ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

দানবীর রণদাসহ ৭ জনকে হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ১২:৩৫ পিএম
দানবীর রণদাসহ ৭ জনকে হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ

দানবীর রণদা প্রসাদসহ ৭ জনকে হত্যা মামলায় টাঙ্গাইলের রাজাকার মাহবুবুর রহমানের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা এবং তার ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহাসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এ রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ২৩৫ পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শুরু করেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম।

দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা হত্যা মামলার আসামি টাঙ্গাইলের মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ ও গণহত্যাসহ যে তিনটি অভিযোগ আনা হয়। সেই তিনটি অভিযোগেই তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি ৭০ বছর বয়সী মাহবুবুর রহমান ১৯৭১ সালে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের শান্তি কমিটির সভাপতি বৈরাটিয়া পাড়ার আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে। অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমান ও তার ভাই আব্দুল মান্নান সে সময় রাজাকার বাহিনীতে ছিলেন।

১৯৭১ সালের ৭ই মে মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় অভিযুক্ত আসামি টাঙ্গাইলের মাহবুবুর রহমান পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে রণদা প্রসাদ সাহার বাসায় অভিযান চালায়। অভিযানে রণদা প্রসাদ সাহা, তাঁর ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহা, রণদা প্রসাদের ঘনিষ্ঠ সহচর গৌর গোপাল সাহা, রাখাল মতলব ও রণদা প্রসাদ সাহার দারোয়ানসহ সাতজনকে অপহরণ করে নিয়ে যান। পরে সবাইকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। তাদের মরদেহ আর পাওয়া যায়নি। এ মামলায় অভিযুক্ত টাঙ্গাইলের মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ ও গণহত্যার তিনটি অভিযোগ আনা হয়।

উপ মহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, নারী শিক্ষা ও নারী জাগরণের অগ্রপথিক দানবীর রনদা প্রসাদ সাহার জন্ম টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। আজীবন আর্ত মানবতার সেবায় কাজ করেছেন তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধে রয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা।

বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ