ঢাকা, সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ৭ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শেখ হাসিনার উপর যতো হামলা ও বিচারের অগ্রগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ মে ২০১৯ শুক্রবার, ০২:০০ পিএম
শেখ হাসিনার উপর যতো হামলা ও বিচারের অগ্রগতি

১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা, আর এরপর থেকে তাকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৯ বার হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি পর্যায়ে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়েছে আরও অন্তত পাঁচ দফা। শেখ হাসিনার ওপর এসব হামলার ঘটনায় অন্তত ৬৬ জন দলীয় নেতা-কর্মী নিহত হওয়ার হিসাব আছে। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার। তার মতো বিশ্বের খুব কম নেতারই এত হত্যাচেষ্টা মোকাবিলা করে দেশ পরিচালনা করতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু দেশ পরিচালনা নয়, বাংলাদেশের অতীতের কালিমাগুলোও মুছে দিয়েছেন। আর এ কারণেই পদে পদে তার শত্রুর মোকাবিলা করতে হয়েছে। কোটি মানুষের ভালোবাসায় তিনি আজও সেবা করতে পারছেন দেশ ও জনগনের।

হামলার সময়কাল:

হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রপতি থাকাকালে দুটি। ১৯৯১ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের আমলে চারটি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে চারটি। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত সরকার আমলে চারটি, সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে একটি ও আওয়ামী লীগের বর্তমান আমলে চারটি হত্যাচেষ্টার কথা জানা যায়। সরাসরি শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করেই ১৪ টি হামলার ঘটনা ঘটে।

কোথায় হামলা হয়?

শুধু ঢাকাতেই শেখ হাসিনার সাতবার সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর সচিবালয়ের সামনে তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। তখন মারা যান যুবলীগ কর্মী নূর হোসেন। ’৮৯ সালের ১১ আগস্ট ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে হামলা করে ফ্রিডম পার্টি। হত্যার উদ্দেশ্যে ৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচন চলাকালে রাজধানীর গ্রিন রোডে ও ৯৫ সালের ৭ ডিসেম্বর ধানমন্ডির রাসেল স্কোয়ারে জনসমাবেশে গুলিবর্ষণ করা হয়। এরপর ৯৬ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বক্তৃতা দেওয়ার সময় মাইক্রোবাস থেকে সভামঞ্চ লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করা হয়। ২০১৫ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভায় যাওয়ার পথে কারওয়ান বাজারে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় জেএমবি। আর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালানো হয় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে। সেখানে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও মারা যান আওয়ামী লীগের ২৪ নেতা-কর্মী। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি, ঈশ্বরদীতে ৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ও গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় হামলা হয় ২০০০ সালের ২০ জুলাই। কোটালীপাড়ার মামলাটির ইতিমধ্যেই বিচারকার্য সম্পন্ন হয়েছে। খুলনায় ২০০১ সালের ২৯ মে, একই বছর ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটে, ২০০২ সালের ৪ মার্চ নওগাঁয়, ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ও ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল বরিশালে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সশস্ত্র হামলা করে হুজি, জেএমবি, জামায়াত ও বিএনপি। সবশেষ হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেয়।

বিচারের অগ্রগতি:

১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি এরশাদ সরকারের আমলে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আটদলীয় জোটের জনসভা ছিল। সেই জনসভায় যাওয়ার পথে শেখ হাসিনার ট্রাকমিছিলে সশস্ত্র হামলা হয়। চট্টগ্রাম আদালত ভবনের পাশে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে নিহত হন ৩০ জন। শেখ হাসিনাকে মানববর্ম তৈরি করে রক্ষা করতে গিয়ে নয়জন নেতা-কর্মী নিহত হন। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনার কোনো বিচার হয়নি। সাক্ষীর অভাবে থমকে আছে বিচারকাজ।
দীর্ঘ ১৮ বছরেও বিচারকাজ শেষ হয়নি ২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটে হত্যাচেষ্টার। এ মামলার অন্যতম আসামি জঙ্গিনেতা মুফতি হান্নানকে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। তবে এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর শাকিল ও ওবায়েদ জামিন নিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানা যায়।

১৯৮৯ সালের ১০ আগস্ট মধ্যরাতে ফ্রিডম পার্টির অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী কাজল ও কবিরের নেতৃত্বে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাসভবনে গুলি ও গ্রেনেড ছোড়া হয়। শেখ হাসিনা তখন ওই বাসাতেই থাকতেন। এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে ২০১৭ সালের দিকে। ২৮ বছরের আগের ঘটনায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ১১ জনকে ২০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

১৯৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চতুর্থ জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনের সময় ধানমন্ডির গ্রিন রোডে ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। তার গাড়িতে গুলি লাগলেও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি। এ ঘটনায় করা মামলার মীমাংসা হয়নি এখনো। ৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ট্রেন মার্চ করার সময় পাবনার ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনের বগি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। অসংখ্য গুলি লাগে তার বগিতে। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে অক্ষত থাকেন শেখ হাসিনা। বিএনপির একাধিক নেতা ওই মামলার আসামী। আসামীরা সবাই জামিনে আছেন।

২০০০ সালের ২২ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার শেখ লুত্ফর রহমান সরকারি আদর্শ কলেজ মাঠে সমাবেশ করার কথা ছিলো প্রধানমন্ত্রীর। সে সময় প্যান্ডেল তৈরীর করতে গিয়ে সন্ত্রাসীরা প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করার জন্য দুটি শক্তিশালী বোমা পুঁতে রাখে। যদিও সমাবেশের দুদিন আগে ৭৬ কেজি ও একই সালের ২৩ জুলাই হেলিপ্যাডের কাছ থেকে ৪০ কেজি ওজনের দুটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করে। ইতিমধ্যেই এ মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে।

২০০১ সালের ৩০ মে খুলনার রূপসা সেতুর কাজ উদ্বোধন করতে যাওয়ার কথা ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ঘাতক চক্র সেখানেও শক্তিশালী বোমা পুঁতে রাখে। অবশ্য বিস্ফোরণের আগেই তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ২০০২ সালের ৪ মার্চ নওগাঁয় বিএমসি সরকারি মহিলা কলেজের সামনে তৎকালীন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা হয়। একই বছর ৩০ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা সাতক্ষীরার কলারোয়ায় গেলে সেখানেও গাড়িবহরের ওপর গুলি ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। কিন্তু সে সময় বিএনপি- জোটের কারণে মামলাটি বারবার পেছোয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলেই ২০০২ সালের ২ এপ্রিল বরিশালের গৌরনদীতে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডে ওই হামলা, গাড়ি ভাঙচুর, লুটতরাজের ঘটনায় প্রকৃত হামলাকারীদের পরিবর্তে উল্টো আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের আসামি করে মামলা করে পুলিশ। যার বিচার আজও হয়নি।

বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ