে মাঝেই সাক্ষাৎ হয়। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারা কথা বলেন। কিন্তু সে বিষয়গুলোর মধ্যে কোন স্বার্থ, দেন-দরবার বা কোন তদবির নেই। নুজহাত চৌধুরী কোন মন্ত্রী বা এমপিও নন। এ ধরনের দায়িত্ব গ্রহণে কখনও কোন আগ্রহ তার আছে বলে জানা যায় না। চিকিৎসা করেন, স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কথা বলেন। আর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার নানা বিষয় নিয়ে আলাপচারিতাও ভালই জমে।

এই তিনজন ছাড়াও আরও কিছু মানুষ আছে প্রধানমন্ত্রী যাদেরকে ডেকে নেন। তাদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে সজীব হয়ে ওঠেন। যাদেরকে প্রশ্রয় দিলেও তারা তাকে ব্যবহার করবে না, তাকে ব্যবহার করে কোন কিছু হাসিল করতে চাইবে না বা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুযোগে কোন অবৈধ সুযোগ সুবিধা নেবে না, এরকম কিছু মানুষকে ঘিরেই প্রধানমন্ত্রীর কাছের মানুষের বলয়। যে বলয়ে কোন কাজ নেই। যারা প্রধানমন্ত্রীর জীবনে টনিক হিসেবে কাজ করেন।    

 

বাংলা ইনসাইডার